কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কুমারী মেয়ের নীরবতাই সম্মতি, আফগান সরকারের নতুন আইন জারি

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানে বিয়ে, তালাক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে নিয়ে নতুন পারিবারিক আইন জারি করেছে তালেবান সরকার। নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, কুমারী মেয়ের নীরবতা বিয়ের সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে। আইনটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

৩১ অনুচ্ছেদের এই অধ্যাদেশের নাম দেওয়া হয়েছে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদসংক্রান্ত নীতিমালা। তালেবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অনুমোদনের পর এটি আফগানিস্তানের সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়।

নির্বাসনে থাকা আফগান সাংবাদিকদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আমু টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আইনে বিয়ে, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব ও বিয়ে বাতিলসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিধানের একটি অংশে বলা হয়েছে, কোনো কুমারী মেয়ে বিয়ের প্রস্তাবে নীরব থাকলে সেটিকে সম্মতি হিসেবে ধরা হবে। তবে ছেলে বা আগে বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

আইনটিতে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়েও বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাবা ও দাদাকে এ ধরনের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

তালেবান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি পাত্র সামাজিকভাবে উপযুক্ত হয় এবং দেনমোহর ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে, তাহলে আত্মীয়দের মাধ্যমে ঠিক করা অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়েও বৈধ হবে।

এছাড়া বালেগ হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নামে একটি বিধান রাখা হয়েছে। এর আওতায় বয়ঃসন্ধিকালের আগে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তার আবেদনের ভিত্তিতে বাতিল করা যেতে পারে। তবে এজন্য ধর্মীয় আদালতের অনুমোদন লাগবে।

নতুন আইনে ব্যভিচার, ধর্মত্যাগ, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও জিহার সংক্রান্ত বিরোধেও তালেবান বিচারকদের হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির নির্দেশ দিতে পারবেন বিচারকরা।

২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নারীদের ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে তালেবান। ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের নিষিদ্ধ করা, চাকরি, ভ্রমণ ও জনজীবনে অংশগ্রহণে কঠোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগেই সমালোচনার মুখে পড়েছে গোষ্ঠীটি।

ইসলামি আইনে কী বলা আছে

ইসলামি ফিকহে বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর সম্মতি বাধ্যতামূলক। সহিহ হাদিসে এসেছে, কুমারী মেয়ের অনুমতি নিতে হবে এবং তার নীরবতাকে সম্মতির আলামত হিসেবে ধরা যেতে পারে; যদি সে লজ্জার কারণে সরাসরি কিছু না বলে। তবে জোরপূর্বক বিয়ে ইসলামি শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।

হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, কুমারী মেয়ের অনুমতি নিতে হবে, আর তার নীরবতাই তার অনুমতি। একই সঙ্গে তিনি জোর করে বিয়ে দেওয়া নারীর বিয়ে বাতিল করার ঘটনাও অনুমোদন করেছিলেন।

ইসলামি আইনবিদদের মতে, এই বিধান প্রযোজ্য তখনই, যখন মেয়েটি স্বাভাবিক অবস্থায়, ভয় বা চাপ ছাড়াই নীরব থাকে এবং তার মতামত প্রকাশেরও সুযোগ থাকে।

সূত্র : এনডিটিভি

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনাকে চমকে দিয়ে আবারও সমতায় কেপ ভার্দে

লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোলে আবারও এগিয়ে আর্জেন্টিনা

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

পৃথিবীকে চমকে দিয়ে সমতায় ফিরল কেপ ভার্দে

কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে নতুন যে রেকর্ড গড়লেন মেসি

মেসির গোলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

প্রথমবার নকআউটে নেমেই বাজিমাত, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল মিসর

দেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: এমপি তাহসিনা রুশদীর

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ ঘোষণা

অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে প্রথমবার শেষ ষোলোতে মিসর

১০

আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগেই বিশ্বকাপ জয়ের ঘোষণা কেপ ভার্দের

১১

চট্টগ্রামে অসহায় ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

১২

বদলে গেল ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের সময়!

১৩

মিসরের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া

১৪

আলি খামেনির জানাজায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানায়নি ইরান 

১৫

পুরো কেপ ভার্দে স্কোয়াডের বাজারমূল্য শুধু আলভারেজেরই অর্ধেক

১৬

যুক্তরাজ্যের আর্কাইভে মিলল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল কপি

১৭

খামেনির জানাজার আগে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ

১৮

আর্জেন্টিনা–কেপ ভার্দে ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে বড় সতর্কবার্তা

১৯

নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আসছে এআই প্রযুক্তি: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী

২০
X