রামাল্লায় সবচেয়ে বড় অভিযান চালাল ইসরায়েল
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে ১৬ বছর বয়সী একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, কয়েক ডজন সামরিক গাড়িতে চড়ে শহরে আসে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর হলো রামাল্লা। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমরি শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালানোর সময় ইসরায়েলি বাহিনী ১৬ বছর বয়সী মুস্তাফা আবু শালবাককে গুলি করে হত্যা করেছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী ক্যাম্পে হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় মুস্তাফার ঘাড় ও বুকে গুলি করে ইসরায়েলি সেনারা। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ক্যাম্পে ছয় ঘণ্টাব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন তারা। এ সময় দুজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার এবং অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তারা। এ ছাড়া হামাসের ফেলে যাওয়া উসকানিমূলক সরঞ্জাম জব্দ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরে রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ৫৫ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। এই সংগঠনের তুলকারম শাখার প্রধান ইব্রাহিম হামারশেহ বলেছেন, যতবারই তারা (ইসরায়েলি বাহিনী) ক্যাম্পে প্রবেশ করে আগেরবারের চেয়ে বেশি ধ্বংস করে। গাজা যুদ্ধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বাড়ছে। গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
১১ ঘণ্টা আগে

বলছে যুক্তরাষ্ট্র / ২৫ হাজারের বেশি নারী-শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েল ২৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। যদিও ইসরায়েলি বর্বর হামলায় ভূখণ্ডটিতে নিহতের মোট সংখ্যা এরই মধ্যে ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অবশ্য গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা এখনো চলছে এবং এতে করে ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর আলজাজিরার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল ২৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে হত্যা করেছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বৃহস্পতিবার জানান। এদিন মার্কিন হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানির সময় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের হত্যার পরিসংখ্যান জানতে চাওয়া হয় লয়েড অস্টিনের কাছে। জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এটি ২৫ হাজারেরও বেশি।’ উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
০২ মার্চ, ২০২৪

আইসিজের আগের সিদ্ধান্ত মানেনি ইসরায়েল
এর আগে ২০০৪ সালের জুলাইয়ে সাধারণ পরিষদের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলি দখলদারির বিষয়ে শুনানি নেয় আইসিজে। তখন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এ আদালত বলেছিলেন, দখল করা পশ্চিম তীরে ইসরায়েল যে দেয়াল নির্মাণ করেছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে আদালত সেই দেয়াল ভেঙে ফেলতে বলেছিলেন। কিন্তু দুই দশক পেরিয়ে গেলেও সেই দেয়াল ভাঙেনি ইসরায়েল। **বাংলাদেশ শুনানিতে নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ইসরায়েল আত্মরক্ষার নাম করে গাজায় যা করছে, তা অযৌক্তিক। এমন অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। **দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি ম্যাডোনেসলা বলেন, ১৯৯৪ সালের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষ যেভাবে বর্ণ ও জাতিবিদ্বেষের শিকার হয়েছে, তার চেয়েও চরম মাত্রায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। **সৌদি আরব সৌদি আরবের প্রতিনিধি জিয়াদ আল-আতিয়াহ বলেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। এজন্য ইসরায়েলকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। **চীন বিদেশি নিপীড়ন প্রতিরোধে শক্তি প্রয়োগ এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ফিলিস্তিনি জনগণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের ন্যায়সংগত চাওয়ার প্রতি অব্যাহতভাবে সমর্থন জানাবে চীন। **রাশিয়া রাশিয়ার প্রতিনিধি ভ্লাদিমির তারাব্রিন বলেন, ইসরায়েলের দখলদারি যে বেআইনি সে বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও একমত হয়েছে। অব্যাহত ইসরায়েলি এ দখলদারি ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের পথে বাধা। **ফ্রান্স ফ্রান্সের প্রতিনিধি দিয়েগো কোলা বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন দেশ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার একমাত্র সমাধান পৃথক রাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে দুপক্ষের মধ্যে আবারও শান্তি আলোচনা প্রয়োজন। **জাপান জাপানের প্রতিনিধি তোমোহিরো মিকানাগি বলেন, তার দেশ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে বিশ্বাস করে, যেখানে ইসরায়েল এবং ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে পাশাপাশি থাকবে। **আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধি রোসা ফ্যানিং বলেন, আত্মরক্ষায় বল প্রয়োগ যে প্রয়োজন এবং মাত্রার চেয়ে বেশি হবে না তা ঠিক করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক আইন। কিন্তু হামাসের হামলার জবাব দিতে গিয়ে ইসরায়েল সীমা ছাড়িয়েছে।
২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

রমজানে গাজায় হামলা বন্ধে রাজি ইসরায়েল : বাইডেন
পবিত্র রমজান মাসে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা বন্ধ রাখতে ইসরায়েল রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি। খবর রয়টার্সের। সোমবার বাইডেনের সাক্ষাৎকার রেকর্ড করা হয়। তবে তা মঙ্গলবার সম্প্রচার করে এনবিসি। বাইডেন বলেন, ‘রমজান আসছে। এই রমজান মাসে গাজায় কোনো ধরনের সামরিক অভিযান না চালানোর বিষয়ে রাজি হয়েছে ইসরায়েলি পক্ষ। (হামাসের হাতে) বন্দি জিম্মিদের মুক্তি করাতে আমাদের সময় দিতেই রাজি হয়েছে ইসরায়েল।’ চলতি বছর আগামী ১০ বা ১১ মার্চ রমজান মাস শুরু হবে। শেষ হবে আগামী ৯ বা ১০ এপ্রিল। এই এক মাস রোজা রাখবেন বিশ্বের সব মুসলিম। এর আগে এক এক্সবার্তায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, আমরা আমাদের জিম্মিদের মুক্তির জন্য আরেকটি রূপরেখা পেতে কাজ করছি। তাই আমি প্যারিসে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছি। আজ রাতে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করব। নেতানিয়াহুর এমন বার্তার পর জানা যায় চলতি সপ্তাহে অধিকতর আলোচনার জন্য আরেকটি প্রতিনিধিদল কাতারে পাঠাবে ইসরায়েল। অন্যদিকে রোববার হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, বন্দি মুক্তি ও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ‘মূল রূপরেখা’ সম্পর্কে একটি বোঝাপড়া হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১২০০ ইসরায়েলিকে হত্যার পাশাপাশি প্রায় ২৫০ ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে গাজায় বন্দি করে নিয়ে আসে হামাস। একই দিন হামাসকে নির্মূল এবং বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। গত নভেম্বরে সাত দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিনিময়ে ১১০ ইসরায়েলি বন্দিকে হামাস মুক্তি দিলেও এখনো তাদের হাতে ১৩০ জনের মতো বন্দি আছেন। এমন পরিস্থিতিতে হামাসের হাতে বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্তি এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরে দেশ-বিদেশ থেকে চাপে আছেন নেতানিয়াহু। প্রায় প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধ বন্ধ এবং বন্দিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

এবার ইয়াসির আরাফাতের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের সংস্থা পিএলওর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ইয়াসির আরাফাতের গাজা উপত্যকার বাড়িটি ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। ফিলিস্তিনের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ওই বাড়ি ধ্বংসের খবর নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের সংস্কৃতিমন্ত্রী আতিফ আবু সাঈফ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসন ও ধ্বংসযজ্ঞের অংশ হিসেবে দখলদার সেনারা প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশন বা পিএলওর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ইয়াসির আরাফাতের বাড়ি ধ্বংস করেছে। ফিলিস্তিনি জনগণের মর্যাদা এবং সংগ্রামের প্রতীক মুছে ফেলার লক্ষ্যেই বাড়িটি ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িটিতে আরাফাত ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বসবাস করেছেন। সেখানে আরাফাতের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক জিনিসপত্র রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সূচনাকালে গাজায় তার উপস্থিতির সময় এই বাড়ি ফিলিস্তিনি জনগণের ইতিহাসে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে আছে। আবু সাঈফ জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলি সেনাদের এই ধ্বংসযজ্ঞ বর্বরতার নতুন প্রমাণ। ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রামের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাতের জন্ম ১৯২৯ সালে মিসরের কায়রোতে। কায়রোর ইউনিভার্সিটি অব কিং ফুয়াদ ওয়ানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন ১৯৪৪ সালে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করলে তিনি অন্য ছাত্রদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেন। আজীবন একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্ন লালন করে যাওয়া ইয়াসির আরাফাত সংগ্রাম করেছেন অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে। নির্বাসিত জীবনের গ্লানি সহ্য করেছেন, এক দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন অন্য দেশে। কখনো সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে, আবার কখনো আলোচনার টেবিলে বসে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছেন বারবার। জীবনের শেষ দিনগুলোতে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাকে গৃহবন্দি করে রাখে। গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

রমজানে আল আকসায় মুসল্লিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ দিচ্ছে ইসরায়েল
পবিত্র রমজান মাসে আল আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু্। ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের নিষেধ সত্ত্বেও উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গ্যভির এই সুপারিশ অনুমোদন করেছেন তিনি। বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এসব তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু। সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে তৃতীয় পবিত্র স্থান আল আকসা মসজিদ। আর ইহুদিদের কাছেও এটি পবিত্র স্থান। তাদের কাছে এটি ‘টেম্পল মাউন্ট’ হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, আসন্ন রমজান মাসে আল আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশের ওপর বিধিনিধেষ আরোপ করা হলে তা ইসরায়েলের ভেতরে বসবাসরত ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি পুলিশের মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে শিন বেত। গোয়েন্দা সংস্থাটির সতর্কতা সত্ত্বেও বেন গ্যভির সুপারিশে সম্মত হয়েছেন নেতানিয়াহু। এ বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের ভেতরে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেবে নেতানিয়াহু প্রশাসন। রমজান মুসলমানদের একটি পবিত্র মাস। এই বছর ১০ মার্চ থেকে এই মাস শুরু হবে। এই মাসে মুসলমানরা পবিত্র রোজা রাখেন। অবশ্য গত অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলি পুলিশ ফিলিস্তিনি মুসলমানদের আল আকসা মসজিদে, বিশেষ করে শুক্রবারে প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছে। ইসরায়েলের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও প্রতি শুক্রবারে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি সেখানে নামাজ আদায় করেন। এমনকি গত শুক্রবারও প্রায় ২৫ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি আল আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন।
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

রাফায় স্থল অভিযানের সময়সীমা বেঁধে দিল ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে নির্মূলের নামে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার একের পর এক শহরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গাজার প্রায় শহর-নগরকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে এখন রাফা শহরে স্থল অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। আসন্ন এই হামলা বন্ধের দাবি বিশ্বজুড়ে জোরালো হলেও সব চাপ উপেক্ষা করে এবার রাফায় স্থল অভিযানের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তেলআবিব। খবর বিবিসির। রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গ্যান্টজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি হামাস ১০ মার্চের মধ্যে গাজায় বন্দি সব ইসরায়েলিকে মুক্তি না দেয় তবে রাফা শহরে আক্রমণ চালানো হবে। এর মাধ্যমে রাফায় কখন ইসরায়েলি সেনারা প্রবেশ করতে পারে তা প্রথমবারের মতো জানালো দেশটি। গাজার সর্বদক্ষিণের শহর হলো রাফা। এটি মিসরের সীমান্তবর্তী একটি শহর। ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচতে দক্ষিণে সরতে সরতে সর্বশেষ এখানে গাজার ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে অর্ধেকের বেশি আশ্রয়গ্রহণ করেছেন। প্রচণ্ড ঠান্ডায় মূলত তাঁবু ও সরকারি ভবনে তারা বসবাস করছেন। রাফায় এখনো স্থল অভিযানে না নামলেও প্রতিদিন বোমা হামলা জোরদার করে চলেছে ইসরায়েল। এরই মধ্যে ইসরায়েলি হামলা ও অবরোধের কারণে দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতাল অচল হয়ে গেছে। সেখানে রোগী থাকলেও তাদের চিকিৎসা দেওয়ার মতো কোনো চিকিৎসক নেই। এসব কারণে রাফা শহরে আশ্রয় নেওয়া মানুষের মধ্যে স্থল অভিযান ঘিরে প্রতিদিনই শঙ্কা বাড়ছে। তা সত্ত্বেও লাখ লাখ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়ে আছেন। কেননা তাদের আর সরে যাওয়ার মতো জায়গা নেই। ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গ্যান্টজ বলেন, বিশ্ব ও হামাস নেতাদের অবশ্যই জানতে হবে যদি রমজানের মধ্যে আমাদের জিম্মিরা বাড়িতে না ফিরে তাহলে রাফাসহ সর্বত্র আমাদের লড়াই চলবে। রমজান মুসলমানদের একটি পবিত্র মাস। এই বছর ১০ মার্চ থেকে এই মাস শুরু হবে। এই মাসে মুসলমানরা পবিত্র রোজা রাখেন। গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১২০০ ইসরায়েলিকে হত্যার পাশাপাশি প্রায় ২৫০ ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে গাজায় বন্দি করে নিয়ে আসে হামাস। একই দিন হামাসকে নির্মূল এবং বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। গত নভেম্বরে সাতদিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিনিময়ে ১১০ ইসরায়েলি বন্দিকে হামাস মুক্তি দিলেও এখনো তাদের হাতে শতাধিক বন্দি আছেন। অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৮ হাজার ৯৮৫ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত আহত হয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৩ জন।
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় দুঃসংবাদ পেল ইসরায়েল
যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় দুঃসংবাদ পেল ইসরায়েল। দেশটির জন্য বিপুল অর্থসহায়তার একটি প্রস্তাব বাতিল করেছে মার্কিন পার্লামেন্ট। মঙ্গলবার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) এ প্রস্তাব বাতিল করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার নিম্নকক্ষে রিপাবলিকান পার্টি ইসরায়েলকে ১৭ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার প্রস্তাব উত্থাপন করে। এরপর প্রতিনিধি পরিষদের ২৫০ সদস্য এটির বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে এটির পক্ষে ভোট দেন ১৮০ জন সদস্য।  ভোটাভুটির পর স্পিকার মাইক জনসন বলেন, এই বিল আনার জন্য এখন সঠিক সময় নয়। ডেমোক্র্যাট পার্টির অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা ও এমপি রোজা ডিলাউরো এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এখন ইসরায়েলকে সহায়তা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্রদের কাছে বিষয়টি নেতিবাচক হবে বলেও মনে করেন তিনি।  তিনি বলেন, এটি ঠিক যে, আমদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের অন্য মিত্র ও শত্রুরা আমাদের পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।  অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টির এমপি কেন ক্যালভার্ট বলেন, ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের মধ্যে অন্যতম নিকটতম। তাদের প্রয়োজনের সময় আমাদের পাশে থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মানুসারে প্রেসিডেন্ট কোনো দেশকে অর্থ বা সামরিক সহায়তা দিতে চাইলে সেটির প্রস্তাবনা কংগ্রেসে লিখিত আকারে পাঠাতে হয়। এরপর আইনপ্রণেতারা বিষয়টি পর্যালোচনা করে সম্মতি বা আপত্তি জানান। তাদের আপত্তি থাকলে কংগ্রেসে ওই প্রস্তাবনা বাতিল হয়ে যায়। উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। দেশটির সেনাদের এ হামলায় ২৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাসের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের এক হাজার ২০০ লোক নিহত হয়েছেন।  যুদ্ধের শুরু থেকে একের পর এক ইসরায়েলকে অর্থ ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, ইউক্রেনের জন্য প্রস্তুত রাখা অনেক অস্ত্রও জরুরিভাবে ইসরায়েলকে সহায়তা হিসেবে দিয়েছে দেশটি।  এর আগে গত ডিসেম্বরের শেষদিকে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলকে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের সমরাস্ত্র বরাদ্দ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ওই সময়ে মার্কিন কংগ্রেসের অধিবেশন শেষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন এ তথ্য জানান।  এরও আগে গত ৯ ডিসেম্বর ইসরায়েলের ট্যাংকে ব্যবহারের জন্য জরুরি সহায়তা দিয়েছিলেন জো বাইডেন। ওই সময়ে দেশটিকে ১০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ১৪ হাজার গোলা সহায়তা দেওয়া হয়।  
০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বাইডেনের ইসরায়েল সমর্থনের নেপথ্যে কৌশলগত স্বার্থ ও তদবির
অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি বোমা হামলায় ইতোমধ্যে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। মানবতার এমন সংকটালগ্নে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এ অবস্থায় ইসরায়েলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ না করে দেশটির একান্ত মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজা অধিবাসীদের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না ফিলিস্তিনিরা মৃত্যুর সংখ্যার ব্যাপারে সত্য কথা বলছে। তার এ সমর্থনের নেপথ্যে নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।  গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বেসামরিক জনগণের হতাহতের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা যুদ্ধ ঘোষণার মূল্য’।  গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে একটা শক্ত বন্ধন তৈরি হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলকে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা করেছে। তবে এমন গুরুতর মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেও গাজা যুদ্ধের সময়ে জো বাইডেনের সরকার ইসরায়েলকে অস্ত্র সহায়তা বাড়িয়ে দেওয়ায় মার্কিন বৈদেশিক নীতি চরম রোষাণলে পড়েছে। গত চার মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে ২৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ায় জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার জনগণ এ হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন, বিক্ষোভ করেছেন মার্কিন দূতাবাসগুলোর সামনে। সম্প্রতি সিরিয়া এবং ইরাকে মার্কিন সেনারা আক্রমণের মুখে পড়েছে। এ ছাড়াও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা গাজাবাসীদের সমর্থনে লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরীতেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।  এমন সব পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বর্তমান অবস্থান কী ইঙ্গিত করে? তার বর্তমান কার্যক্রম এবং ইসরায়েলের প্রতি অবিচলিত সমর্থনের বিষয়ে আলজাজিরা বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার কর্মী এবং মার্কিন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। ডেমোক্রেসি ফর আরব ওয়ার্ল্ড নাউ-এর অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর রায়েদ জারার বলেন, ইসরায়েল কেন মার্কিন বৈদেশিক নীতির ব্যতিক্রম সুযোগ নিচ্ছে। এ প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে দেওয়া সম্ভব না।  তিনি বলেন, ইসরাইল মূলত এমন একটা পারিপার্শিক অবস্থা তৈরি করেছে যেখানে গাজায় রক্তপাতের মাঝেও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ সহজেই পাশ কাটিয়ে চলতে পারছে।  গত ২৭ জানুয়ারি উত্তরপূর্ব জর্দানে তিন মার্কিন সেনাসদস্য ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ায় এ অঞ্চলে বিস্তর ভীতি সঞ্চার হয়েছে। এ ঘটনায় বাইডেন ‘ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী’-কে দোষারোপ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তার প্রশাসন এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে যথাসময়ে যথাযথভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনবে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর শিবলে তেলহানি বলেন, গাজায় ঘটমান বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি সরকারকে যাচ্ছেতাই করার সুযোগ দিয়ে এত বড় পরিসরে একটা সংঘাতে জড়িয়েছে যে বিষয়টা আর মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই।
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ইসরায়েল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ফিলিস্তিনে অব্যাহত হামলায় গাজায় বেসমারিক লোক নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দেশটির সেনাদের হামলায় এ সংখ্যা বাড়তে থাকায় তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি এবার ইচ্ছাকৃতভাবে ইসরায়েলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম এবিসি প্রতিরক্ষা খাতের এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানেজের সরকার গাজায় বেসামরিক হত্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা এজন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ইসরায়েলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করা কমিয়ে দিয়েছে।  সূত্রটি জানিয়েছে, ইসরায়েল অস্ট্রেলিয়ার তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গত মাসের মধ্যে সামরিক বিভাগ তাদের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সাড়া দিতে পারেনি। দেশটি থেকে ইসরায়েল হামলার জবাবে পাল্টা হামলার প্রযুক্তি সম্পন্ন ড্রোন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  সূত্রটি আরও জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী হামলা অব্যাহত রাখায় দেশটি সঙ্গে কোনোকিছু করার ব্যাপারে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের কোনো ব্যক্তি ইসরায়েলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির কোনো চুক্তি অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি দেখতে চাচ্ছে না।  এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি আলজাজিরা জানায়, যুদ্ধের এমনপর্যায়ে এসে ইসরায়েল নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার বড়াতে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এইল জামির ওয়াশিংটন সফর করেছেন। ওই সফরে তিনি দেশটির কাছে গাজায় হামলার জন্য উচ্চস্তরের নতুন স্কোয়াড্রন বিমান, মার্কিন যুদ্ধবিমান, আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টারসহ বিস্ফোরক চেয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেলআবিব নতুন করে ২৫টি এফ৩৫আই যুদ্ধবিমানের বহর, ২৫টি এফ-১৫আইএ যুদ্ধবিমান এবং ১২টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের বহর যোগ করতে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, এসব সামরিক চালান পেতে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইসরায়েল এখন এসব দ্রুত হাতে পেতে তড়িঘড়ি করছে। যদিও টাইমস অব ইসরায়েল সংবাদমাধ্যমটির এ দাবি যাচাই করতে পারিনি। উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। দেশটির এ হামলায় ফিলিস্তিনের প্রায় ২৭ হাজার লোক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হামাসের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের এক হাজার ২০০ লোক নিহত হয়েছেন।   
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
X