

চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক অস্ত্রধারীর ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অস্ত্রধারী ওই যুবকের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দিনদুপুরে প্রকাশ্যে মাসুদকে গুলি করা খুনিদেরই একজন এই যুবক। বিষয়টি নিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া কাপ্তাই সড়কে দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে পাহাড়তলী চৌমুহনীতে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়াতেই রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্পটে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থক ও এলাকাবাসী। ফলে কাপ্তাই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি নিজে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে কথা বলেন এবং খুনিদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। তার হস্তক্ষেপে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে দিলে ৩ ঘণ্টা পর কাপ্তাই সড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, এক যুবক প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি, নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ এলাকায় বালুর ব্যবসাসহ বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। আজ দুপুরে যখন তাকে পাহাড়তলী চৌমুহনীতে টার্গেট করে গুলি করা হয়, তখন এই অস্ত্রধারীকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এই যুবদল নেতাকে এভাবে প্রকাশ্যে খুন করার ঘটনায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। কারা, কী উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তার তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করছি, খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্রধারী যুবকের ছবিটিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে। ছবির সত্যতা যাচাইসহ ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করতে একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।