

তীব্র সৌর বিকিরণের কারণে ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে হস্তক্ষেপের ঝুঁকি ধরা পড়ায় বিশ্বজুড়ে হাজারো এয়ারবাস বিমান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রায় ছয় হাজার এ৩২০ সিরিজের বিমান এই সমস্যার কারণে প্রভাবিত হয়েছে। এ সংখ্যা ইউরোপীয় নির্মাতা সংস্থার বৈশ্বিক বহরের প্রায় অর্ধেক।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এয়ারবাস জানিয়েছে, অধিকাংশ বিমানে মাত্র তিন ঘণ্টার একটি দ্রুত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তবে প্রায় ৯০০ পুরনো মডেলের বিমানে অনবোর্ড কম্পিউটার সম্পূর্ণভাবে বদলাতে হবে, যতক্ষণ না তা সম্পন্ন হচ্ছে ততক্ষণ তারা যাত্রী বহন করতে পারবে না।
যুক্তরাজ্যের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব এবং বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও দেশের বেশিরভাগ বড় বিমানবন্দরে প্রভাব সীমিত। গ্যাটউইক কিছুটা ব্যাঘাতের কথা জানালেও হিথরো জানিয়েছে, এখনো কোনো বড় সমস্যা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে চলাচলকারী একটি ফ্লাইট গত অক্টোবরে হঠাৎ উচ্চতা হারিয়ে জরুরি অবতরণ করলে এয়ারবাসের এই ত্রুটি সামনে আসে। জেটব্লু এয়ারওয়েজের সেই ফ্লাইটে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
বিবিসি জানিয়েছে, এ৩১৮, এ৩১৯, এ৩২০ এবং এ৩২১— এই চারটি মডেলই ঝুঁকিতে রয়েছে। বিভিন্ন দেশে এর প্রভাবও ভিন্নভাবে পড়েছে। যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তুলনামূলক কম প্রভাবিত হলেও উইজ এয়ার এবং এয়ার ইন্ডিয়া ইতোমধ্যে আপডেট শুরু করেছে।
এছাড়া ফ্রান্সে এয়ার ফ্রান্সের বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার সকালে শুধু প্যারিস থেকে ৫০টি ফ্লাইট বাতিল হয়। ইউরোপে ইজিজেট জানিয়েছে, কিছু ব্যাঘাত দেখা দিলেও অনেক বিমানে ইতোমধ্যে আপডেট সম্পন্ন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে, থ্যাঙ্কসগিভিং ভ্রমণ মৌসুমে সমস্যাটি দেখা দেওয়ায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ৩৪০টি বিমান প্রভাবিত হলেও বেশিরভাগ আপডেট শুক্র ও শনিবারের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় জেটস্টার ৯০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
এয়ারবাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি যাত্রী ও গ্রাহকদের জন্য ‘অপারেশনাল বিঘ্ন’ সৃষ্টি করবে। এজন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এভিয়েশন বিশ্লেষক স্যালি গেথিন বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা ‘অত্যন্ত বিরল’ এবং কোন এয়ারলাইন কীভাবে দ্রুত আপডেট সম্পন্ন করে তার ওপরই যাত্রী ভোগান্তির মাত্রা নির্ভর করবে।
মন্তব্য করুন