মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি উলফাতের মুক্তি দাবি ফখরুলের 
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মামলা প্রত্যাহারপূর্বক অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলের সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। বিবৃতিতে জানানো হয়, মুক্তিযোদ্ধা দলের পুরানা পল্টনস্থ কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপিকে ধ্বংস করার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে ডামি আওয়ামী সরকার। দেশের মানুষের রক্ত নিংড়িয়ে নিয়ে আগ্রাসী ফ্যাসিবাদ এখন ভয়াল মূর্তি ধারণ করেছে। দেশের মানুষের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে কর্তৃত্ববাদ চিরস্থায়ী করার জন্য শেখ হাসিনা এক নির্দয়-হিংসাশ্রয়ী নীতি অবলম্বন করেছেন। ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীদের দৌরাত্ম্য সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে গুম-খুন-হামলা-মামলা-গ্রেপ্তার ও ফরমায়েশি সাজা প্রদানের দ্বারা বিরোধী নেতাকর্মীদের নাজেহাল করা হচ্ছে। স্বাধীন দেশে মানুষের সংবিধানস্বীকৃত অধিকারগুলোকে হরণ করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী মধ্যযুগীয় রাজার শাসন কায়েম করেছে। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠলেও আওয়ামী সরকার জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর তামাশা করছে। সরকারের অনাচার থেকে জনদৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে নিতেই মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের হিড়িক থামছে না। ইশতিয়াক আজিজ উলফাতই কেবল মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তার পুরো পরিবারও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এমনকি তার বড় ভাই শহীদ হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে প্রকারন্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অবমাননা করা হলো।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার নিবন্ধ / অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে সব দুরভিসন্ধি দূরে ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার এখনই সময়
আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ অতীতে দীর্ঘ ২৪ বছর সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক মারাত্মকভাবে শোষিত ও বঞ্চিত হয়েছিল। পাকিস্তানের শোষণ ও বঞ্চনা থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে গিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশের নির্মাতা ও বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সামাজিক এবং রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাণপণ প্রচেষ্টা ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। ফলে অবাস্তব রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাকালেই সেটিকে তিনি একটি ‘ভ্রান্ত প্রত্যুষ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। আর তাই সহনেতাদের নিয়ে বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমে ভাষা আন্দোলনসহ ইস্যুভিত্তিক অধিকারের সংগ্রাম করেছেন, পরবর্তীতে সংসদীয় রাজনীতির মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হয়েছেন এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে, রাজনৈতিক পদ্ধতিতে সমাধানের সব পথ রুদ্ধ হওয়ার পর, সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।  স্বাধীনতার অব্যাবহিত পর থেকেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের সময় অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে যথাযথ মনোনিবেশ করেছিল বঙ্গবন্ধুর সরকার। স্বপ্ন ছিল তার ‘সোনার বাংলা’ অর্জনের। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নৃশংসভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির পথচলাকে রুদ্ধ করে দিতে চেয়েছিল। স্বাধীনতা বিরোধীদের এমন অপপ্রচেষ্টার ফলে অনেকটাই পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির কুশাসনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে অনেকগুলো দুরভিসন্ধি। যা সমাধানে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান অবর্ণনীয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা তার জাদুকরী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান সকল দুরভিসন্ধি দূর করে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সমৃদ্ধির পথে। সুতরাং অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে সকল দুরভিসন্ধি দূরে ঠেলে দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার এখনই সময়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথেই এগোচ্ছিল। মাত্র ৮ বিলিয়ন (মতান্তরে ৬ বিলিয়ন) ডলারের অর্থনীতি তার আমলেই ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। সেই অর্থনীতির আকার আজ ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বঙ্গবন্ধু সরকারের সাড়ে তিন বছরে আমাদের মাথাপিছু জিডিপি (কারেন্ট ইউএস ডলারে) ১৮৬ শতাংশ বেড়ে ৯৯ ডলার থেকে ২৬০ ডলারে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে শারীরিকভাবে হারানোর পরই এ অভিযাত্রায় ছেদ পড়ে। ১৩ বছর পর তার রেখে যাওয়া মাথাপিছু জিডিপির সমান করতে পেরেছিল পঁচাত্তর-উত্তর বাংলাদেশ। তাছাড়া তাকে হারানোর পরের ২২ বছরে আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে মাত্র ৫২ শতাংশ। ১৯৯০-এর পর দেশে গণতান্ত্রিক শাসন একটি মাত্রায় ফেরার পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অভিযাত্রাটি কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরে পায়। মাঝে ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বাধীন সরকার শাসনভার গ্রহণ করায় প্রকৃত অর্থেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরু হলেও সে যাত্রা আবার থেমে যায় ২০০১-এ।  বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি নাটকীয় উল্লষ্ফন শুরু হয় ২০০৮-এর পর যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা দ্বিতীয়বারের মতো দেশের শাসনভার কাঁধে নেন। বঙ্গবন্ধুহত্যা উত্তর এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার শাসনভার গ্রহণের আগ পর্যন্ত দীর্ঘকালীন সেনাশাসন এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির কুশাসনের ফসল হিসেবে অর্থনীতিতে যে দুরভিসন্ধি তৈরি হয়েছে তার প্রভাবে সাম্প্রতিক সময়ে সামষ্টিক অর্থনীতিতে খানিকটা চ্যালেঞ্জ দেখা দিলেও এ কথা নিশ্চিয়ই জোর দিয়ে বলা যায়, গত এক যুগ দারিদ্র্য নিরসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। সব ধরনের দুরভিসন্ধি দূরে ঠেলে দিয়ে সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ। উল্লেখ্য বিবিএসের সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০২২ এ সময়কালে দেশের দারিদ্র্যতার হার ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। অতিদারিদ্র্যের হার ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে। মাথাপিছু আয়ও সময়ের ব্যবধানে ব্যাপক হারে বেড়েছে বলে বাংলাদেশের এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। ৬৯৯ ডলার থেকে প্রায় চার গুণ বেড়ে ২ হাজার ৬৮৮ ডলার হয়েছে (বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে)। ২০১০ সালে দেশের একটি গড় পরিবার মাসে ১১ হাজার ২০০ টাকা ব্যয় করত আর ২০২২ সালে এর পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করার পরও এ সময়ে একটি পরিবারের গড় ভোগের প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে অর্থনৈতিক মুক্তি লাভে বাংলাদেশের যে পথচলা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুরু করেছিলেন তার ধারাবাহিকতা এখনো চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান সব ধরনের দুরভিসন্ধি দূরে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশের গত ১৪-১৫ বছরের অর্জনগুলো সন্তুষ্ট হওয়ার মতো। সামনের ১৪-১৫ বছরে আরও বড় অর্জন করা সম্ভব-এ কথাও সত্য। তবুও মনে রাখা চাই যে এ সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে প্রথমে করোনা মহামারি এবং পরে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে আগে থেকে হাজির থাকা চ্যালেঞ্জগুলো আরও কঠিন হয়েছে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চলতি ও আর্থিক হিসাবের ভারসাম্য টানাপড়েন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্ষয়ে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতির উল্লম্ফনের মতো চ্যালেঞ্জগুলোকে বাজারবান্ধব নীতি কৌশলে বাগে আনার কঠিন কাজগুলো এখনো নীতিনির্ধারকদের পুরোপুরি আয়ত্তে আসেনি। দেশে তিন কোটির বেশি নাগরিক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন।  সামাজিক নিরাপত্তা খাতের এ যাবৎকালের বিনিয়োগ দারিদ্র্য নিরসনে বেশ সহায়ক হয়েছে। কিন্তু আগামীতে নিম্ন-মধ্যম আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশের বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নতুন ধরনের সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে এগোতে হবে। তবে কেবল সামাজিক নিরাপত্তা দিয়ে সামাজিক পিরামিডের পাটাতনের মানুষের টেকসই সুরক্ষা হবে না। তাদের জন্য বাড়তি কাজের সুযোগও সৃষ্টি করতে হবে। আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আমরা প্রতি বছর মাত্র দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছি। অথচ শ্রমশক্তিতে প্রতি বছর ২০ লাখ নতুন মুখ যুক্ত হচ্ছে। আগামী দিনের শ্রমশক্তিকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে তাই কারিগরি শিক্ষার হারে ব্যাপক অগ্রগতি দরকার। এইসবের পাশাপাশি আমাদের আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে অর্থনৈতিক মুক্তি লাভের জন্য। আমরা জানি, ২০২৩ সাল জুড়েই উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভুগেছে সর্বস্তরের মানুষ। বিশেষ করে যারা স্বল্প আয়ের মানুষ তাদের ক্রয়ক্ষমতার অবনমন হয়েছে। এ ছাড়া নিম্ন মধ্যবিত্তদের ওপরও মূল্যস্ফীতির একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি, এ বছর আমাদের প্রথম কাজ হিসেবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে। তবে এক্ষেত্রে আমাদের নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে শ্রমবাজারে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। নতুন বছরে বিনিয়োগ চাঙ্গা না হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এ ছাড়া চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে জড়িত যেসব বিষয় রয়েছে সেসব দিকেও আমাদের নজর দিতে হবে। পাশাপাশি সুদহার নীতিতেও পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুদহার নীতি প্রণয়ন করতে হবে। অন্যদিকে সঞ্চয়কারীদেরও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি। এক্ষেত্রে বাজারের সঙ্গে যদি সমন্বয় করে আমাদের সুদহার নীতি গ্রহণ করা হয় তাহলে সঞ্চয়কারীর সংখ্যা বাড়বে। এ ছাড়া আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার যে বিনিময় হার রয়েছে সেটাকে বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের হার অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালু রাখতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে বাজারে মুনাফালোভীদের একচেটিয়া যে আধিপত্য বিগত সালগুলোয় আমরা লক্ষ করেছি সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারি বাড়াতে হবে। এ ছাড়া ঋণখেলাপি বা করখেলাপি ছাড়াও আমাদের যেসব বিষয়ে এ বছর বাড়তি নজর দিতে হবে তা হচ্ছে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জোর দেওয়া। অর্থনীতি-সংশ্লিষ্ট যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে। এসব জায়গায় বহু বছর ধরেই দুর্বলতা রয়েছে যার প্রভাব কিন্তু আমাদের অর্থনীতির জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। শুধু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে সেজন্য আমরা কাজ করব বিষয়টি যেন এমন না হয়, আমাদের নিজস্ব গরজেও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া প্রকৃত অর্থে আমাদের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় আমরা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারব না। সুতরাং আমাদের নিজস্ব তাগিদ থেকেই এসব সংস্কার আমাদের করতে হবে। অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে যেসব আইনের কথা বলা হয়েছে আমরা যেন সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি সেদিকটাও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। খেলাপি ঋণের ফলে সরকার যে বোঝা বহন করছে সে বিষয়েও সতর্ক হতে হবে। কারণ সরকারের হাতে অর্থ না থাকলে তারা ব্যয় কীভাবে করবে? সরকারের হাতে ব্যয়ের জন্য যখন প্রয়োজনীয় অর্থ থাকবে কেবল তখনই ব্যয়ের প্রশ্ন যুক্তিযুক্ত। আওয়ামী লীগ সরকার অতীতের ন্যায় এসব বিষয়ে খেয়াল রেখে নতুন নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে বাঙালি জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করবেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। এভাবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আশা করা যায় মোটামুটি ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলেই ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। আর ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করলে সেখানে পৌঁছানো যাবে ২০৩০ সালেই। মাঝামাঝি প্রবৃদ্ধি নিয়ে হয়তো ২০৩৫ সালেই আমরা ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে পারি। তবে এজন্য সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে যেমন আশাবাদী উদ্যোগ দরকার, তেমনি দরকার যথাযথ সংবেদনশীলতা দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মানসিকতাও। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের এই ধরনের চেষ্টা। আমাদের প্রত্যাশা অচিরেই জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার অর্থনীতিতে বিদ্যমান দুরভিসন্ধিগুলোকে দূরে ঠেলে দিয়ে সমৃদ্ধশালী এক অর্থনীতি গড়ে তুলে বাঙালি জনগণের বহুল আকাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করবেন। ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া : উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক চেয়ারম্যান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

জ্বর থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে ভুলেও খাবেন না এসব খাবার
জ্বর হওয়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই রয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনে অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। দুদিন অন্তর সর্দিকাশি জ্বরে কাবু বেশিরভাগ মানুষ। শীত বিদায় নিলেও শিরশিরে দাপট শেষ হয়নি। রোজ রোজ এমন আবহাওয়ার পরিবর্তনে শরীরের অবস্থা নাজেহাল। তাই শরীরকে সুস্থ করে তুলতে গেলে খাওয়া-দাওয়ায় রাখতে হবে বাড়তি নজর। আসুন দেখে নেওয়া যাক এমন অবস্থায় কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন। মিষ্টিজাতীয় খাবার জ্বরে ক্ষতিকর ক্যান্ডি, পেস্ট্রি, মিষ্টি এবং সোডার মতো মিষ্টি জ্বরের মধ্যে না খাওয়াই ভালো। এমনকি সদ্য জ্বর থেকে সেরে উঠলেও এইসব খাবার সংক্রমণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। দুধ-দই থেকে থাকুন দূরে সকালে ভুলেও খাবেন না যে ৪ ড্রাই ফ্রুটস স্বাভাবিক সময়ে দুধ, দই ও বাকি দুগ্ধজাত প্রোডাক্ট দারুণ উপকারী হলেও জ্বরের সময় এর পাশেও ঘেঁষবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধ ও দই জ্বরের মধ্যে খেলে মিউকাস বাড়ে। তাই এর থেকে এ সময় দূরত্ব রাখাই ভালো। রেড মিট থেকে বিরত থাকুন মাটন খেতে কে না ভালোবাসে। কিন্তু জ্বরের মধ্যে এ রকম গুরুপাক, স্যাচুরেটেড ফ্যাটসহ মাংস খেলে হজমে গোলমাল হবে; যা শরীরকে আরও খারাপ করবে। তাই এই কদিন মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সাইট্রাস ফুড মুসম্বি লেবু, লেবু ভিটামিন সি-এর উৎস। কিন্তু অন্যসময় এটি স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি হলেও জ্বরের সময় এগুলো খেলেই বিপত্তি। এর অ্যাসিডিক স্বাদের কারণে জ্বরের মধ্যে মুখে ঘা হতে পারে। কোনও কোনও সময় গলার সংক্রমণও বেড়ে যায়।
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

জ্বর থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে ভুলেও খাবেন না এসব খাবার
জ্বর হওয়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই রয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনে অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। দুদিন অন্তর সর্দিকাশি জ্বরে কাবু বেশিরভাগ মানুষ। শীত বিদায় নিলেও শিরশিরে দাপট শেষ হয়নি। রোজ রোজ এমন আবহাওয়ার পরিবর্তনে শরীরের অবস্থা নাজেহাল। তাই শরীরকে সুস্থ করে তুলতে গেলে খাওয়া-দাওয়ায় রাখতে হবে বাড়তি নজর। আসুন দেখে নেওয়া যাক এমন অবস্থায় কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন। মিষ্টিজাতীয় খাবার জ্বরে ক্ষতিকর ক্যান্ডি, পেস্ট্রি, মিষ্টি এবং সোডার মতো মিষ্টি জ্বরের মধ্যে না খাওয়াই ভালো। এমনকি সদ্য জ্বর থেকে সেরে উঠলেও এইসব খাবার সংক্রমণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। দুধ-দই থেকে থাকুন দূরে স্বাভাবিক সময়ে দুধ, দই ও বাকি দুগ্ধজাত প্রোডাক্ট দারুণ উপকারী হলেও জ্বরের সময় এর পাশেও ঘেঁষবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধ ও দই জ্বরের মধ্যে খেলে মিউকাস বাড়ে। তাই এর থেকে এ সময় দূরত্ব রাখাই ভালো। রেড মিট থেকে বিরত থাকুন মাটন খেতে কে না ভালোবাসে। কিন্তু জ্বরের মধ্যে এ রকম গুরুপাক, স্যাচুরেটেড ফ্যাটসহ মাংস খেলে হজমে গোলমাল হবে; যা শরীরকে আরও খারাপ করবে। তাই এই কদিন মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সাইট্রাস ফুড মুসম্বি লেবু, লেবু ভিটামিন সি-এর উৎস। কিন্তু অন্যসময় এটি স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি হলেও জ্বরের সময় এগুলো খেলেই বিপত্তি। এর অ্যাসিডিক স্বাদের কারণে জ্বরের মধ্যে মুখে ঘা হতে পারে। কোনও কোনও সময় গলার সংক্রমণও বেড়ে যায়।
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

রূপ চর্চা / মুক্তি মিলবে ব্ল্যাক হেডস থেকে
আমাদের সবারই কমবেশি ত্বকের নানা সমস্য়া থাকে। হবেই না কেন? দূষণ, ধোঁয়া, ধুলাবালুর কারণে ত্বকে ময়লা জমে। ফলে পোরসগুলো (লোমকূপ) সঠিক পরিমাণে অক্সিজেন পায় না। তখনই ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয়। মুখ ভালো করে পরিষ্কার না করলে বা সঠিক যত্ন না নিলে সমস্যা বাড়তে থাকে। তবে ব্ল্যাক ও হোয়াইট হেডসের সমস্যা আমাদের সবারই কমবেশি আছে। নাকের দুপাশে, নাকের ওপর কালো দানার মতো স্পট দেখা যায় এগুলোই ব্ল্যাক হেডস। কারও কারও ব্ল্যাক হেডস কম থাকে, কারও বেশি। কিন্তু এই ব্ল্যাক হেডস দূর করার জন্য পার্লারে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ঘরে বসেই সহজেই দূর করা সম্ভব ব্ল্যাক হেডস। চলুন তাহলে দেরি না করে জেনে নিই উপায়গুলো— লেবু চিনির স্ক্র্যাব ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এটি। মাঝারি সাইজের একটা লেবুর রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ব্ল্যাক হেডস আক্রান্ত স্থানে ম্যাসাজ করুন চিনি গলে যাওয়া না পর্যন্ত। এরপর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুবার করুন। স্কিনের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে আর এক্সফলিয়েট করতে এর জুড়ি নেই। বেকিং সোডা এক চামচ বেকিং সোডা আর দুই চামচ পানির পেস্ট তৈরি করুন। ৫ মিনিট হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এটি স্কিনের ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও সাহায্য করে, ব্ল্যাক হেডস কমিয়ে আনে। অনেক সময় ব্ল্যাক হেডস পরিষ্কার হয়ে এলেও স্কিনের পোরসগুলো বড় থেকে যায়। এ ক্ষেত্রেও বেকিং সোডা চমৎকার কাজ করে। তবে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তারা এ পেস্ট ব্যবহার করবেন না। টুথপেস্ট অনেক দিনের জমে থাকা ব্ল্যাক হেডস পরিষ্কার করা বেশ ঝক্কির ব্যাপার। আর একদিনে তা কখনো দূর হয় না। সে ক্ষেত্রে সামান্য সাদা টুথপেস্ট নিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন মিনিট পাঁচেক। এরপর নরম একটি টুথব্রাশের সাহায্যে ধীরে ধীরে স্ক্র্যাবের মতো করে ঘষতে থাকুন। ত্বকের মরা চামড়া উঠে আসার সঙ্গে সঙ্গে এটি ব্ল্যাক হেডসগুলোকে নরম করে ফেলে। আমন্ড গোলাপজলের স্ক্র্যাব দুই চামচ আমন্ড গুঁড়া আর এক চামচ গোলাপজলের পেস্ট তৈরি করুন। এবার এই পেস্ট সম্পূর্ণ মুখে লাগিয়ে সার্কুলার মোশনে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করুন ২-৩ মিনিট। এরপর ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ব্ল্যাক হেডস দূর করার সঙ্গে সঙ্গে এটি স্কিনে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। লবণ আজকাল বাজারে যে রিফাইন্ড লবণ পাওয়া যায়, সেগুলো নয়, বরং একটু মোটা দানাদার লবণের কথা বলছি। এটি যেমন চটজলদি ব্ল্যাক হেডসের স্ক্র্যাব হিসেবে কাজ করে তেমনি অয়েলি স্কিনের অতিরিক্ত অয়েল কন্ট্রোল করতে সাহায্য করে। খুব সামান্য পরিমাণ লবণ নিন (দুই চিমটি), এতে কয়েক ফোঁটা পানি যোগ করুন। এরপর ব্ল্যাক হেডসের ওপর ম্যাসাজ করুন লবণ গলে না যাওয়া পর্যন্ত। এরপর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্ল্যাক হেডসের সঙ্গে সঙ্গে ওই স্থানের তেল নিঃসরণের পরিমাণও কমিয়ে আনে। তবে সাবধান, পুরো মুখে এটি ব্যবহার করবেন না যেন! তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। শুধু ব্ল্যাক হেডস আক্রান্ত অংশের জন্য এই স্ক্র্যাব। মধু শুষ্ক ত্বকেও হতে পারে ব্ল্যাক হেডস। তাদের জন্য মধু আদর্শ। দারুচিনি গুঁড়া আর মধু ২:১ পরিমাণে মিশিয়ে ব্ল্যাক হেডসের ওপর ১৫-২০ মিনিট রাখুন। এরপর ২ মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। একই সঙ্গে এটি ময়েশ্চারাইজার আর স্ক্র্যাব হিসেবে কাজ করে। সপ্তাহে দুবার ব্যবহারে ব্ল্যাক হেডস অনেকটাই কমে আসবে। সবশেষ বালিশের কভার প্রতি সপ্তাহে পাল্টে ফেলুন। আপনার ব্যবহারের চিরুনি, তোয়ালে সবসময় পরিষ্কার রাখুন।  ব্ল্যাক হেডস, পিম্পল, খুশকি এসব কিছুর প্রকোপ থেকে কিছুটা মুক্তি পাবেন। অ্যালোভেরা ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার বেশ পুরোনো। উপকারী এই ভেষজ আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী। ব্ল্যাক হেডস দূর করতেও কাজ করে অ্যালোভেরা। প্রথমে অ্যালোভেরার পাতার ভেতরের শাঁসটুকু বের করে নিতে হবে। এবার তা চটকে নিয়ে যেখানে ব্ল্যাক হেডস আছে, সেখানে ভালোভাবে লাগাতে হবে। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এভাবে প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারলে ব্ল্যাক হেডস দূর হবে, পাশাপাশি বাড়বে ত্বকের উজ্জ্বলতা। তবে কারও কারও ত্বকে অ্যালোভেরা ব্যবহার করলে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। এমন কোনো সমস্যা হলে অ্যালোভেরা এড়িয়ে চলুন। সবশেষ বালিশের কভার প্রতি সপ্তাহে পাল্টে ফেলুন। আপনার ব্যবহারের চিরুনি, তোয়ালে সবসময় পরিষ্কার রাখুন।  ব্ল্যাক হেডস, পিম্পল, খুশকি এসব কিছুর প্রকোপ থেকে কিছুটা মুক্তি পাবেন।
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সন্ধ্যায় মুক্তি পেতে পারেন মির্জা আব্বাস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আজ সোমবার সন্ধ্যায় কারামুক্তি পেতে পারেন। সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান দলটির চেয়ারপার্সনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার। তিনি জানান, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হবেন। এর আগে সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস উদ্দিনের আদালত ঢাকা রেলওয়ে থানার মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে তিনি সব মামলায় জামিন পেলেন। এক্ষেত্রে মির্জা আব্বাসের কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মহি উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, মির্জা আব্বাস সব মামলায় জামিন পেয়েছেন। এখন কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই। জামিননামা কারাগারে পৌঁছালেই তিনি কারামুক্ত হবেন। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়। শাহজাহানপুর থানার নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৩১ অক্টোবর রাতে ঢাকার শহীদবাগ থেকে মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ৫ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৪ জানুয়ারি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা রেওলয়ে থানার আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি মির্জা আব্বাসের পল্টন থানার পাঁচ এবং রমনা মডেল থানার চার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। পরে ৫ ফেব্রুয়ারি পল্টন থানার চার ও রমনা মডেল থানার দুই মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। পরদিন ৬ ফেব্রুয়ারি শাহজাহানপুর, পল্টন থানার ও রমনা মডেল থানার পৃথক আরও তিন মামলায় ও গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রমনা মডেল থানার প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মামলায় জামিন পান তিনি।
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

মুক্তি পেলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা
মুক্তি পেয়েছেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। ছয় মাস আটক থাকার পর রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  তার আইনজীবী জানিয়েছেন, থাইল্যান্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের ১৫ বছর স্বেচ্ছায় নির্বাসন শেষে স্বদেশে ফিরে মুক্তভাবে প্রথম দিন শুরু করলেন তিনি।  রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে থাইল্যান্ডের ক্ষমতায় রয়েছে সিনাওয়াত্রার পরিবার। তবে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ছয় মাস হাসপাতালে বন্দি থাকার পর রোববার তিনি মুক্তি পান। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় আট বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলেও কয়েকদিনের দার কমিয়ে এক বছর করেন দেশটির রাজা।  সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, রোববার ভোরে একটি কালো গাড়িতে করে রয়টার্সের সাংবাদিকরা তাকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেছেন। এ সময় থাকসিনকে তার কনিষ্ঠ কন্যা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা পেতাংটার্ন তার পাশে বসা ছিলেন।  থাইল্যান্ডের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বয়স ও স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। তাকে হাসপাতালে আটক রাখা হয়েছিল। রোববার ভোরে তাকে বহনকারী গাড়িটিকে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার ২৫ মিনিট পর ব্যাংককে পরিবারের বাসভবনের সামনে দেখা যায়।  পেতাংটার্ন ইনস্টাগ্রামে বাবার সঙ্গে গাড়িতে একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লিখেন, সিনাওয়াত্রা বাড়িতে পৌঁছেছেন। আশা করি তিনি সুস্থ থাকবেন।  সিনাওয়াত্রার আইনজীবী জানিয়েছেন, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী প্যারোলের কার্যক্রম শেষ করেছেন। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‍মুক্তি পেয়েছেন।  ২৫ বছর স্বেচ্ছায় নির্বাসন শেষে ২০২৩ সালের আগস্টে দেশে ফেরেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দুবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। 
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ফখরুল-খসরু মুক্তি পেয়ে বললেন আন্দোলন চলবে
সাড়ে তিন মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রথমে বিএনপি মহাসচিব এবং ৪ মিনিট পর আমীর খসরু বেরিয়ে আসেন। কারাগারের প্রধান ফটকে দলের নেতাকর্মীরা তাদের ফুলের মালা পরিয়ে ও করতালি দিয়ে বরণ করে নেন। তারা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে ‘মহাসচিবের মুক্তি, আন্দোলনের শক্তি’, ‘খসরু ভাইয়ের মুক্তি, আন্দোলনের শক্তি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এ ছাড়া গতকাল দুপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তাকে গত বছরের ১০ অক্টোবর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নেতাকর্মীদের অভিবাদন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ভাতের অধিকারের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে। ইনশাআল্লাহ এই সংগ্রামে তারা জয়ী হবেন। গণতন্ত্র না ফেরানো ও বিজয় না হওয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকার কথাও দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন তিনি। পরে আমীর খসরু বলেন, ওরা রাষ্ট্রশক্তিকে কবজা করে ক্ষমতা দখল করেছে, বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা নির্বাচনে নৈতিকভাবে জনগণের কাছে পরাজিত হয়েছে। আমরা বলতে চাই, গণতন্ত্রের আন্দোলন অটুট থাকবে। যতদিন দেশে গণতন্ত্র ফেরত না আসবে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না আসবে ততদিন এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। কারাগারের ফটকে বিএনপি মহাসচিবকে আনতে তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, মহাসচিবের একান্ত সহকারী ইউনুস আলী, কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে তাইফুল ইসলাম টিপু, কামরুজ্জামান রতন, শামীমুর রহমান শামীম, নিপুণ রায় চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন আজাদ, সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, শায়রুল কবির খান, ইসতিয়াক আহমেদ নাসির, কাজী ইফতেখায়রুজ্জামান শিমুলসহ অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মহাসচিবের গাড়িকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীর মোটরবাইকে কর্ডন করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। গত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পরদিন গোয়েন্দা পুলিশ মির্জা ফখরুলকে এবং ২ নভেম্বর আমীর খসরুকে তাদের গুলশানের বাসা থেকে নিয়ে যায়। পরে ২৮ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় ফখরুলের বিরুদ্ধে ১১টি এবং খসরুর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মামলাটি ছাড়া অন্যগুলোয় তারা বিভিন্ন সময়ে জামিন পান। সবশেষ বুধবার এ মামলাতেও তারা জামিন পান। গতকাল সকালে দুই নেতার আইনজীবীরা বিভিন্ন মামলার জামিন আদেশ, প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট, প্রত্যাহারের আদেশ সব ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পর বিকেলে মুক্তি পান বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ‘সরকার পতনের’ একদফা দাবিতে গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছিল বিএনপি। সেদিন দুপুরের আগে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরুর পর কাছেই কাকরাইল মোড়ে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে শান্তিনগর, নয়াপল্টন, বিজয়নগর, ফকিরাপুল, আরামবাগ এবং দৈনিক বাংলা মোড় এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। সংঘর্ষকালে পুলিশ বক্স, অ্যাম্বুলেন্স ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুর করা হয়। হামলা করা হয় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে। দৈনিক বাংলা মোড়ে পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম পারভেজকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। সংঘাতে প্রাণ হারান যুবদলের মুগদা থানার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা শামীম মোল্লা।
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

জামিনের অর্থ অপরাধ থেকে মুক্তি নয়
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কাউকে জামিন দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, তিনি অপরাধ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছেন। মামলা তো আছে, মামলা চলবে। আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসের নির্যাতনের যে চিত্র, তারা শাস্তির বাইরে যেতে পারেন না। এর বিচার তো চলবেই। মির্জা ফখরুলের জামিনের পর বিএনপির আন্দোলনের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জামিন পেয়েছে, তবে বিএনপির আন্দোলন বেগবান হতে হতে না পতন হয়ে যায়। এখন পতনের গভীর খাদ থেকে কে উদ্ধার করবে? আমরা তো শেখ হাসিনার জন্য প্রস্তুত, রাস্তায় সদা জাগ্রত প্রহরী। বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে অনেকেই চিহ্নিত করেছে। তাদের নিষিদ্ধ করার চিন্তা এখনো দলগতভাবে আওয়ামী লীগ করেনি। এখানে আদালতের বিষয় আছে। আইন-আদালত তো মানতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসী দল, এটা কানাডার ফেডারেল আদালত রায় দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তারেক রহমানের প্রবেশ নিষিদ্ধ—আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এটা (নিষেধাজ্ঞা) দিয়েছে। জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হতে পারেননি তাদের অনেকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। তাহলে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হলো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা আমাদের দলের ব্যাপার, এটা আমাদের বোর্ডের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কোনটা সঠিক হবে, কোনটা বেঠিক হবে, যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরুষের ব্যাপারে কোনো স্কোপ থাকে না। নারীদের ব্যাপারে সংরক্ষিত আসনে একটা সুযোগ আছে। এখানে জনগণের প্রত্যাখ্যানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, শিক্ষা সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য নির্মল চ্যাটার্জি, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
X