কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

লন্ডনে ‘সেজদা’ দিয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

আলোচনা সভা
লন্ডনে ‘সেজদা’ দিয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, লন্ডনে সেজদা দিয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এটি ঠিক হয়নি। অথচ তার জনগণের কাছে সেজদা দেওয়ার কথা ছিল। এখনো সময় আছে কেবলা পরিবর্তন করে জনগণের কাছে যাওয়ার। দেশে সংকট নিরসন করতে হলে একমাত্র সমাধান গণপরিষদ নির্বাচন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

গণপরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নেপাল, তুর্কি ও তিউনিসিয়ায় গণপরিষদ নির্বাচন হয়েছে। যারা ডিসেম্বরে নির্বাচনের কথা বলতেন, তারা এখন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পক্ষে। তারা সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচন বোঝেন না। অথচ ১৯৭৮ সালের ১৭ এপ্রিল দ্বিতীয় ফরমানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানও গণপরিষদ নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। বিএনপির ৬০ শতাংশ জনসমর্থনের দাবি ‘এক ধরনের আস্ফালন’ বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

ঐকমত্য কমিশনও লন্ডন ও গুলশানে ‘সেজদা’ দিচ্ছে—এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, আবার এক মাস সময় বাড়ানো হয়েছে, তা হতে পারে না। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের সময় কতগুলো রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশে রাখা হয়েছে। অথচ সেখানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের রাখা উচিত ছিল।

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পেলে জনসমক্ষে আসব না। প্রয়োজনে চা দোকান দিয়ে চলব। কয়েকদিন আগে আমলা থেকে রাজনৈতিক নেতা হয়ে যাওয়া একজন বলেছেন, স্বাধীনতার আগে গণপরিষদ নির্বাচন হয়েছে। এখন দরকার নেই। মূলত তাদের মাথায় গুম-খুন ও দুর্নীতির চিন্তা থাকে। তাই তারা এমনটি বলেছেন।

সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সেনাবাহিনী অস্ত্র হাতে থাকলেও ব্যবহার জানে না। তাদের সংবিধানের জ্ঞান নেই। শুধু বিদেশ ভ্রমণ করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়। তারা আয়নাঘর বানিয়েছে। সেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা নেই।’

আলোচনা সভায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আসন দিয়ে আমাদের কিনতে পারবেন না। আসনের জন্য বিক্রি হতে আসিনি। মিডিয়ায় চরিত্র হননের চেষ্টা করেও কিছু করতে পারেনি। আগের মতো পুলিশ বা প্রশাসন নয়, নির্বাচনের মূল ভূমিকা পালন করবে জনগণ।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যেসব কারণে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে, সেগুলো সঙ্গে নিয়ে আবারও সরকার গঠন করা হলে কঠিন গণপ্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।

আওয়ামী লীগ বাহাত্তরের সংবিধান দিয়ে সব অপরাধের বৈধতা দিয়েছে অভিযোগ করে হাসনাত বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে অভ্যুত্থানের পর আমরা মিলিটারি, প্রশাসন ও মিডিয়ার সংস্কার করতে পারিনি।’

নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের টাইমলাইন নিয়ে কিছু আসে-যায় না। নভেম্বর-ডিসেম্বর হলেও আপত্তি নেই। তবে ‘রুলস অব দ্য গেম’ বাতিল করে নির্বাচন করতে হবে। গণপরিষদ নির্বাচন করতে হবে। এনসিপিকে শত্রুজ্ঞান করে লাভ নেই। কেউ যদি আমার কিংবা আমাদের সহযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারে, রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেব।’

ভাগবাটোয়ারার নির্বাচনী সমঝোতায় যাবে না এনসিপি: কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের আসন ভাগাভাগি বা দরকষাকষির আলোচনা হয়নি এবং নির্বাচনী আসন সমঝোতার পথে না হাঁটার কথা জানিয়েছে এনসিপি। গতকাল দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘বিএনপির সঙ্গে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৩০টি আসন নিয়ে দরকষাকষি করছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি দৃঢ়তার সঙ্গে জানাচ্ছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং কিছু গণমাধ্যমে চলমান ধারাবাহিক প্রোপাগান্ডার অংশ।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বাস্তবতা হলো, এনসিপি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি বা দরকষাকষি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করেনি। আমাদের সুস্পষ্ট অবস্থান হলো গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাকর্মীদের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি, গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন নিশ্চিত করেই দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। গণপরিষদ ও নতুন সংবিধান ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। ভাগবাটোয়ারার নির্বাচনী সমঝোতা কেবল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি নয়, এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনেরই ধারাবাহিকতা। এনসিপি সেই পথে কখনো হাঁটবে না।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হোয়াইটওয়াশের মিশনে দুর্দান্ত ব্যাট করছে টাইগাররা

মেক্সিকোতে সশস্ত্র হামলায় মেয়র নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিলেন প্রফেসর ড. মজিবুল হক

তুরস্কের অঘটনে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক জয় 

আত্মসমর্পণ করতে সিরাজগঞ্জ যাচ্ছেন আমির হামজা

খুলনায় ফজরের নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি, আহত ২

মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা / আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, নেপথ্যে কী?

নবম পে-স্কেলে সুখবর: দ্বিগুণ হচ্ছে পেনশন, বাড়ছে বিভিন্ন ভাতা

১০

রামিসা হত্যা মামলা / মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করলেন হাইকোর্ট

১১

বেদে পল্লীতে এসি-সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর রাজকীয় জীবনযাপন

১২

উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র, ব্রাজিলের জন্য বড় অশনি সংকেত!

১৩

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

১৪

প্রাথমিকের পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ

১৫

নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিল ছাত্রলীগ

১৬

নেইমারের সেই জার্সি পরেই মাঠে ছিলেন সাকিব

১৭

নলকূপ বসাতে গিয়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

১৮

মমেক হাসপাতালে হাম ও হাম উপসর্গে শিশু মৃত্যু বেড়ে ৫১

১৯

সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

২০
X