

ইসরায়েল শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বহরে হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শেষে দেশে ফেরার পথে ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে ইসরায়েল। এমন কোনো হামলা হলে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি নেতাদের হত্যার যেকোনো চেষ্টা চলমান আলোচনা বন্ধ করে দিয়ে আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারত।
নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানায়, আলোচনার সময় গালিবাফ ইসরায়েলের সম্ভাব্য টার্গেট তালিকায় রয়েছেন, এমন তথ্য জানতে পেরে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিতে অনুরোধ করেছিল।
এদিকে, ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরানও ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আশ্বাস চেয়েছিল, যাতে আলোচনায় অংশ নেওয়া তাদের প্রতিনিধিদলকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা না হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদ সফরের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানকে যাতায়াতের সময় এসকর্ট দেয়। ফেরার পথে ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিনিধিদলকে জানায়, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইসরায়েল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইরাক সীমান্তঘেঁষা পশ্চিম দিক দিয়ে দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে।
গালিবাফের সফরসঙ্গী ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।