বিশ্ববেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

শুধু চীনই পারে ইরান যুদ্ধ শেষ করতে

এশিয়া টাইমসের প্রতিবেদন
ইরান ও চীনের পতাকা নিয়ে গ্রাফিক্স। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও চীনের পতাকা নিয়ে গ্রাফিক্স। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র আবারও সেই পুরোনো বাস্তবতা বুঝতে পারছে—অনেক প্রাণহানি ও বিপুল খরচের পর—তারা যে সংঘাত শুরু করেছে, তা যুদ্ধক্ষেত্রে জেতা সম্ভব নয়। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাতও মধ্যপ্রাচ্যের আগের অনেক যুদ্ধের মতোই শুরু হয়েছিল শক্তি প্রদর্শন ও সরকার পরিবর্তনের কথা বলে। কিন্তু এখন এটি খরচ বৃদ্ধি, দিক হারানো এবং এমন এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে যা আমেরিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে না। এ পরিস্থিতিতে এক অপ্রত্যাশিত মধ্যস্থতাকারী সামনে আসছে চীন।

অনেকেই আগে বলেছিল, ইরানকে মোকাবিলা করা মানেই চীনকে মোকাবিলা করা। কিন্তু বাস্তবে এখন দেখা যাচ্ছে, বেইজিংয়ের সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দু’পক্ষেরই সম্পর্ক থাকায় চীনই একমাত্র দেশ, যে এই সংঘাত থামাতে সাহায্য করতে পারে।

চীন এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হোক তা চায় না। কারণ এতে তাদের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়, শরণার্থী সমস্যা বাড়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ে। বেইজিং আগে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছিল, কারণ তারা স্থিতিশীলতা চায়। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, সেখানে চীন বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা হলো—তারা একদিকে যুদ্ধ করছে, অন্যদিকে শান্তির কথা বলছে। তাই তারা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না। কিন্তু চীন পারে। চীন ইরানকে এমন কিছু দিতে পারে যা যুক্তরাষ্ট্র পারে না—অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার সুযোগ। ইরানের তেল এরই মধ্যেই বিভিন্ন উপায়ে চীনে যাচ্ছে। যদি চীনের মাধ্যমে একটি চুক্তি হয়, তাহলে এই বাণিজ্য বৈধ হতে পারে এবং ইরান শান্তিতে আগ্রহী হতে পারে।

ইরান জানে, সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলে তাদের পরিণতি খারাপ হতে পারে (যেমন ইরাক বা লিবিয়া)। তাই তারা টিকে থাকার পথ খুঁজছে। চীনের মাধ্যমে এমন একটি সমাধান হতে পারে, যেখানে ইরান টিকে থাকবে কিন্তু কিছু আচরণ পরিবর্তন করবে।

এখানে একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ দেওয়া হয়েছে: ১৯৭২ সালে নিক্সন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন। আজকের পরিস্থিতি উল্টো— এখন শুধু চীনই ইরানের সঙ্গে কার্যকরভাবে আলোচনা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি অপমানের কিছু নয়। বড় শক্তিগুলো অনেক সময় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করে। চীন যদি মধ্যস্থতা করতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু ছাড় দিতে হবে। যেমন—ইরানে সরকার পরিবর্তনের দাবি না করা, ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস করার চেষ্টা না করা, ইরানকে প্রকাশ্যে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য না করা। এর মানে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি সমাধান মেনে নিতে হবে, যা দেখতে ড্রয়ের মতো—কিন্তু আসলে সেটাই বাস্তবসম্মত পথ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঘটনাপ্রবাহ: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এসএসসির ফল প্রকাশে বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্ত

প্রবাসীর সংসার ছেড়ে সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে পালালেন মরিয়ম

দেশের সব মাদ্রাসায় ফুটবল খেলা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করলেও তাদের প্রেতাত্মারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে: মঞ্জু

জামায়াত নেতার ‘নারী কেলেঙ্কারি’র ঘটনায় মোংলায় কুশপুত্তলিকা দাহ

'গডজিলা' খ্যাত অভিনেত্রী কেলি হটল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

১৯ বছর পর বেতার যন্ত্রপাতি ফেরত পেলেন সাবেক এমপি লালু

নতুন ৬ শিশুসহ হাম-উপসর্গে মৃত্যু ছাড়াল ৮০০, আক্রান্তে শীর্ষে বাংলাদেশ

ফাইনালে হারার ‘কষ্ট’ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ম্যাক অ্যালিস্টার

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস পেল এটেক

১০

সম্পদের তথ্য গোপন: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ৭ বছরের কারাদণ্ড

১১

স্কুল থেকে অপহৃত ৭ বছরের শিশু পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

১২

ফ্রি খাদ্য কর্মসূচির বাজেট ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমাল ইন্দোনেশিয়া

১৩

কান কামড়ে জখমের মামলার আসামি বিএনপি নেতার প্রকাশ্যে সমাবেশ

১৪

‘বিএনপিকে একচুল ছাড় নয়’, ফেসবুকে কেন বললেন রনি

১৫

ইরানের শান্তি আলোচনার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের

১৬

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৪৬

১৭

কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিনের ওপর হামলা

১৮

‘৩০ শতাংশ না দিলে প্রকল্প নয়’—ঘুড়কা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

১৯

সন্দেহজনক কার্গো জাহাজ জব্দ করল দক্ষিণ কোরিয়া

২০
X