গাজা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা করে সেখানে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বন্ধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তুরস্কের পর্যটননগরী আনতালিয়ায় স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় তুরস্কের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেখানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গাজায় যা হচ্ছে, সেটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। শুধু মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ নয়, সেখানে জাতিগত নিধন চলছে। সেখানকার মৃত্যুসংখ্যা বর্তমানে ৩০ হাজারের বেশি এবং এর বেশিরভাগ নারী ও শিশু। যুদ্ধের সব ধরনের প্রথা ভঙ্গ করছে ইসরায়েল। আমরা এখন পর্যন্ত যুদ্ধ, গণহত্যা থামানোর জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না। তুরস্কে আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে অংশ নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুদ্ধ থামাতে এই ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান এবং ৭০ জনের বেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এখানে অংশগ্রহণ করছেন। আমি মনে করি, আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে গাজায় সহিংসতা, গণহত্যা, জাতিগত নিধন বন্ধে ইসরায়েলকে ঠেকানোর জন্য একসঙ্গে কাজ করতে পারি। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: আনতালিয়া কূটনৈতিক ফোরামের তৃতীয় দিনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ সময় দুই দেশের মধ্যে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের প্রস্তাব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যেখানে বাংলাদেশি কৃষক ও বিশেষজ্ঞরা তুরস্কে মৌসুমি চাষ করবেন এবং ফলনের পর বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। তুরস্কের পর্যটন নগরী আনতালিয়ায় স্থানীয় সময় রোববার সকালে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে আনতালিয়া ফোরামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি হাকান ফিদানকে হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তুরস্কের স্বাধীনতার শতবর্ষ এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষে হাকান ফিদানকে অভিনন্দন জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তুরস্কের জাতির পিতা কামাল আতাতুর্কের সংগ্রাম থেকে শক্তিশালী অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন এবং দুই ভ্রাতৃপ্রতিম জাতির বন্ধুত্বের উষ্ণ বন্ধন প্রতিনিয়ত দৃঢ় হচ্ছে। এ সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
০৪ মার্চ, ২০২৪

ইসরায়েলে অস্ত্র বেচা বন্ধ করতে ২০০ এমপির চিঠি
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ায় ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের ১৩টি দেশের দুই শতাধিক সংসদ সদস্য (এমপি)। শনিবার (২ মার্চ) ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি করে এমন ১৩ দেশের এসব এমপি তাদের সরকারকে এক চিঠি দিয়ে এই আহ্বান জানান। খবর আলজাজিরার। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন এমন এমপির মধ্যে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন, অস্ট্রেলিয়ান সিনেটের গ্রিন পার্টির নেতা লরিসা ওয়াটার্স, ফ্রান্স আনবোডের সমন্বয়ক ম্যানুয়েল বোম্পার্ড, বেলজিয়ামের ওয়ার্কার্স পার্টির জাতীয় সম্পাদক পিটার মের্টেন্স, কানাডিয়ান এমপি ও প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য নিকি অ্যাশটন, ব্রাজিলের ফেডারেল ডেপুটি নিলটো ট্যাটো, ডাই লিঙ্কের সাবেক নেতা বার্ন্ড রিক্সিংগার, স্প্যানিশ পার্টি পোডেমোসের নেতা ইওন বেলারা, ডাচ সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা জিমি ডাইক, আইরিশ এমপি থমাস প্রিংগেল এবং তুরস্কের পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক সহসভাপতি সেজাই টেমেলি রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একমাত্র আইনপ্রণেতা হিসেবে এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ডেমোক্রেটিক নেত্রী রাশিদা তালিব। চিঠিতে বলা হয়েছে, আমরা জানি আমাদের দেশের তৈরি বা আমাদের দেশের মাধ্যমে পাঠানো প্রাণঘাতী অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ বর্তমানে ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলি হামলায় সহায়তা করছে, যা গাজা ও পশ্চিম তীরে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এতে আরও বলা হয়, আমরা আর অপেক্ষা করতে পারি না। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন রায়ের পরে দেশটির ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ নৈতিক দায়িত্ববোধের চেয়ে আইনি প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।
০৩ মার্চ, ২০২৪

গাজায় বিমান থেকে খাবার ফেলল যুক্তরাষ্ট্র
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রথমবারের মতো সামরিক বিমানে করে খাবার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২ মার্চ) তিনটি সামরিক বিমানে করে গাজার উপকূলীয় এলাকায় ৩৮ হাজার খাবার সরবরাহ করেছে দেশটি। খবর আলজাজিরার। গত শুক্রবার (১ মার্চ) বিমানে করে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের খাবার সরবরাহের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ত্রাণসহায়তা নিতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পরই তিনি এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন। এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবার তিনটি সি-১৩০ বিমান থেকে ৩৮ হাজারের বেশি খাবার গাজার উপকূলীয় এলাকায় ফেলা হয়েছে। স্থল করিডোর ও রুটের মাধ্যমে গাজায় ত্রাণের প্রবাহ বাড়াতে টেকসই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিমানে করে এসব খাবার দেওয়া হয়েছে। জর্ডানের বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে এই খাবার অভিযান পরিচালনা করেছে মার্কিন বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার ভোরে গাজা সিটির কাছে ফিলিস্তিনিরা একটি ত্রাণবাহী গাড়ির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুলি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়। ত্রাণের জন্য অপেক্ষারত মানুষকে গুলি করে হত্যা করে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ইসরায়েল। এই ঘটনার পরপর গাজায় ত্রাণসহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন বাইডেন। এর আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, মিসর, জর্ডানসহ অন্যান্য দেশ গাজায় বিমান থেকে ত্রাণসহায়তা ফেলেছে। তবে এবারই প্রথমবারের মতো এই পথে হাঁটল ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছন, গত বৃহস্পতিবারের বেদনাদায়ক ঘটনা গাজায় ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণসহায়তা সম্প্রসারণ ও টেকসই করার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। তবে দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, বিমানে করে ত্রাণসহায়তা ফলপ্রসূ কোনো উপায় নয়। বাস্তুচ্যুত গাজার বাসিন্দা মেধাত তাহের বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, এই ধরনের পদ্ধতি খুবই নগণ্য। এটি কি একটি স্কুলের জন্য যথেষ্ট হবে? এটি কি ১০ হাজার মানুসের জন্য যথেষ্ট? এর চেয়ে স্থল সীমান্ত ক্রসিংয়ের মাধ্যমে সাহায্য পাঠানো ভালো। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ত্রাণসহায়তা প্রবেশে পরিকল্পিতভাবে বাধা দিয়ে আসছে ইসরায়েল। এই কারণে সেখানে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ, গাজার মোট জনসংখ্যার অন্তত এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ প্রায় ছয় লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষ থেকে এক ধাপ দূরে রয়েছেন।
০৩ মার্চ, ২০২৪

রমজানে যুদ্ধবিরতি না হলে কী হবে গাজাবাসীর?
অনেক দিন ধরেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তাদের এই আলোচনার মধ্যেই আগামীকাল সোমবারের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে এখন বাইডেন বলছেন, সোমবারের মধ্যে এই চুক্তি হবে না। খবর সিএনএনের। সংযমের মাস রমজানে গাজায় যুদ্ধবিরতি না হলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হবে। এমনিতেই এরই মধ্যে বসতির জনপদে পরিণত হয়েছে উপত্যকাটি। এছাড়া ইসরায়েলের হামলার কারণে বেশ কয়েকজন জিম্মি নিহত হয়েছেন। ফলে ক্রমশ জটিল হচ্ছে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি। এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এমন মন্তব্য করেছেন।  বাইডেনের এমন বক্তব্যের পর রমজানে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির এক অনুষ্ঠানে বাইডেন বলেন, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় গতি এসেছে। সোমবারের মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে। গত সপ্তাহে এমন মন্তব্য করলেও এবার হতাশ করেছেন তিনি।  সোমবারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হবে কি না, জানতে চাইলে বাইডেন বলেন, এখন তার কাছে এটি অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো ওই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, আমরা সেখানে পৌঁছাব কিন্তু এটি এখনো সেই পর্যায়ে যায়নি। এটি এখনই সেখানে না-ও যেতে পারে।’ চলতি বছর আগামী ১০ বা ১১ মার্চ রমজান মাস শুরু হবে। শেষ হবে আগামী ৯ বা ১০ এপ্রিল। এই এক মাস রোজা রাখবেন বিশ্বের সব মুসলিম। রমজানকে সামনে রেখে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাইডেন জানিয়েছিলেন, ‘রমজান আসছে। এই রমজান মাসে গাজায় কোনো ধরনের সামরিক অভিযান না চালানোর বিষয়ে রাজি হয়েছে ইসরায়েলি পক্ষ। (হামাসের হাতে) বন্দি জিম্মিদের মুক্তি করাতে আমাদের সময় দিতেই রাজি হয়েছে ইসরায়েল।’  বর্তমানে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন চুক্তি সম্পাদনে আলোচনা চলছে। এতে মধ্যস্থতা করছে কাতার, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে অধিকতর আলোচনার জন্য কাতার সফর করেছে ইসরায়েলি একটি প্রতিনিধিদল। আলজাজিরা আরবি বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপক্ষের মধ্যে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি হতে পারে। এ সময় হামাসের হাতে বন্দি ৪০ ইসরায়েলির মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে আটক ৪০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ ছাড়া যুদ্ধবিরতির সময়ে গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাকের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গাজার হাসপাতাল ও বেকারি মেরামত করা হবে। প্রতিদিন ৫০০টির মতো ট্রাক ত্রাণসহায়তা নিয়ে গাজায় প্রবেশের অনুমতি পাবে। যা বলছে মিশর  আসন্ন রমজানের আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শৌকরি। আনাতোলিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সম্মেলনে তুরস্কে এক ভাষণে তিনি বলেন, যুদ্ধের সব পক্ষ অর্থাৎ আমরা সবাই এরই মধ্যে সমঝোতার একটি পয়েন্টে পৌঁছাতে পেরেছি। আশা করছি রমজানের আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি হস্তান্তর শুরু হবে।  তিনি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১০ বা ১১ মার্চ যুদ্ধবিরতি শুরু হতে পারে। এ যুদ্ধবিরতিতে গাজায় ৪০ দিনের জন্য অভিযান বন্ধ রাখবে প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এ সময়ে সেখানে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ ত্রাণ ও খাদ্যপণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করবে। এর বিনিময়ে নিজেদের কবজায় থাকা জিম্মিদের মধ্যে থেকে ৪৫ জনকে মুক্তি দেবে উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস। মানবিক সংকট তীব্র গাজায় গাজা যুদ্ধের মধ্যেই সম্প্রতি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ওয়ারদাহ আহমেদ মাতার নামে ফিলিস্তিনের এক নারী। বর্তমানে তার মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে। খাবারের তীব্র সংকটে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না এই মা। অন্য কোনো শিশুখাদ্য দিয়ে সন্তানের ক্ষুধা মেটানোরও কোনো সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে খেজুর ভিজিয়ে সেই পানি খাওয়াচ্ছেন নবজাতককে। ওয়ারদাহ আহমেদ মাতার বলেন, খাওয়ার জন্য আমি শুধু ভাত আর ডাল পাচ্ছি। ফলে, বাচ্চা বুকের দুধ পাচ্ছে না। ওকে কিছু কিনে খাওয়াব সেই সামর্থ্যও নেই। তাই বাধ্য হয়ে খেজুর ভেজানো পানি খাওয়াচ্ছি। অথচ প্রথম সন্তান হওয়ার আগে এক দিন হাসপাতালে বিশ্রামে ছিলাম। কিন্তু এবার বাচ্চা হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে আমাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কারণ, গোটা গাজায় মাত্র দু-একটি হাসপাতাল খোলা ছিল। ডেলিভারি রোগীর ভিড় ছিল অনেক বেশি। অ্যাকশন এইড প্যালেস্টাইন এবং ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর বলছে, গাজায় ১০ হাজার সন্তানসম্ভাবা নারী রয়েছেন। যারা তীব্র ক্ষুধায় ভুগছেন। এর জেরে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেও বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না এসব মায়েরা। উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে—যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজায় প্রায় ২০ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। হাসপাতালগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে শরণার্থী শিবিরের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে। যাদের সিংহভাগই ভুগছে পুষ্টিহীনতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায়। কিন্তু এর থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছেন ওয়ারদার মতো ভুক্তভোগী ফিলিস্তিনিরা। আহমেদ মাতার আরও বলেন, আমরা চাই যুদ্ধ বন্ধ হোক। আরব নেতাদের উদ্দেশে বলতে চাই—আমাদের সন্তানরা শেষ হয়ে যাচ্ছে, বিপদের এই দিনে দয়া করে আমাদের পাশে দাঁড়ান। আশা করছি—শিগগির এই যুদ্ধ শেষ হোক। আমরা ফিরে যাই আমাদের স্বাভাবিক জীবনে। জাহাজে হামলা বন্ধে হুতিদের এক শর্ত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল আগ্রাসন বন্ধ করলে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দেখার কথা জানিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীরা। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে তারা হামলা বন্ধ করবে কি না জানতে চাইলে হুতিদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুল সালাম রয়টার্সকে বলেন, গাজা অবরোধের অবসান এবং সেখানে মানবিক ত্রাণ সহায়তা অবাধে প্রবেশ করতে পারলে তারা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করবেন। তিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও অবরোধ বন্ধ হওয়া ছাড়া ফিলিস্তিনি জনগণকে সাহায্য করে এমন কোনো অভিযান বন্ধ হবে না। মূলত গত অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হলে হামাসের প্রতি সমর্থন জানায় হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের সমর্থনের অংশ হিসেবে নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাহাজে হামলা করে আসছে তারা। এরপর এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জাহাজের নাম যুক্ত করে ইরানপন্থি গোষ্ঠীটি। মার্কিন সেনা সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ নভেম্বর থেকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে ৩০টির বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। তাদের হামলার ভয়ে বেশিরভাগ জাহাজ কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ এই দুই নৌপথ এড়িয়ে গন্তব্যে পাড়ি দিচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে পশ্চিমারা। ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৭ জিম্মি : হামাস  গাজা উপত্যকায় অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েলের সেনারা। দেশটির সেনাদের হামলায় গাজায় আরও সাত জিম্মি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস। দলটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন বিদেশি ও চারজন ইসরায়েলি রয়েছেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে শুক্রবার এক পোস্টে হামাসের সামরিক শাখা আল কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কোন এলাকায় এ জিম্মিরা নিহত হয়েছেন তারা তিনি স্পষ্ট করে জানাননি।  টেলিগ্রামে এক পোস্টে তিনি বলেন, পাঁচ মাস ধরে চলা ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় বেশ কয়েকজন জিম্মি নিহত হয়েছেন। শুক্রবারে এ সংখ্যা দিয়ে নিহত ৭০ জন ছাড়িয়েছে।  গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলিকে হত্যার পাশাপাশি প্রায় ২৫০ ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে গাজায় বন্দি করে নিয়ে আসে হামাস। একই দিন হামাসকে নির্মূল এবং বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। গত নভেম্বরে সাত দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিনিময়ে ১১০ ইসরায়েলি বন্দিকে হামাস মুক্তি দিলেও এখনো তাদের হাতে ১৩০ জনের মতো বন্দি আছেন।  
০২ মার্চ, ২০২৪

গাজায় সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে বিশ্ব গণমাধ্যমের চিঠি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন সাংবাদিকরা। এ জন্য তাদের সুরক্ষা দিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে বিশ্বের একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। খবর রয়টার্সের। গত বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিশ্বের ৫৯টি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ সম্পাদকরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, এএফপি, রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, বিবিসি, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান, ফিনান্সিয়াল টাইমস, ডের স্পিগেল ও হারেৎজের প্রধানরা। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই সাংবাদিকরা মারাক্তক ব্যক্তিগত ঝুঁকি সত্ত্বেও রিপোর্টিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মী বিয়োগ, বাড়িঘর ও অফিস ধ্বংস, ক্রমাগত বাস্তুচ্যুতি, ব্ল্যাকআউট এবং খাদ্য ও জ্বালানির ঘাটতি সত্ত্বেও কাজ করে চলেছেন। সাংবাদিকরা বেসামরিক নাগরিক। আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে তাদের সুরক্ষা দিতে হবে। চিঠিটি প্রকাশ করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস। সংগঠনটি বলছে, গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে অন্তত ৯৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৯ জন ফিলিস্তিনি। সিপিজে বলছে, এই যুদ্ধ সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিক ও বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করার কথা অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল। দেশটির দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী শুধু ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের যোদ্ধাদের নিশানা করছে।
০২ মার্চ, ২০২৪

বিমানে করে গাজায় খাবার দেবে যুক্তরাষ্ট্র
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রথমবারের মতো সামরিক বিমানে করে খাবার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ত্রাণসহায়তা নিতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর শুক্রবার (১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের এমন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। খবর রয়টার্সের। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই সহায়তা দেওয়া শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ঠিক কবে নাগাদ শুরু হবে তা জানাননি বাইডেন। ইতিমধ্যে জর্ডান, ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশ গাজায় বিমানে করে ত্রাণসহায়তা দিয়ে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের আরও বেশি কিছু করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি কিছুই করবে। গাজায় প্রবেশ করা ত্রাণসহায়তা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র গাজায় প্রচুর পরিমাণে ত্রাণসহায়তা দেওয়ার জন্য একটি সামুদ্রিক করিডোর খোলার সম্ভাবনার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেও জানান বাইডেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, বিমানে করে ত্রাণসহায়তা দেওয়া টেকসই প্রচেষ্টা হয়ে উঠবে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে গাজা সিটির কাছে ফিলিস্তিনিরা একটি ত্রাণবাহী গাড়ির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুলি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়। ত্রাণের জন্য অপেক্ষারত মানুষকে গুলি করে হত্যা করে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ইসরায়েল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তিন তারকাবিশিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ডেভিড ডেপটুলা বলেছেন, বিমানে করে ত্রাণসহায়তা দেওয়ার পদ্ধতিটা ফলপ্রসূভাবে কার্যকর করতে পারবে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ত্রাণসহায়তা প্রবেশে পরিকল্পিতভাবে বাধা দিয়ে আসছে ইসরায়েল। এই কারণে সেখানে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ, গাজার মোট জনসংখ্যার অন্তত এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ প্রায় ছয় লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষ থেকে এক ধাপ দূরে রয়েছেন।
০২ মার্চ, ২০২৪

গাজায় ২৫ হাজারের বেশি নারী-শিশু নিহত : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ২৫ হাজারের বেশি নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের এক শুনানির সময় এক প্রশ্নের জবাবে এমন তথ্য দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। খবর আলজাজিরার। শুনানির সময় মার্কিন আইনপ্রণেতা রো খান্না অস্টিনের কাছে জানতে চান ইসরায়েল কতজন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে হত্যা করেছে। খান্নার এমন প্রশ্নের জবাবে অস্টিন বলেন, ২৫ হাজারের বেশি নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল যদি গাজার সর্বদক্ষিণের রাফা শহরে পরিকল্পিতভাবে স্থল অভিযানে নামে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তেল আবিবকে দেওয়া সামরিক সহায়তা প্রত্যাহার করবে কি না- জানতে চাইলে অস্টিন বলেন, রাফায় আশ্রয় নেওয়া ১৫ ‍লাখ ফিলিস্তিনির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা থাকতে হবে। পরিকল্পনা ছাড়াই রাফা আক্রমণ করলে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অস্টিন বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি যে, আমরা যখন মিত্র ও অংশীদারদের অস্ত্র সরবরাহ করি, তখন তারা দায়িত্বশীলভাবে সেগুলো ব্যবহার করবে। হামাসের হামলার জবাবে গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় হামলা করে আসছে ইসরায়েল। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
০১ মার্চ, ২০২৪

নির্বাচনের জয় গাজাবাসীকে উৎসর্গ করলেন ব্রিটিশ এমপি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে নিরুঙ্কুশ জয় পেয়েছেন এক ব্রিটিশ বামপন্থি নেতা। নির্বাচিত হওয়ার পরই নিজের জয় গাজাবাসীকে উৎসর্গ করেছেন তিনি। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার। নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের নাম জর্জ গ্যালোওয়ে। তিনি উত্তর ইংলিশ শহর রচডেল থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এই শহরের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মুসলিম। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন জর্জ। এই দলের হয়ে তিনিই প্রথম প্রার্থী যিনি এমপি হিসেবে সংসদে পা রাখবেন। অবশ্য জর্জ এবার নিয়ে সাতবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তখন অন্য দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপনির্বাচনে ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। জর্জ ১২ হাজার ৩৩৫ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রার্থী ডেভিড টুলি ৬ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়েছেন। তবে ইসরায়েল নিয়ে মন্তব্য করে লেবার পার্টির সমর্থন হারানো আজহার আলী চতুর্থ হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর লেবার পার্টির প্রধানের উদ্দেশে জর্জ বলেন, কেয়ার স্টারমার, এটি (এ জয়) গাজার জন্য। গাজা উপত্যকায় বর্তমানে চলমান বিপর্যয়কে বৈধতা, উত্সাহ ও পক্ষ নিয়ে তোমরা মূল্য দিয়েছ এবং আরও চড়া মূল্য দেবে। গত মাসে রচডেল শহরের লেবার পার্টির এমপি টনি লয়েড মারা গেলে এই আসনটি শূন্য হয়। এরপর উপনির্বাচন সামনে রেখে মুসলিম ভোটার টানতে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে প্রচার চালান জর্জ। শুধু প্রচারই নয়, দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
০১ মার্চ, ২০২৪

দুর্ভিক্ষ থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে গাজার ৬ লাখ মানুষ : জাতিসংঘ
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ত্রাণসহায়তা প্রবেশে পরিকল্পিতভাবে বাধা দিয়ে আসছে ইসরায়েল। এই কারণে সেখানে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ, গাজার মোট জনসংখ্যার অন্তত এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ প্রায় ছয় লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষ থেকে এক ধাপ দূরে রয়েছেন। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থার (ওসিএইচএ) উপপ্রধান রমেশ রাজাসিংহাম বলেছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এসে গাজায় অন্তত ৫ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষ থেকে এক ধাপ দূরে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার গাজায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সেখানে রমেশ আরও বলেন, উত্তর গাজায় দুই বছরের কম বয়সী ছয়জনের মধ্যে একজন শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। কার্যত ফিলিস্তিনি এই উপত্যকার ২৩ লাখ মানুষ দুঃখজনকভাবে অপর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন। তিনি বলেন, যদি কিছু করা না হয় তাহলে আমরা আশঙ্কা করি গাজায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ প্রায় অনিবার্য। সংঘাতে আরও অনেক মানুষ হতাহত হবে। অন্যদিকে জেনেভায় ওসিএইচএর আরেক মুখপাত্র জেনস লায়েরকে সাংবাদিকদের বলেছেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে গাজায় ত্রাণসহায়তা সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ত্রাণবাহী গাড়ি বহর হামলার শিকার হচ্ছে। ইসরায়েলি সেনারা পরিকল্পিতভাবে যাদের ত্রাণসহায়তা প্রয়োজন তাদের কাছে সেগুলো পাঠাতে বাধা দিচ্ছে। মানবিক কর্মীদের হয়রানি, ভয়-ভীতি ও আটক করছে ইসরায়েলি বাহিনী।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

এক শর্তে জাহাজে হামলা বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করবে ইয়েমেন
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল আগ্রাসন বন্ধ করলে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দেখার কথা জানিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে তারা হামলা বন্ধ করবে কি না জানতে চাইলে হুতিদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুল সালাম রয়টার্সকে বলেন, গাজা অবরোধের অবসান এবং সেখানে মানবিক ত্রাণসহায়তা অবাধে প্রবেশ করতে পারলে তারা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করবেন। তিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও অবরোধ বন্ধ হওয়া ছাড়া ফিলিস্তিনি জনগণকে সাহায্য করে এমন কোনো অভিযান বন্ধ হবে না। মূলত গত অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হলে হামাসের প্রতি সমর্থন জানায় হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের সমর্থনের অংশ হিসেবে নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাহাজে হামলা করে আসছে তারা। এরপর এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জাহাজের নাম যুক্ত করে ইরানপন্থি গোষ্ঠীটি। মার্কিন সেনা সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ নভেম্বর থেকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে ৩০টির বেশি জাহজে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। তাদের হামলার ভয়ে বেশিরভাগ জাহাজ কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ এই দুই নৌপথ এড়িয়ে গন্তব্যে পাড়ি দিচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে পশ্চিমারা। লোহিত সাগরে হামলা ঠেকাতে হুতিদের নিশানা করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী। যৌথ অভিযান ছাড়াও প্রায় প্রতিদিন হুতিদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এত এত হামলা করেও এখনো হুতিদের থামাতে পারছে না পশ্চিমারা।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
X