

কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া ১৪ বছর পুরোনো বোয়িং ৭৪৭-৮০০ উড়োজাহাজটিকে আরও উন্নত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দিয়ে আধুনিক করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার নিউ জার্সি থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পর ওই উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এতে অনেক সক্ষমতা রয়েছে। তবে প্রায় এক মাসের মধ্যেই এটিকে আরও উন্নত করার জন্য পাঠানো হবে। এরপর এটি সর্বোচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন হবে।’
তবে ঠিক কী ধরনের উন্নয়ন করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, উড়োজাহাজটিতে শুরু থেকেই প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।
চলতি মাসের শুরুতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প সম্প্রতি তুরস্ক সফরে যে নতুন উড়োজাহাজটি ব্যবহার করেছিলেন, তাতে প্রচলিত এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছিল না। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে এফবিআই।
কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া উড়োজাহাজটি দ্রুত সংস্কার করে অন্তর্বর্তীকালীন এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত এয়ারফোর্স ওয়ানের তুলনায় এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।
প্রেসিডেন্টের জন্য নির্মিত এয়ারফোর্স ওয়ানে সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা, পারমাণবিক বিস্ফোরণের তড়িৎচৌম্বকীয় অভিঘাত থেকে সুরক্ষা, আকাশে জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা থাকে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্প এই উড়োজাহাজে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক সফর করেন। তবে ফেরার পথে তিনি পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস তাকে পুরোনো বিমান ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, বোয়িংয়ের নতুন দুটি প্রেসিডেন্টীয় উড়োজাহাজ সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় কাতারের দেওয়া বিমানটি আপাতত বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।