

মালির উত্তরাঞ্চলের শহর আনেফিস থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় বিদ্রোহী তুয়ারেগ গোষ্ঠীদের হামলায় অন্তত ৫০ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর এএফপির।
রোববার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার আনেফিস ছেড়ে যাওয়া সেনাবাহিনীর একটি বহরে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছিল।
চলতি মাসের শুরুতে তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এফএলএ অল্প সময়ের জন্য আনেফিসের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং মালির সেনাবাহিনী ও রাশিয়ান আফ্রিকা কর্পসের ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটি ঘিরে ফেলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালির জান্তা সরকারের ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, হামলায় অন্তত ৫০ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত ২৪ জনকে বন্দি করা হয়েছে। তার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি মালির সেনাবাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। হামলার দায় স্বীকার করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এফএলএ।
মালির সেনাবাহিনীর এক সদস্য জানান, নিহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আটক করার পর সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কী কারণে সেনারা এতটা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, সেনাবাহিনীকে সহায়তা করা রাশিয়ান আফ্রিকা কর্পসের সদস্যরা হামলার আগেই গাও শহরে পৌঁছে যাওয়ায় তাদের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
গাও অঞ্চলের এক কমিউনিটি নেতা বলেন, নিহতরা সবাই মালির সেনাবাহিনী ও সরকার-সমর্থিত মিলিশিয়া সদস্য। রুশ বাহিনীর কেউ এই হামলায় নিহত হননি।
শনিবার মালির সেনাবাহিনী সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে স্বীকার করে যে তাদের বহর সন্ত্রাসী সশস্ত্র গোষ্ঠীর অতর্কিত হামলার মুখে পড়েছিল। তবে তারা হতাহতের কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
২০২০-২১ সালের পরপর দুটি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মালি সামরিক সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও জিহাদি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা দমনে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে দেশটির জান্তা সরকার।