

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই ঘোষণা দিল গোষ্ঠীটি। খবর আল জাজিরার।
সোমবার (২০ জুলাই) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে।
সারি অভিযোগ করেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর অব্যাহত অবরোধ অগ্রহণযোগ্য এবং এটি আর মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, অবরোধের জবাব অবরোধ দিয়েই দেওয়া হবে এবং প্রতিটি উত্তেজনার জবাব আরও কঠোর উত্তেজনার মাধ্যমে দেওয়া হবে।
হুতিদের দাবি, গত সপ্তাহে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জন্য সৌদি আরব দায়ী। এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইয়াহিয়া সারি আরও বলেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সব ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সৌদি আরবের যেকোনো বেপরোয়া পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
তিনি ইয়েমেনের জনগণের প্রতি সাধারণ সমাবেশ ও অস্ত্রধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধাদের সহায়তা করতে হবে।
এর আগে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব বন্ধ করতে প্রস্তুত থাকতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদেরকে নির্দেশ দেয় তেহরান। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে হুতিদের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুইজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক এক সূত্র পরিচয় গোপন রাখার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি হুতিদের এই প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হুতিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনটি ইতোমধ্যে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করেছে। ইয়েমেনের হোদেইদা উপকূল, এডেন উপসাগরসংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় এসব অস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই তারা জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে হামলা শুরু করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই বন্ধ থাকায় বাব আল-মান্দেবেও অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান জ্বালানি রপ্তানি পথ একযোগে কার্যত অচল হয়ে পড়বে। এতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।