

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকাকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল সরকার। ১৯৬৭ সালে অঞ্চলটি দখলের পর এই প্রথম এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই পদক্ষেপকে আরব দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ‘বৃহৎ ভূমি দখল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কেএএন জানায়, প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।
সরকারি সিদ্ধান্তের আগে দৈনিক ইসরায়েল হায়োম জানায়, প্রাথমিক লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে এরিয়া সি-এর ১৫ শতাংশে ধাপে ধাপে বসতি স্থাপন।
১৯৯৫ সালের ওসলো-২ চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের এরিয়া এ সম্পূর্ণ ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এরিয়া বি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নিয়ন্ত্রণে হলেও এর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে ইসরায়েল। অন্যদিকে এরিয়া সি এর অধীনে থাকা পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ সম্পূর্ণ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে যেসব জমির অন্য মালিকানা প্রমাণিত নয়, সেগুলোকে রাষ্ট্রীয় জমিতে রূপান্তর করা হবে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে আইন প্রয়োগের ঘোষণা ছাড়াই ইসরায়েল ভূমির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করবে।
এই পদক্ষেপটি গত সপ্তাহে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অনুমোদিত একাধিক ব্যবস্থারই ফল। এর প্রধান লক্ষ্য পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং তেল আবিবের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি। তবে মিশর, কাতার ও জর্ডান সিদ্ধান্তটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছে। মিশরের সরকার এক বিবৃতিতে এটিকে ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার লক্ষ্যে বিপজ্জনক উত্তেজনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কাতার জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে রূপান্তরের এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ করবে। প্যালেস্টাইন অথরিটি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এটি কার্যত সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার সূচনা এবং সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল করার পদক্ষেপ।
ইসরায়েলের ‘পিস নাও’ রোববার এই সিদ্ধান্তকে ‘মেগা ল্যান্ড গ্র্যাব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।