জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

জয়পুরহাটে হাট-বাজারে মাছ ধরার চাঁই বিক্রির ধুম

জয়পুরহাট শহরের নতুনহাটে চলছে চাঁই কেনাবেচা। ছবি : কালবেলা
জয়পুরহাট শহরের নতুনহাটে চলছে চাঁই কেনাবেচা। ছবি : কালবেলা

বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে বৃষ্টির পানিতে খাল বিল, নদী, নালা ও মাঠ পানিতে ভরে আছে। বর্ষা মৌসুমে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ ধরার প্রাচীন পদ্ধতির চাঁই বা খলশানি বিক্রির চাহিদা বেড়েছে বর্ষা মৌসুমে। জয়পুরহাট জেলা শহরের নতুন হাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারের খলশানি বিক্রির ধুম পড়েছে। যত বর্ষা তত বিক্রি। খরাতে বেচা বিক্রি মন্দা। এমনটাই জানালেন খলশানি তৈরির কারিগররা।

শনিবার (১৩ জুন) জয়পুরহাট শহরের নতুন হাটে সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা লোকজন তাদের পছন্দ মতো খলশানি দরদাম করে কিনছেন। জয়পুরহাট জেলার ৪টি গ্রামের প্রায় আড়াইশ পরিবারের নারী পুরুষ ছোট মাছ ধরার এ ফাঁদ তৈরি করে জীবন-যাপন করেন, যা স্থানীয় ভাষায় খলশানি। ওই খলশানি ছোট-বড় আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা দামে।

খলশানি তৈরির কারিগররা গ্রামে ঘুরে গৃহস্থের বাঁশ বাগান থেকে ২০০-২৫০ টাকা দামে বাঁশ কেনেন তারা। ভালো একটি বাঁশ থেকে ৫-৬টি খলশানি তৈরি হয়। আর বড় মাপের খলশানি হয় ৪টি। বাঁশ থেকে চিকন চিকন কাঠি তৈরি করতে হয় প্রথমে। তাল গাছের ডাল কেটে নিয়ে বাড়ির চৌবাচ্চাতে কয়েক দিন ভিজিয়ে নিতে হয়। পচানো ডাল কাঠের হাতুড়ি দিয়ে থ্যাঁতলে চিকন আঁশ বের করা হয়।

তারপর বাঁশের চিকন কাঠিগুলো ওই আঁশ দিয়ে বুনিয়ে (গেঁথে) নিলে খলশানির প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়। এ কাজটি করেন বাড়ির মহিলারা। তারপর পর বাঁশের ফালটা সুন্দর করে বেঁধে খলশানি তৈরির কাজটি করেন পুরুষরা। জয়পুরহাট জেলাসহ নওগাঁ জেলার ধামুইরহাট মঙ্গলবাড়ি, দিনাজপুরের হাকিমপুর, বিরামপুর হাটে বিক্রি হয় খলশানি।

নতুনহাটে খলশানি বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার বারইল, ক্ষেতলাল উপজেলার দীঘিরপাড়, খান্দার গ্রামের কারিগর পরিমল চন্দ্র, বাসুদেব, সুদেব, পশুরাম জানালেন, মূলত বাড়ির নারীরা খলশানি তৈরিতে শ্রম না দিলে তাদের একার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব হতো না। ঘর গৃহস্থালির কাজ করে অবসরে খলশানি তৈরির কাজ করেন মহিলারা। প্রতি সপ্তাহে ৫ থেকে ৬টি খলশানি তৈরি করেন তারা। প্রচুর শ্রম আর কষ্টের কাজ হলেও আশাতীত দাম পান না তারা।

কীটনাশক ব্যবহারে ছোট মাছ কমে যাওয়ায় খলশানি বিক্রিও কমছে দিন দিন। বাপ-দাদার পেশা জমিজমা নেই, তাই ছাড়তে পারিনি। এমন মন্তব্য খলশানি তৈরির জয়পুরহাটের কারিগরদের।

তাল গাছের ডালের আঁশ দিয়ে খলশানি বানানো বিষয়ে পরিমল বলেন, আঁশ পানিতে পচে নষ্ট হয় না। আর সুতা পানিতে দ্রুত পচে যায়। এ জন্য খলশানিতে তাল গাছের আঁশ ব্যবহার করা হয়।

জেলার বাগজানা গ্রামের কৃষক বদিউজ্জামান বলেন, তিনি গ্রামের মাঠে মাছ ধরার জন্য ১২টি খলশানি ২৫০ টাকা দামে কিনেছেন। খলশানিতে পুঁটি, ময়া, জালমাছ (চিংড়ি,) দাড়কিনা, ছোট কৈ মাছ পাওয়া যায়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপের পরিবর্তে ক্ষুধার্তদের চাহিদা পূরণের আহ্বান আহমাদুল্লার

চরের নারীদের স্বাস্থ্য সংকট / গরমে বাড়ছে জরায়ু ও ত্বকজনিত জটিলতা

৭ গোলের তাণ্ডবে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে জার্মানির বিশ্বরেকর্ড

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির পলক, ভিডিও ভাইরাল

৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, মরদেহ মিলল নদীতে

আজ রাত থেকেই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে : ইরান

দেশে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

শ্রীমতী অনিমা রানী রাহার পরলোকগমন

আয়ারির জোড়া গোলে তিউনিশিয়াকে উড়িয়ে দিল সুইডেন

মেট্রোরেলের ৯ স্টেশন ও গুলশানে ফ্রেশ সুপার মার্ট চালু করল এমজিআই

১০

ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ৪ দেশ

১১

বাঁচতে চায় আবু বক্কর, সাহায্যের আবেদন

১২

পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইরানের সঙ্গে দুই ঘণ্টাও টিকতে পারত না ইসরায়েল : ট্রাম্প

১৩

বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মাঠে ঢুকতে না দেওয়ার অনুরোধ

১৪

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির কারণে ক্ষুব্ধ ইসরায়েলি ডানপন্থিরা

১৫

জয়পুরহাটে হাট-বাজারে মাছ ধরার চাঁই বিক্রির ধুম

১৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বিধ্বস্তে ১২ আরোহীর মৃত্যু

১৭

পার্থকে সভাপতি করে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন

১৮

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির খবরে কমেছে তেলের দাম

১৯

শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে তিউনিশিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে সুইডেন

২০
X