

রাত পোহালেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার রাজ্যের ২৯৪ বিধানসভা আসনে ভোট হবে দুই দফায়। এ রাজ্য দখলে দীর্ঘদিন ধরে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি। রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসও মসনদ টিকিয়ে রাখতে চেষ্টার ত্রুটি করছে না। সমানে সমান টেক্কা দিয়ে চলেছে দুই দল। রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে ভোটারদের মন জয় করতে তাই জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন দুই দলের নেতা ও প্রার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গে একাধিক প্রচার সভায় কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তৃণমূলের শাসননীতির কড়া সমালোচনা করেন। বিজেপিকে ভোট দিলে এসব সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। জবাব দিতে দেরি করেননি তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গতকাল এ রাজ্যের কার্শিয়াঙ, কুলটি ও শালবনিতে জনসভা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের বাংলার বাইরে বের করতে বিজেপিকে ভোট দিন। ৫ তারিখের পর শুধু বাংলা নয়, দেশ থেকে এক এক করে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে ছাড়ব। যেসব গুন্ডা গরিবদের টাকা মেরে খেয়েছে, তাদের কাছে থেকে সব হিসাব বুঝে নেব। বিজেপি এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ৪ তারিখের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুন্ডাদের খুঁজে বের করে জেলে ভরব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুন্ডারা প্রতিবাদী ভোটারদের বিরক্ত করে। আমি আজ তাদের সতর্ক করছি যেন তারা ২৩ তারিখ বাড়ির বাইরে না বের হয়। ভোটারদের বাধা দিলে তাদের ৫ তারিখে উল্টো ঝুলিয়ে দেব।
অমিত শাহ আরও বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ আসনে বিজেপিকে জেতানোর দায়িত্ব আপনাদের। ঘূর্ণিঝড় আমপানের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৩ হাজার কোটি রুপি অনুদান দিয়েছিলেন। কিন্তু সব মেরে খেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুন্ডারা। আমি আপনাদের ভরসা দিচ্ছি, তারা যেসব টাকা খেয়েছে, তাদের থেকে সব হিসাব বুঝে নেব।
তৃণমূল শাসনের কড়া সমালোচনা করে এ বিজেপি নেতা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলার মা-বোনেরা সুরক্ষিত নন। বাংলায় মমতার অনুপ্রবেশকারী গুন্ডারা সন্দেশখালীতে বছরে পর বছর নারীদের ওপর অত্যাচার করেছে। আজ বলে যাচ্ছি, সন্দেশখালী হোক, আরজি কর বা দুর্গাপুর মেডিকেল কলেজ হোক কিংবা দক্ষিণ কলকাতার ল কলেজ, প্রত্যেক নারীর ওপর অত্যাচারের হিসাব নেব। এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, আমরা বারবার কেন্দ্রকে বলি পাটের ব্যাগ না-ও। নেয় না, তারা পাটকল বন্ধ করে দেয়। আমরা খোলার চেষ্টা করছি। মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণা ভোটের আগে করা হলেও নির্বাচন কমিশন ফাইল আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাজেটে বলেছিলাম ৪ শতাংশ ডিএ দেব। নির্বাচন কমিশন আটকে রেখেছে। আমি বলব, সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে দ্রুত ফাইল ছেড়ে দাও। এটা তোমার কাছে যাওয়াই উচিত নয়।
গতকাল ব্যাকারপুরের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা দখল করতে বিজেপি ১০০টি ফ্লাইট, ২০০ হেলিকপ্টার, দুই লাখ বহিরাগত নিয়ে এসেছে। কিন্তু ফল বের হলে দেখবেন লুচির মতো ফুলছে আর জ্বলবে। অমিত শাহের কথার জবাব দিতে গিয়ে মমতা বলেন, সবচেয়ে বড় ডাকাতরাই বিজেপির প্রার্থী।
এ রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। এর ফল ঘোষণা হবে ৪ মে।