

দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতির কারণে শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ট্যাংকে হামলায় একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডারসহ চার সেনা নিহত হয়। এরপর তারা দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লেবাননের তেবনিত গ্রামের কাছে একটি ইসরায়েলি ট্যাংকে সন্দেহজনক হামলা চালানো হয়। এর জবাবে নাবাতিয়েহসহ বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায় আইডিএফ।
চার সেনার মৃত্যুর পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এবার নরকের দরজা খুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গাভির বলেছেন, ‘পুরো লেবাননকে জ্বলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, ইসরায়েলকে বিশ্বকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে আমাদের সন্তানদের রক্ত ও নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া হবে না।’
ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে হিজবুল্লাহর হামলায় অন্তত ৩৪ জন ইসরায়েলি সেনা ও চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে দেশটিতে প্রায় চার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক এবং কতজন যোদ্ধা, সে বিষয়ে আলাদা কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও তার নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।