কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
অনলাইন সংস্করণ
এল সালভাদর

১২ বছরের শিশুদের যাবজ্জীবন সাজার বিধান রেখে আইন পাস

স্বজনদের বিক্ষোভ। পুরোনো ছবি: সংগৃহীত
স্বজনদের বিক্ষোভ। পুরোনো ছবি: সংগৃহীত

মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরে নতুন একটি কঠোর আইন পাস করেছে। আইনে ১২ বছর বয়সী শিশুদেরও গুরুতর অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, হত্যা, সন্ত্রাসবাদ বা ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। আইনটি আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপটি দেশটির প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলের নেতৃত্বে গ্যাং সহিংসতা দমনে নেওয়া কঠোর নীতির অংশ। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের আইন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াবে।

২০২২ সালের মার্চ থেকে এল সালভাদরে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। এর ফলে নাগরিকদের কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। শুরুতে ৩০ দিনের জন্য জারি করা এই জরুরি অবস্থা বহুবার নবায়ন করা হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান চালানো হয়েছে এবং ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশটির প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ কারাগারে রয়েছে, যা বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ হার। এছাড়া অনেক বন্দিকে অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে এবং অনেককে একসঙ্গে গণবিচারের আওতায় আনা হয়েছে। এ আইনে একসঙ্গে ৯০০ জন পর্যন্ত বিচার করা সম্ভব।

জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ এই আইনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, শিশুদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এতে অপরাধ কমার সম্ভাবনাও কম।

এছাড়া জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের সঙ্গে এ ধরনের শাস্তি সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, অপরাধে জড়িত শিশুদের ক্ষেত্রে শাস্তির চেয়ে পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃএকীভূত করার ওপর জোর দেওয়া উচিত। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরেই এল সালভাদর সরকারকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং কঠোর অপরাধবিরোধী নীতিগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল অভিযোগ করেছে, এই নীতির ফলে গত কয়েক বছরে দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট বুকেলেও স্বীকার করেছেন, অন্তত ৮ হাজার নিরপরাধ ব্যক্তি আটক হয়েছেন।

কালবেলা/এমএসকেএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরান নির্ধারণ করবে: তেহরান

অচল খুচরা টাকা  / টাঙ্গাইলে ১-৫ টাকা নোটের বদলে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে চকলেট

আর্জেন্টিনার কোচকে মিথ্যাবাদী বললেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার

বঙ্গোপসাগরের এক ইলিশ সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি

স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায় যে ১২ খাবার

সবজির দাম নাগালের বাইরে, বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

রাকসুর জিএস আম্মারের ওপর হামলার অভিযোগ

একসঙ্গে ৯৩ শিক্ষানবীশ সহকারী পুলিশ সুপারকে পদায়ন

‘জেলেনস্কিকে অবশ্যই ইরানি জাহাজে হামলার পরিণতি ভোগ করতে হবে’

দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রাণ গেল অটোরিকশাচালকের

১০

হলিউডে পা রোনালদোর, কোন চরিত্রে?

১১

প্রেম করে দ্বিতীয় বিয়ে, তালাক দেওয়ায় যে কাণ্ড ইউপি সদস্যের

১২

লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

১৩

খাগড়াছড়িতে বিজিবি-চোরাকারবারিদের গোলাগুলি, আগ্নেয়াস্ত্র ও ভারতীয় রুপি উদ্ধার

১৪

সময় বেঁধে সিএনজি স্টেশন মালিকদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

১৫

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

১৬

বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারির হঠাৎ অবসর

১৭

মন্তব্যকারীদের অফিসে এসে কথা বলার আহ্বান ওমর সানীর

১৮

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন: মির্জা ফখরুল

১৯

চট্টগ্রামে চীনা বিনিয়োগের নতুন অধ্যায়

২০
X