

সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে পাঁচ ছর বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভাগজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নতুন করে কোনো হাম রোগী শনাক্ত না হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যু হয়।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৭৫ জন ভর্তি রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে হামে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ জনে।
মৃত্যু শিশুর বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।
মারা যাওয়া শিশু হলো, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার খাগাপাশা ইউনিয়নের চুমকপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিনের ৫ বছরের ছেলে আবু হুরাইয়া।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৪১৮ জনের হাম ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জে ২৩৪ জন, সিলেটে ১৩১ জন, হবিগঞ্জে ৩৭ জন (এর মধ্যে ২ জন রুবেলা) এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪০ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৪ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৭৫ জন।
এরমধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১১২ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৪ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৪ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ১ জন, লায়ন্স হাসপাতালে ৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৮ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরো জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে মোট ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে সিলেটে ৩১ জন, সুনামগঞ্জে ৩৭ জন, মৌলভীবাজারে ১১ জন এবং হবিগঞ্জে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে পাঁচ বছর বয়সী আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৭৫ জন ভর্তি রয়েছেন। এ নিয়ে ৮৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।