

ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলসহ সাতটি স্থানে হামলা হয়েছে। এর আগে তেহরানের আশপাশে হামলা হলেও এবার কেন্দ্রস্থলে হামলা হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
রোববার (০১ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে তেহরানের বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকাও রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট জানা যায়নি। এমনকি এসব স্থাপনা সামরিক ঘাঁটি না কি সরকারি দপ্তর তাও জানা যায়নি।
আলজাজিরা জানিয়েছে, অবস্থাদৃষ্টে ধারনা করা হচ্ছে, নগরীর বড় বড় হোটেল ও শপিংমলের কাছাকাছি এলাকা নিশানা করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাসিন্দারা বলছেন, সংঘাত এখন তাদের বাড়ির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
পরিস্থিতির অনিশ্চয়তায় বহু মানুষ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করার চেষ্টা করছেন। সংঘাত কতদিন স্থায়ী হতে পারে তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। ওই বার্তায় তিনি বলেছেন, আমরা যেকোন পরিস্থিতির জন্য নিজেদের তৈরি করেছি। এমনকি ইমাম খামেনি শহীদ হওয়ার পর কীভাবে এখন নেতৃত্ব চলবে, তার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু আমাদের সীমারেখা অতিক্রম করেছেন। এজন্য তাদের মূল্য দিতে হবে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ (ধর্মীয় আইনজ্ঞ) নিয়ে গঠিত একটি কাউন্সিল সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবেন।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) কাউকে নতুন নেতা মনোনীত না করা পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্ব দেবে।