সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আল জাজিরার বিশ্লেষণ

হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের পর কাস্পিয়ান সাগরেও ছড়িয়ে পড়ছে ইরান যুদ্ধ

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ। ছবি : সংগৃহীত
কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ। ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনের হামলায় কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে নতুন এক সংযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, যদি এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের পর কাস্পিয়ান সাগরও আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন মঞ্চে পরিণত হতে পারে।

ইরানের দাবি, শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনের হামলায় একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। ঘটনার পর তেহরান ইউক্রেনের কূটনীতিককে তলব করে এ হামলাকে শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক আখ্যা দেয়।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল বহনকারী জাহাজ এবং একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে।

এ ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩ রাত ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর সাময়িকভাবে তা স্থগিত করেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে ক্যাস্পিয়ান সাগর কি এখন নতুন সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে?

বিশেষ করে সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দক্ষিণে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতিদের নৌ অভিযান ইতোমধ্যেই ইরানের সমুদ্রপথে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে যদি কাস্পিয়ান সাগরও ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডোর আরও সংকুচিত হয়ে যাবে।

কেন ইউক্রেনের কূটনীতিককে তলব করল ইরান?

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের দূতকে তলব করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনের নেতৃত্ব হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং এটি তেহরানের প্রতি কিয়েভের অযৌক্তিক ও শত্রুতাপূর্ণ নীতিরই ধারাবাহিকতা। ইরান সতর্ক করে জানায়, তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

ইরান আরও অভিযোগ করে, এই হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন এবং এর ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে ফোনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আরাগচি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় প্রতিক্রিয়া দাবি করেন। পাশাপাশি হামলাকারী এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোর জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এতে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদানকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তেহরান আবারও জোর দিয়ে জানায়, তারা কখনোই সরাসরি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেয়নি।

ইউক্রেন কী বলছে?

জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ইউক্রেন কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে খুবই শক্তিশালী ফলাফল অর্জন করেছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল বহনকারী জাহাজ এবং একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ। তবে তিনি ইরান যে বাণিজ্যিক জাহাজের কথা বলছে, সেটির নাম উল্লেখ করেননি।

একই পোস্টে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে আমরা উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সেখানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর রাশিয়ার সক্রিয় স্যাটেলাইট নজরদারি লক্ষ্য করেছি। পরবর্তীতে এসব ছবি ইরানের হাতে পৌঁছেছে।

তার দাবি, হামলার আগে প্রস্তুতি এবং হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য রাশিয়ার সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করেছে ইরান।

জেলেনস্কি আরও জানান, ১৯ ও ২০ জুলাই রাশিয়ার স্যাটেলাইট বাহরাইনের দুটি, জর্ডানের একটি এবং কুয়েতের একটি বিমানঘাঁটি পর্যবেক্ষণ করেছে। তিনি বলেন, এসব তথ্য ইউক্রেন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভাগাভাগি করবে।

তিনি বলেন, রাশিয়াকে থামাতেই হবে। এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। আগ্রাসীর ওপর চাপ কার্যকর হতে হবে।

কেন ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা?

২০২২ সালে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করার পর থেকেই তেহরান ও কিয়েভের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে।

ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোনগুলো নিজেদের উপযোগী করে তৈরি করে হাজার হাজার হামলায় ব্যবহার করেছে। কিয়েভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেন ৪৪ হাজারেরও বেশি ইরানি নকশার ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ইউক্রেন উপসাগরীয় দেশগুলোকে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়া শুরু করে। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতে ইউক্রেন তাদের বিশেষজ্ঞ মোতায়েন করেছে।

সংঘাত কি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে?

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি বলেন, ইউক্রেনের এ হামলায় ইরান ক্ষুব্ধ। একই সময়ে দক্ষিণ উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধেরও মুখোমুখি রয়েছে দেশটি।

তার মতে, উত্তর উপকূলেও চাপ তৈরি হওয়ায় ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

এখনো পর্যন্ত ইরান জানায়নি যে তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিশোধ নেবে কি না। তবে ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, কিয়েভ ইরানের বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লার মধ্যে রয়েছে। ফলে তেহরান চাইলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার পথও বেছে নিতে পারে।

এ ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে, যখন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানান, উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চলছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার, মিসর, পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দিয়েছে। উদ্দেশ্য হলো গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করা।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরানে টানা ১৪তম রাতের হামলার পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হলেও তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইরানের পক্ষ থেকেও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

মধ্যস্থতার অগ্রগতি কোথায়?

যুদ্ধবিরতির এই বিরতি কূটনৈতিক তৎপরতাকেও নতুন গতি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য হতে পারে তেহরানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা আলোচনায় কিছু ছাড় দিতে বাধ্য হয়।

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি রেসুল সেরদার আতাস বলেন, ইরানের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো কাস্পিয়ান সাগরও এখন সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, ইরান ইতোমধ্যেই দক্ষিণ উপকূল, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এবং ভারত মহাসাগরে সংঘাতের মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় কাস্পিয়ান সাগরও যদি ইরানের জন্য নিরাপদ না থাকে, বিশেষ করে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, তাহলে তা বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ।

তার মতে, এই ঘটনা তেহরানে সম্ভাব্য আরও উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করা গেলে দেশটির জ্বালানি রপ্তানি ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার উপদেষ্টা মাইকেল মুলরয় আল জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে খুব বেশি বিকল্প নেই।

তার মতে, একটি সম্ভাবনা হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ছাড় দিতে বাধ্য হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায় আমি তা হওয়ার সম্ভাবনা দেখি না। সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও বলেন, অন্য বিকল্প হলো অচলাবস্থা কিংবা কার্যত একটি নৌ অবরোধ, যেখানে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। কিন্তু এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে।

মুলরয়ের মূল্যায়ন, এ মুহূর্তে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আর ইরানও হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সন্তুষ্ট বলেই মনে হচ্ছে।

কালবেলা/আইএইচ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আল ওয়াহদাহ ফাউন্ডেশনের ফ্রি কুরআন বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

পয়ঃনিষ্কাশনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, গাজীপুর সিটির ৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

মহিপালে যুবলীগ নেতা রুবেল হাজারী গ্রেপ্তার

সিলেটে শিক্ষিকার ভিডিও ভাইরাল: ‘গান গাওয়া অন্যায় নয়’, বললেন প্রতিমন্ত্রী

একদিকে তদন্ত, অন্যদিকে প্রশংসা— আর্জেন্টিনাকে নিয়ে নতুন বিতর্কে ফিফা সভাপতি

ট্রাকচাপায় পথচারী নিহত, সড়ক অবরোধে ৭ কিলোমিটার যানজট

পাউরুটিতে ক্যানসারের উপাদান, পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধে রিট

ছেলের টর্চলাইটের আঘাতে বাবার মৃত্যু

ফিলিস্তিনের দুটি মসজিদে ইসরায়েলিদের অগ্নিসংযোগ

বিচার ও সংস্কারে কোনো আপস করবে না এনসিপি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১০

মশাল মিছিলের সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৩ কর্মী গ্রেপ্তার

১১

বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে নারীর বস্তাবন্দি কংকাল

১২

রক্ত, কারাগার আর রাজপথ: ফ্যাসিবাদের দিনলিপি

১৩

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা, হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ নিহত ২

১৪

বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই ক্লাব ফুটবলেও বড় ধাক্কা রোনালদোর!

১৫

স্বামীর ওপর অভিমানে প্রাণ দিলেন নববধূ

১৬

টুথপেস্টের টিউবে নিচের রঙিন দাগ কেন থাকে?

১৭

গুনে গুনে ঘুষ নিচ্ছেন ভূমি কর্মকর্তা, ভিডিও ভাইরাল

১৮

ধর্ষণে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী নারী, যুবক গ্রেপ্তার

১৯

পদ্মার প্রবল স্রোতে ভেসে গেলেন গৃহবধূ, আধা কিলোমিটার দূরে মিলল লাশ

২০
X