

ক্যাথলিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ লিও যুদ্ধের পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করা বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ব বর্তমানে ‘মুষ্টিমেয় কিছু স্বৈরশাসক বিশ্বজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।’ যারা এসব ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে এবং ফায়দা লুটতে ধর্মের নাম ব্যবহার করছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোপকে আক্রমণ করার কয়েক দিন পরই তিনি এ জোরাল মন্তব্য করলেন। বৃহস্পতিবার ক্যামেরুনে এ মন্তব্য করেন পোপ।
প্রথম আমেরিকান পোপ হিসেবে লিও যুদ্ধ জায়েজ করতে ধর্মীয় বয়ান ব্যবহারকারী নেতাদেরও সমালোচনা করেন। ক্যামেরুনের ইংরেজিভাষী অঞ্চলের বৃহত্তম শহর বামেন্ডায় এক সভায় তিনি ‘জীবন চলার পথ আমূল পরিবর্তনের’ আহ্বান জানান। এ অঞ্চলে প্রায় এক দশক ধরে চলা এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
পোপ বলেন, ‘যুদ্ধের হোতারা এমন ভাব করেন যেন—তারা জানেনই না যে, ধ্বংস করতে মাত্র এক মুহূর্ত লাগে, অথচ অনেক সময় পুনর্গঠনের জন্য পুরো এক জীবনও যথেষ্ট নয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘তারা এ সত্য দেখেও না দেখার ভান করেন যে, হত্যা আর ধ্বংসলীলায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, অথচ চিকিৎসা, শিক্ষা আর সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
এর আগে গত মাসেও পোপ একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেসব নেতাদের হাত রক্তে রঞ্জিত, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা কবুল করেন না।
মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও যুদ্ধনীতির ঘোরবিরোধী পোপ লিও। রোববার ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘পোপ হিসেবে লিওর উচিত নিজের কাজ ঠিকঠাকভাবে করা।’ পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘আমি এই পোপের একদমই ভক্ত নই।’
গত সোমবার হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলেন ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ঈশ্বর ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। এরপরই শুক্রবার এক্সে পোপ লেখেন, ‘ঈশ্বর কোনো সংঘাতকে আশীর্বাদ করেন না।’ এরপর গত মঙ্গলবার আবারও তিনি পোপকে নিয়ে কটূক্তি করেন। বুধবার ট্রাম্প যিশুর আলিঙ্গনে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন, যদিও এর আগে নিজেকে যিশুর মতো উপস্থাপন করে একটি ছবি পোস্ট করায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোপ জানান, তিনি ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলা বন্ধ করবেন না।