

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের সামরিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইসরায়েল সফররত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দুদিনের সফর শেষে গতকাল বুধবার এ সংবাদ সম্মেলন হয়। এর আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বাণিজ্য, সামরিক, প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) নানা বিষয় নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন মোদি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
তেল আবিবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন, উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করবে।
বক্তব্যে মোদি বলেন, মানবতা কখনোই সংঘাতের শিকার হওয়া উচিত নয়। এদিন তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার কথা জানান। আর নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে বলেন, ভারতের কাছে আমাদের অনেক ঋণ। এর আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এর আগে মোদি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা শিক্ষা, স্টার্ট-আপ, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এর আগে মোদি হলোকাস্টে নিহতদের স্মরণে ইসরায়েলের সরকারি স্মৃতিসৌধ ইয়াদ ভাশেমে শ্রদ্ধা জানান।
এর আগের দিন মোদি দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি দৃঢ় সমর্থন নিয়ে ইসরায়েলের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ইসরায়েল সফরে গিয়ে মোদি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে মোদি বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় যারা জীবন হারিয়েছেন এবং যেসব পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে, তাদের জন্য ভারতের জনগণের গভীর শোকবার্তা আমি সঙ্গে করে এনেছি।
বুধবার ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে মোদিকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং উড়োজাহাজ থেকে নামার পর নেতানিয়াহু তাকে আলিঙ্গন করে স্বাগত জানান।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মুখপাত্র বেড্রোসিয়ান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, দুই নেতার মধ্যে বিশেষ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে বন্ধন দৃঢ়—আমরা উদ্ভাবন, নিরাপত্তা এবং সমন্বিত কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে একসঙ্গে কাজ করি।