

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ বিজয়ী হলে দেশ রক্ষা পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন তারেক রহমান। জাতীয়তাবাদী যুবদল ও কৃষক দলের নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ধানের শীষকে জেতাতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। ধানের শীষকে জেতানোর মাধ্যমে জনগণের যে পরিকল্পনা, জনগণের পক্ষের যে পরিকল্পনা, সেটিকে বাস্তবায়ন করতে হবে—এর কোনো বিকল্প নেই। ধানের শীষকে জেতানোর মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করতে হবে। প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ এবং সবার আগে বাংলাদেশ। নো কম্প্রোমাইজ।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আপনার দল আপনার সামনে যে স্ট্রেটকাট প্ল্যান উপস্থাপন করল, দেখান তো দেশে আর কোনো রাজনৈতিক দল আছে যারা এ রকম প্ল্যানিং দিয়েছে। ইয়েস, কোনো রাজনৈতিক দল এ রকম প্ল্যান দিতে পারেনি; দেশের মানুষকে কোনো পরিকল্পনা দিতে পারেনি যে, দেশকে আমরা কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। একমাত্র আপনার দল বিএনপি এই প্ল্যান দিয়েছে। কাজেই এখন আপনার বসে থাকার সময় নেই। আপনাকে যুদ্ধে নেমে পড়তে হবে; দিস ইজ এ ওয়ার, দিস ইজ এ ব্যাটেল। কী যুদ্ধ? মানুষের পক্ষে, মানুষের জন্য, দেশের পক্ষে। কারণ, আমাদের কাছে প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ আমার। আমাদের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ—এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে আমাদের।
তিনি বলেন, দেশ গড়ার পরিকল্পনা শুধু পরিকল্পনার মধ্যে রাখলে হবে না। বাংলাদেশে বহু পরিকল্পনা হয়েছে, সে পরিকল্পনা পরিকল্পনাতেই রয়ে গেছে। আমরা আমাদের প্ল্যানিংকে বাস্তবায়ন করতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেমন আমরা আন্দোলন করেছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এ প্ল্যানিংও বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এ কাজটা শুরু করব, পরবর্তী জেনারেশন সেটা কনটিনিউ করবে। এটার শেষ নেই।
দলের পরিকল্পনা ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে—এমন নির্দেশনা দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দলের পরিকল্পনা মানুষের সামনে নিয়ে যেতে হবে, জনগণকে কনভিন্স করতে হবে, জনগণকে বোঝাতে হবে—এই কঠিন কাজটি করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। আদারওয়াইজ এই দেশ এবং জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা যদি সজাগ না হই, আমরা যদি এ যুদ্ধে মাঠে নেমে না পড়ি, এ দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এ দেশকে প্রতিটিবার আপনার দল বিএনপি রক্ষা করেছে। ইতিহাস ঘাঁটুন, তাহলে দেখবেন—প্রতিবার রক্ষা করেছেন শহীদ জিয়া। খালেদা জিয়া যতবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তার আগে দেশের কী অবস্থা হয়েছে? এখন শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়ার দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে এসে পড়েছে। এ দেশকে আপনাদের রক্ষা করতে হবে। প্রত্যেককে উঠে দাঁড়াতে হবে, ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে হবে, মানুষের কাছে যেতে হবে, দোরগোড়ায় যেতে হবে, তাহলেই আমাদের পক্ষে সম্ভব। আসুন, এ যুদ্ধ আমরা শুরু করি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য হলো, আমরা কোনো মেগা প্রকল্পে যাব না। মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নতির পেছনে খরচ করতে হবে। সেজন্যই বিএনপির নতুন আইটি পার্ক বানানোর পরিকল্পনা নেই। যেগুলো আছে, সেগুলো সংস্কার করে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যারা কাজ করতে চান, তাদের সুযোগ করে দেবে।
অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ফারমার্স কার্ড, পরিবেশ রক্ষা, বেকার সমস্যার সমাধান, শিক্ষার উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে দলের অগ্রাধিকার পরিকল্পনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার রূপরেখা যুবদল ও কৃষক দলের নেতাদের সামনে তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মানবাধিকার হরণ করা হয়েছিল। দল হিসেবে বিএনপি সবচেয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আগামীতে ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ যাতে নিরাপদে মতামত জানাতে পারে, সে ব্যবস্থা করবে। যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী কথা বলবে। সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। আগামী দিনে বিএনপি চায় মতামত প্রকাশের জন্য আবরার ফাহাদের মতো যেন হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে না হয়।
‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।