শর্ত মানলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতি
বেশ কয়েকদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে রমজানে গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা। এবার এ নিয়ে সুসংবাদ দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস। গতকাল রোববার দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হামাসের এক সিনিয়র নেতা এএফপিকে জানান, ইসরায়েল তাদের দাবি মেনে নিলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে। রোববার ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ও যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র কাতার আলোচনায় বসতে মিশরের রাজধানী কায়রোতে পৌঁছেছে। সবপক্ষই রমজানের আগে যুদ্ধবিরতির জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আগামী ১০ অথবা ১১ মার্চ থেকে রমজান শুরু হবে। তার আগে এ আলোচনায় বসেছে সবপক্ষ। যুদ্ধবিরতিতে বেশ কয়েকটি শর্তারোপ করেছে হামাস। এগুলো হলো গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার, ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গাজার উত্তরাঞ্চলে নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরতে দেওয়া। এসব শর্ত মেনে নিলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত হতে পারে। আলজাজিরা আরবি বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপক্ষের মধ্যে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি হতে পারে। এ সময় হামাসের হাতে বন্দি ৪০ ইসরায়েলির মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে আটক ৪০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ ছাড়া যুদ্ধবিরতির সময়ে গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাকের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যহারে বাড়ানো হবে। সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গাজার হাসপাতাল ও বেকারি মেরামত করা হবে। প্রতিদিন ৫০০টির মতো ট্রাক ত্রাণ সহায়তা নিয়ে গাজায় প্রবেশের অনুমতি পাবে। গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলিকে হত্যার পাশাপাশি প্রায় ২৫০ ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে গাজায় বন্দি করে নিয়ে আসে হামাস। একই দিন হামাসকে নির্মূল এবং বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। গত নভেম্বরে সাত দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিনিময়ে ১১০ ইসরায়েলি বন্দিকে হামাস মুক্তি দিলেও এখনো তাদের হাতে ১৩০ জনের মতো বন্দি আছেন।
০৪ মার্চ, ২০২৪

শর্ত মানলেই চলবে বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতাল
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, এখন থেকে সরকারের নির্দিষ্ট শর্ত মেনে বেসরকারি মেডিকেল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাতে হবে। কারণ কিছু অসাধু মানুষ সরকারের কোনোরকম নিয়মের তোয়াক্কা না করে শুধু ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য যত্রতত্র নামমাত্র হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।   তিনি বলেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে এগুলো আর চলতে পারবে না। এখনো ১ হাজার ২০০টির ওপর প্রাইভেট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিবন্ধন নাই। এদের কাছে ভালো ডাক্তার নাই, নার্স নাই, টেকনিশিয়ান নাই। তাহলে এরা হাসপাতাল চালাচ্ছে কী দিয়ে? এরা রোগী পাচ্ছে কীভাবে? এগুলো আমাদের ভাবতে হবে। আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, ইতোমধ্যেই এরকম প্রায় ১০ হাজারটি অনিবন্ধিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এরকম অনিবন্ধিত অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও বন্ধ করার কাজ চলমান রয়েছে। এ নিয়ে আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালক (প্রশাসন) কর্তৃক স্বাক্ষরিত ১০টি বিশেষ নির্দেশনাসহ একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। যেখানে প্রাইভেট মেডিকেল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের নির্দেশে জারিকৃত ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) কর্তৃক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিন্মে বর্ণিত শর্তাবলি আবশ্যিকভাবে প্রতিপালন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। ১. বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্সের কপি ওই প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশ পথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে। ২. সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একজন নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকতে হবে। তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ৩. যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে কিন্তু শুধু ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের লাইসেন্স রয়েছে তারা লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যতিরেকে কোনোভাবেই নামে উল্লিখিত সেবা প্রদান করতে পারবে না। ৪. ডায়াগনস্টিক সেন্টার-প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে যে ক্যাটারগরিতে লাইসেন্স প্রাপ্ত শুধু সে ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যতীত কোনোভাবেই অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না এবং ক্যাটারগরি অনুযায়ী প্যাথলজি/মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে। ৫. বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী সব শর্তাবলি বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিযোজিত সব চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদগুলো, বিএমডিসির হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। ৭. হাসপাতাল-ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অপারেশন-সার্জারি-প্রসিডিউরের জন্য অবশ্যই রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে। ৮. কোনো অবস্থাতেই লাইসেন্স প্রাপ্ত-নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ব্যতীত চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ্যানেসথেশিয়া প্রদান করা যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ (Anesthetist) ছাড়া যে কোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/Interventional Procedure করা যাবে না। ৯. সব বেসরকারি নিবন্ধিত/লাইসেন্স প্রাপ্ত হাসপাতাল-ক্লিনিকে  Labor Room Protocol অবশ্যই মেনে চলতে হবে। ১০. নিবন্ধিত/লাইসেন্স প্রাপ্ত হাসপাতাল-ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই Operation Theatre Etiquette মেনে চলতে হবে।  
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ইসরায়েলিদের মুক্তিতে যেসব শর্ত দিল ইসলামিক জিহাদ
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সমানভাবে হামাসের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে ইসলামিক জিহাদ। দলটির কাছেও বন্দি রয়েছে ইসরায়েলিরা। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে নতুন শর্তের কথা জানিয়েছে দলটি। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  গাজায় যে কয়েকটি সংগঠন প্রতিরোধের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তারমধ্যে অন্যতম ইসলামিক জিহাদ। দলটির মহাসচিব জিয়াদ আন-নাখালা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তিতে নতুন চার শর্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘোষিত চারটি শর্ত অগ্রাহ্য করলে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তিতে যাবে না ইসলামিক জিহাদ।  দলটির ঘোষিত শর্তগুলো হলো, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের সব সেনা প্রত্যাহার, গাজা পুনর্গঠনের নিশ্চয়তা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্পষ্ট রাজনৈতিক সমাধান।  ইসলামিক জিহাদের মহাসচিব এক বিবৃতিতে জানান, আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি যে, যুদ্ধবিরতি, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয় এমন একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক সমাধানের নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো ধরনের আলোচনায় অংশ নেব না।  এর আগে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিবিনিময় চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি। রোববার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মিসরের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এমন কথা বলেন তিনি। সোমবার কাতারি প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে দুপক্ষের মধ্যে কয়েক ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চুক্তির আওতায় প্রথমে নারী ও শিশুদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক ত্রাণসহায়তা প্রবেশ করবে। তিনি বলেন, আমরা এই প্রস্তাবটি হামাসের কাছে পৌঁছে দিব। তাদের এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার আশা করছি যেখানে তারা এ প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত হবে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, হামাস আলোচনায় যোগদানের পূর্বশর্ত হিসাবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি দাবি করেছিল। আমি বিশ্বাস করি যে, আমরা সেই জায়গা থেকে এমন একটি জায়গায় চলে এসেছি যেটি সম্ভবত ভবিষ্যতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। আলোচনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে যেখানে ছিলাম তার চেয়ে অনেক ভালো জায়গায় আছি আমরা।  
৩১ জানুয়ারি, ২০২৪

প্রাথমিকের শিক্ষকদের বিভাগীয় পদে আবেদনের শর্ত নিয়ে রুল
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন জেলার ২০ জন শিক্ষকের দায়ের করা রিটের শুনানিতে বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৩-এ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার শর্ত নির্ধারণ কেন অবৈধ হবে না এবং দুই বছরের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে বয়সসীমা শিথিল করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন পদে পিটিশনার এবং অন্যান্য শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করার সুযোগ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব, চেয়ারম্যান, বিপিএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মোট ছয়জনকে এসব রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে রিটকারীদের দাখিল করা আবেদন নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন লাখ ১৬ হাজার শিক্ষকের পক্ষে আদালতে এ রিট করেন বিভিন্ন জেলার ২০ শিক্ষক। আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, রিটকারীরা দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সম্প্রতি সরকার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৩ প্রণয়ন করেন, যেখানে প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়নি এবং সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার পদের জন্য আবেদনের সুযোগ রাখা হলেও সেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে ১০ (দশ) বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার শর্ত দেওয়া হয়েছে। যেখান পূর্বে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে কোনো শিক্ষক ২ (দুই) বছর চাকরির অভিজ্ঞতা নিয়ে সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার পদের জন্য আবেদন করতে পারতেন এবং সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও রাজস্ব খাতে সৃষ্ট পদে অন্যূন ২ (দুই) বছর স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে চাকরিরত থাকার পর বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রিটকারী শিক্ষকরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আবেদন দাখিল করলেও বিবাদীরা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রিটকারীরা এ রিট পিটিশন দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ প্রদান করেছেন।
২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

বিমানের কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন শর্ত
সম্প্রতি বিমানের দুই কর্মকর্তা নিখোঁজ হওয়ার পর এখন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ককপিট ক্রুসহ ককপিট ক্রুসহ সব কর্মীকে যে কোনো কারণে বিদেশ ভ্রমণের আগে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) নতুন এ নিয়মের ঘোষণা দেয় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান পরিবহন সংস্থাটি। বিমানের এমডি এবং সিইও শফিউল আজিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, এ ঘোষণার আগে এতদিন বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের বিদেশ সফর অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা ছিল সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের হাতে। গত ১৮ জানুয়ারি জারি করা এক প্রশাসনিক আদেশে বিদেশ ভ্রমণের জন্য তাদের সব কর্মচারীর জন্য কিছু শর্তও বেঁধে দিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ককপিট ক্রুসহ বিমানের সব কর্মচারী প্রতি দুই বছরে একবার নিজের উন্নত চিকিৎসার জন্য কিংবা পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য সঙ্গী হিসেবে কিংবা ধর্মীয় কারণে দেশের বাইরে যেতে পারবেন। এছাড়া বছরে দুবার নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে কিংবা পর্যটন গন্তব্যে যেতে পারবেন। ভ্রমণের আগে বিমানের কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট অ্যাডমিন সেলে আবেদন করতে হবে। তারপর দেশের বাইরে সফরের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং অনুমোদন পেতে আবেদনটি নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক বিভাগে যাবে। বিমানের নিখোঁজ দুই কর্মকর্তা হলেন- সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাণিজ্যিক তত্ত্বাবধায়ক সোহান আহমেদ। এর মধ্যে আনোয়ার হোসেন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গত ৭ ডিসেম্বর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিজি-৩০৫ ফ্লাইটে কানাডা যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ আছেন। সোহান আহমেদ গত ২৪ অক্টোবর থেকে আর কাজে আসছেন না। এ ঘটনায় গত ১৫ জানুয়ারি দুই নিখোঁজ কর্মকর্তার তথ্য জানিয়ে বিমানের পক্ষ থেকে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
২০ জানুয়ারি, ২০২৪

অ-১৯ নারী দল / শর্ত পূরণে বাংলাদেশে চম্পাকা
অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের ক্যাম্প ও ত্রিদেশীয় সিরিজে পেস বোলিং বিভাগের দায়িত্ব সামলাবেন বিসিবি হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগের সাবেক কোচ চম্পাকা রামানায়েকে। আগামী ১২ জানুয়ারি কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন তিনি। বিসিবির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানিয়েছে, বছরে ১০০ দিনের চুক্তিতে বিসিবির সঙ্গে কাজ করেছিলেন চম্পাকা। তবে গত বছর নির্ধারিত সময় কাজ করা হয়নি তার। আরও ৪৩ দিন বাকি রয়েছিল। এবার সেটা পুষিয়ে দিতে নারীদের বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গে থাকবেন তিনি। জানা গেছে, আসন্ন এই টুর্নামেন্টে দলের সঙ্গে থাকবেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ হাসান তিলকারত্নে, স্পিন কোচ দিনুকা হেতিয়ারাচ্চি। বয়সভিত্তিক পর্যায়ের ক্রিকেটারদের পরখ করতেই এই টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের কয়েকজনকে রাখার পরিকল্পনা বিসিবির।
০৭ জানুয়ারি, ২০২৪

গাজায় শান্তি ফেরাতে ইসরায়েলের ৩ শর্ত
ফিলিস্তিনে চালানো ইসরায়েলের অভিযান ক্রমেই যেন দীর্ঘ হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও তাতে সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষই। এমন পরিস্থিতিতে গাজায় শান্তি ফেরাতে তিনটি শর্ত দিয়েছে ইসরায়েল। টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়েছে।  ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা এক কলমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তিন শর্তে গাজায় শান্তি ফিরতে পারে। এ তিন শর্ত হলো- হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা, গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ ও ইহুদিদের প্রতি ফিলিস্তিনিদের বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব দূর করা।  ইসরায়েলের দাবি, গাজায় হামাসকে নির্মূলের জন্য অভিযান চালিয়ে আসছে তারা। এদিকে হামাসকে নির্মূলের অজুহাতে গাজায় অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে পুরোপুরি নির্মূলের আগ পর্যন্ত এ অভিযান বন্ধ করবে না বলছে ইসরায়েল। যদিও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন বেসামরিক লোক।  গাজায় ইসরায়েলের প্রথম শর্তটি হলো হামাসকে নির্মূল করা। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাসকে নির্মূল করতে ইসরায়েলের এ হামলায় তাদের জোর সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জামার্নিসহ বিভিন্ন দেশ। নেতানিয়াহু প্রশাসনকে অভিযানের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্যে তাদের গাজার সামরিক সক্ষমতা রুখে দিতে হবে এবং গাজার শাসন থেকে হামাসকে অবসান ঘটাতে হবে।  দ্বিতীয় শর্তে ইসরায়েল বলছে, গাজাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ইসরায়েলে হামলার জন্য গাজাকে পুনরায় কখনো সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এজন্য উপত্যকার সীমান্তে সাময়িক নিরাপত্তা জোন স্থাপন করা দরকার। এছাড়া গাজার সঙ্গে মিসরের সীমান্ত পথ রয়েছে। এ পথ দিয়েই সেখানে অস্ত্রের চালান ঢুকছে। ফলে মিসরের রাফান সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো জরুরি।  তৃতীয় শর্তের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের স্কুলগুলোতে শিশুদের এটা শেখাতে হবে যে, মৃত্যুর চেয়ে বেঁচে থাকা মূল্যবান। এমনকি জীবনের যত্ন নেওয়াটাও জরুরি। এছাড়া ফিলিস্তিনি ইমামদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, সেখানকার ইমামরা সমসময়ে বক্তব্যে ইহুদিদের হত্যার ব্যাপারে উসকানি দেয়। তাদের এগুলো বন্ধ করতে হবে। এছাড়া ফিলিস্তিনি জনগণ যাতে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সমর্থন করে এজন্য সুশীলদেরও কাজ করতে হবে।  ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কলামে বলা হয়েছে, আমরা যদি যুদ্ধ শেষের পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এমন সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। তাহলে তা হবে দিবাস্বপ্ন। কেননা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সেই ইচ্ছা বা সক্ষমতার কোনোটিই নেই। 
২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

যে শর্ত মেনে বিমা পণ্য বিক্রি করতে পারবে ব্যাংক
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৫ শতাংশের বেশি তারা ‘ব্যাংকাস্যুরেন্স’ বা বিমা ব্যবসায় অযোগ্য হবে। একই সঙ্গে মূলধন সংকট, ক্রেডিট রেটিং গ্রেড-২ এর কম থাকা এবং টানা তিন বছর মুনাফা করতে পারছে না ওইসব ব্যাংক বীমা কোম্পানির এজেন্ট হওয়া বা ব্যবসা করতে পারবে না। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রকাশ করেছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কার্যরত তপশিলি ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকাস্যুরেন্স প্রবর্তন করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৭(১)(ল) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনক্রমে সব তপশিলি ব্যাংক বিমা কোম্পানির ‘করপোরেট এজেন্ট’ হিসেবে বিমা পণ্য বিপণন ও বিক্রয় ব্যবসা ১২ ডিসেম্বর থেকে করতে পারবে।   ‘ব্যাংকাস্যুরেন্স’ অর্থ ব্যাংক এবং বিমা কোম্পানির মধ্যে একটি অংশীদারত্ব ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ব্যাংক তার গ্রাহকদের নিকট বিমাপণ্য বিপণন ও বিক্রয় করতে পারবে। তবে এজন্য অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) থেকে করপোরেট এজেন্ট লাইসেন্স নিতে হবে।   ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসা করতে হলে ব্যাংকের অবশ্যই ঝুঁকিবারিত সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণের অনুপাত বা ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেট রেশিও (সিআরএআর)  সাড়ে ১২ শতাংশ থাকতে হবে। ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ক্রেডিট রেটিং গ্রেড-২ এর কম হলে বিমা ব্যবসা করতে পারবে না। মোট বিতরণ করা ঋণের ৫ শতাংশের বেশি খেলাপি হলে ‘ব্যাংকাস্যুরেন্স’ ব্যবসায় অযোগ্য হবে। আর কোনো ব্যাংকে বিমা ব্যবসার জন্য আগ্রহী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দক্ষ ও উপযুক্ত জনবলের প্রত্যয়ন থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬১টি তপশিলি ব্যাংকের মধ্যে ৩৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ শতাংশের বেশি। এসব ব্যাংক বিমার করপোরেট গ্রাহক হতে বাদ পড়বে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি এবং বিশেষায়িত ২টি ব্যাংকের খেলাপির কারণে গ্রাহক হতে পারবে না। অপরিদেক ২৭টি ব্যাংকের খেলাপি ৫ শতাংশের কম হওয়ায় গ্রাহক হতে পারবে। তবে শর্ত অনুযায়ী শরিয়াহভিত্তিক মোট ১০ ব্যাংকের মধ্যে ৭টি এবং বিদেশি ৯টি ব্যাংকের মধ্যে ৭টি ব্যাংকস্যুরেন্স হওয়ার যোগ্য হিসাবে বিবেচিত। এছাড়া ধারাবাহিকভাবে তিন বছরের মুনাফা করেছে এমন ব্যাংকের সংখ্যাও কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকাস্যুরেন্স চুক্তি সংশোধন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। চুক্তির মেয়াদ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক চুক্তি নবায়ন বা মেয়াদ বাড়ানো হালনাগাদ তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। বিমার পলিসি হোল্ডারের পরিষেবা পেতে ধারাবাহিক সহযোগিতা করবে বিমা কোম্পানিগুলো। বিমার গ্রাহক বিমার মেয়াদপূর্তিতে প্রাপ্য অর্থ যেন গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে সে বিষয়টি ব্যাংকেই নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকের অনুকূলে বিমা পলিসি নবায়নের কমিশন চলমান থাকবে। এতে বলা হয়েছে, প্রতি ৩ বছর পরপর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা ব্যাংকাস্যুরেন্স চুক্তি পর্যালোচনা করতে হবে। বিদ্যমান চুক্তির নবায়ন বা সংশোধন করা হলে ব্যাংকসমূহ তা লিখিতভাবে নবায়ন বা সংশোধনের ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। ব্যাংক কোনোভাবেই বিমা গ্রাহককে অস্পষ্ট তথ্য দিতে পারবে না। ব্যাংকাস্যুরেন্স ম্যানেজার বা দায়িত্বরত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের গ্রাহকের নিকট বিমাপণ্য বিক্রয় করতে পারবে না। ব্যাংক বিমাকারীর বিমা সংক্রান্ত কোনো ঝুঁকি গ্রহণ করবে না এবং বিমাকারী হিসেবে কাজ করবে তার স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিতে হবে। ব্যাংকের গ্রাহকরা নিজেদের হিসাব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বিমার প্রিমিয়ামের যাবতীয় সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রধান বিমা কর্মকর্তাকে কমপক্ষে স্নাতকোত্তর পাস হতে হবে। ব্যাংক অথবা বীমা প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ১২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর ব্যাংকাস্যুরেন্স ম্যানেজারকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। বিমার জন্য শাখা নেটওয়ার্ক, বিক্রয় নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল মাধ্যম বাধ্যকামূলকভাবে থাকতে হবে। এছাড়া বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কর্তৃক নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী বিমাকারী এবং ব্যাংকের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী কমিশন নির্ধারণ করবে।
২০ ডিসেম্বর, ২০২৩

ইসরায়েলকে দুই শর্ত হামাসের
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের আলোচনা চলছে। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র। মিশরের দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রোববার জানায়, ইসরায়েল এবং হামাস উভয়ই নতুন যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির চুক্তি চায়। তবে কীভাবে এটি কার্যকর হবে, সে বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, হামাস ইসরায়েলকে দুটি শর্ত দিয়েছে। প্রথমটি হলো—তারা বলছে কোন জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে, সে তালিকা তারাই তৈরি করবে। দ্বিতীয়টি হলো—ইসরায়েলি সেনাদের পূর্ব নির্ধারিত অবস্থানে পিছিয়ে যেতে হবে। ইসরায়েল হামাসের তালিকা তৈরির বিষয়টিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। তবে তারা এজন্য একটি সময়সীমা ও তালিকা দেখানোর দাবি জানিয়েছে। মূলত যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারণ করার জন্য ইসরায়েল এমন দাবি করেছে। তবে সেনাদের পূর্ব নির্ধারিত অবস্থানে প্রত্যাহার করে নেওয়ার যে শর্ত হামাস দিয়েছে, সেটি ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। শুক্রবার গাজা সিটিতে ভুলক্রমে তিন জিম্মিকে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি সেনারা। ওই জিম্মিদের মৃত্যুর পর হামাসের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি-বন্দি বিনিময় চুক্তি করার জন্য বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার ওপর চাপ তৈরি হয়। এর পরই হামাসের সঙ্গে নতুন চুক্তির আলোচনা শুরু করে দখলদার ইসরায়েল। রয়টার্স আরও জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার দাবি জানিয়েছে, গাজায় সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে ইসরায়েলকে।
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

ঘুমানোর আগে ও পরের দোয়া
ঘুম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অশেষ নিয়ামত। পবিত্র কোরআনের সুরা ফোরকানের ৪৭ নম্বর আয়াতে নিজেই বলেছেন, ‘আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে করেছেন আরামপ্রদ আর দিনকে করেছেন (নিদ্রারূপী সাময়িক মৃত্যুর পর) আবার জীবন্ত হয়ে ওঠার সময়।’ অপরদিকে সুরা নাবার ৯-১০ নম্বর আয়াতে ঘুমকে প্রত্যেক জীবের জন্য প্রশান্তির মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমাদের ঘুমকে শান্তির উপকরণ বানিয়েছি। আর রাতকে আবরণ করে দিয়েছি।’ নির্দিষ্ট কর্মসম্পাদনের পর প্রত্যেক সৃষ্টিই আল্লাহর দেওয়া ব্যবস্থাপনায় ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় তারা সম্পূর্ণরূপে অক্ষম ও অচেতন হয়ে যায়। অতঃপর ঘুম ক্লান্তি দূর করে পরবর্তী সময়ে নতুন করে পরিশ্রমের শক্তি জোগায়। ঘুম শেষে মানুষ যখন আবার জেগে ওঠে, তখন সে কোথায় ছিল, কী অবস্থায় ছিল—তার কিছুই বলতে পারে না। ইতিহাসে আসহাবে কাহাফ বা গুহাবাসীর বর্ণনা পবিত্র কোরআনে এসেছে। তারা কয়েকশ বছর ঘুমিয়ে যখন জেগে ওঠে, তখন তাদের অনুভব হয়েছিল, তারা একদিনের কিছু বেশি সময় ঘুমিয়েছে। আবার কেউ বলে, তারা একবেলা ঘুমিয়েছে। অথচ তারা কয়েকশ বছর ঘুমিয়েছিল। আবার অনেকে নানাবিধ দুশ্চিন্তায় চাইলেও ঠিকঠাক ঘুমাতে পারেন না। তাই ইসলাম আমাদের বাস্তবধর্মী ঘুমের দোয়া শিক্ষা দিয়েছে। ঘুমানোর আগের দোয়া   اَللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا   উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমারই নামে ঘুমাই এবং তোমার নামেই জাগ্রত হই।’ হজরত হুজাইফাহ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের বেলায় নিজ বিছানায় শোয়ার (ঘুমানোর আগে) সময় নিজ গালের নিচে হাত রাখতেন আর এই দোয়া পড়তেন। (সহিহ বুখারি : ৩৩১৪) ঘুম থেকে জাগার পরের দোয়া   الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ বাংলা উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়া না বা’দা মা আমা তানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর। অর্থ : ‘সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি ঘুমের পর আমাদের জাগ্রত করেছেন এবং আমাদের তার কাছেই ফিরে যেতে হবে।’ আবার যখন মহানবী (সা.) ঘুম থেকে সজাগ হতেন, তখন এই দোয়া বলতেন। (বুখারি : ৬৩১২) দোয়া কবুল হওয়ার শর্ত # হালাল, বৈধ ও পবিত্র জীবিকার ওপর নির্ভর হতে হবে। # হারাম উপার্জন (ফাঁকি, ধোঁকা, ওজনে কমবেশি, ভেজাল, খেয়ানত) ও হারাম খাদ্য থেকে বিরত থাকতে হবে। # দুনিয়াতে সবকিছুই শুধু আল্লাহর কাছে চাওয়া এবং বেশি করে চাওয়া। # সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে দোয়া করা। # আল্লাহর নাম ও ইসমে আজম দ্বারা দোয়া করা। # সৎকাজের আদেশ করা এবং অন্যায় কাজের নিষেধ করা। # দোয়ায় সর্বদা কল্যাণময় বিষয় কামনা করা। # মনোযোগ সহকারে দোয়া করা। # দোয়ার ফলাফলের জন্য ব্যস্ত না হওয়া। # দোয়া কবুল হওয়ার দৃঢ় আশা পোষণ করা।  
০৮ ডিসেম্বর, ২০২৩
X