

হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না। তারা প্রতিশোধ না নিয়ে বরং সংযম দেখাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ভয় এবং মিত্রদের ওপর পুরোপুরি ভরসা না থাকা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আরও দেশ যেন এ যুদ্ধে যোগ দেয়। তিনি বলেন, ইরান বিশ্বকে হুমকি দিচ্ছে, তাই সবাইকে একসঙ্গে এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এ আহ্বানে কোনো দেশ সাড়া দিচ্ছে না। যদিও আরব দেশগুলো নিজেরাও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।
একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে প্রায় ৪ হাজার ৯০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে, যেখানে ইসরায়েলের দিকে গেছে প্রায় ৮৫০টি। ইরান দাবি করেছে, তারা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। কিন্তু বাস্তবে আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর ও হোটেলেও আঘাত লেগেছে, ফলে মানুষ হতাহত হয়েছে।
তবুও উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি পাল্টা আক্রমণ করছে না। তারা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নিয়েছে—ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে, কিন্তু ইরানে আক্রমণ করছে না।
কুয়েতের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ফাহদ আল শেলেমি এ কৌশলকে ‘পজিটিভ এয়ার ডিফেন্স’ বলেছেন। তার মতে, তারা ইরানের ফাঁদে পা দিতে চায় না, কারণ ইরান চায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, যেখানে উভয়পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো—এ যুদ্ধকে অনেকেই নিজেদের যুদ্ধ মনে করছে না। তাদের মতে, এটি মূলত ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পুরোপুরি আস্থা নেই। আশঙ্কা রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে যুদ্ধ থেকে সরে গেলে উপসাগরীয় দেশগুলো একা পড়ে যেতে পারে—যেমন অতীতে কিছু ক্ষেত্রে হয়েছে।
ইতিহাসে এমন উদাহরণ রয়েছে। যেমন, হোসনি মোবারক দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ছিলেন, কিন্তু ২০১১ সালের আন্দোলনের সময় তাকে ক্ষমতা ছাড়তে বলা হয়। আবার সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করলেও পরে তারা একা হয়ে যায়। এ অভিজ্ঞতা থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো শিখেছে যে বাইরের শক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও একটি বড় কারণ হলো ভৌগোলিক ঝুঁকি। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা উপসাগরীয় শহরগুলোর খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে দ্রুত বড় আকার ধারণ করতে পারে।
এ ছাড়া কিছু উপসাগরীয় দেশে শিয়া জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আছে। এতে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার আশঙ্কাও থাকে।
দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ সালাম আবদেল সামেদ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো সাধারণত যুদ্ধপ্রবণ নয়। তারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির ওপর নির্ভরশীল। তাই যুদ্ধে জড়ানো তাদের জন্য ক্ষতিকর।