

সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের ঘোষণায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলে মনে করে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা জনগণের দাবি ও অভিপ্রায় উপেক্ষা করে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে তা নতুন সংকট তৈরি করবে। প্রতিটি নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, কেন্দ্রে সমস্যা হলে গণভোটের কী হবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
এ ছাড়া পাঁচ দাবিতে জামায়াতসহ আট দলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধান সংস্কারসহ অন্যান্য সংস্কার বিষয়ে যে ৪৮টি প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো জাতীয় নির্বাচনের আগে জাতিকে জানাতে হবে। ভোটাররা সে বিষয়ে জানার পরই গণভোটে হ্যাঁ বা না মতামত দেবেন। কিন্তু একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলে একজন ভোটারকে গণভোট দিতে হবে, আবার প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনের ভোটও দিতে হবে। এটি একটি সংকট তৈরি করবে।’
দেশের জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাসে প্রতিটি নির্বাচনে কমবেশি কিছু ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলার কারণে ভোট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘এবার কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার কারণে জাতীয় নির্বাচনের প্রতীকের ভোট বন্ধ হয়ে গেলে গণভোটের কী হবে, এর কোনো জবাব (সরকারের কাছে) নেই।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গণভোটে জনগণকে কীসে হ্যাঁ আর কীসে না বলতে হবে, সেটি নির্বাচনের আগেই জানতে হবে। ভোটারদের গণভোটের বিষয়ে স্টাডি (পড়াশোনা) করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে গণভোটের বিষয়ে বিস্তারিত ওয়েবসাইটে দিতে হবে। তারপর এ জটিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সে সুযোগ না দিয়ে দুটি ভোট একসঙ্গে দেওয়ার ঘোষণায় একটি সংকট তৈরি হলো।’
এ সংকট নিরসনের জন্য জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি করছে জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘নির্বাচনের আগে গণভোট হলে সনদের আইনি ভিত্তি দৃঢ় হবে। পরে আইনি ভিত্তি নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে না। সেই সংকট এখনো রয়ে গেছে।’ সরকারকে এ ‘সংকট’ নিরসনের আহ্বান জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার জানান, জামায়াতসহ সমমনা আটটি দল নিজ নিজ দলীয় ফোরামে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ পর্যালোচনা করছে। ১৬ নভেম্বর দলগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। পরে আটটি দল সম্মিলিতভাবে তাদের করণীয় স্থির করবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম প্রমুখ।