

ইরানের বিরুদ্ধে প্রথমে সীমিত লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানোর কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে পরে আরও বড় আকারের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। এ বৈঠককে সামরিক সংঘাত এড়ানোর শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলোচনা ভেস্তে গেলে কী করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
খবরে বলা হয়, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদরদপ্তর, পারমাণবিক স্থাপনা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অবকাঠামো রয়েছে। প্রাথমিক হামলার মাধ্যমে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ছাড়তে চাপ দেওয়া হতে পারে।
যদি তাতেও ইরান নতি স্বীকার না করে, তবে বছরের শেষ দিকে আরও বড় সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্প খোলা রাখা হতে পারে। এর লক্ষ্য হতে পারে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ক্ষমতা দুর্বল করা—এমন ইঙ্গিতও প্রতিবেদনে রয়েছে।
অন্যদিকে পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বড় ধরনের হামলা হলে ইরান ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলার নির্দেশ দিতে পারে। গোয়েন্দা মহলে কিছু যোগাযোগ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যদিও নির্দিষ্ট কোনো হামলার পরিকল্পনা এখনো শনাক্ত হয়নি।
ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠী আবার লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজে হামলা শুরু করতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ইউরোপে হিজবুল্লাহর ঘুমন্ত সেল কিংবা অন্য জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালকের একটি প্রস্তাব নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে শুধু চিকিৎসা গবেষণার জন্য সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ নীতির কথাই বলছে। ইরানও তাদের পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির অধিকার ছাড়তে রাজি নয় বলে জানিয়েছে।
১৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইরানে বিশেষ অভিযান চালানোর কিছু পরিকল্পনা অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে। একাধিক বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি।
অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি ইউরোর একটি অস্ত্রচুক্তি করেছে। এর আওতায় আগামী কয়েক বছরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার হচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা আসন্ন বৈঠক ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।