নাজমুল হাসান সাগর
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

তপশিলের পর প্রতি দুদিনে একবার অবৈধ অস্ত্র থেকে গুলি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
প্রতীকী ছবি।
প্রতীকী ছবি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর থেকে শুরু হয় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল বা গুলি করে হত্যার মতো উদ্বেগজনক প্রবণতা। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে অপরাধীদের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনাগুলো ভীতির সঞ্চার করেছে জনমনে। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর তপশিল ঘোষণার পর থেকে চলতি ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশে প্রতি দুদিনে অন্তত একবার অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছে গুলি। যাবে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১০ জন।

এসবির ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের চারটি মহানগর ও পাঁচটি বিভাগের মধ্যে গুলির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও খুলনা মহানগরে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকায় গুলির ঘটনা বেশি। নিহত বেশি চট্টগ্রাম ও খুলনায়। অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ঘটনাগুলোকে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক মনে করছেন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক এ প্রসঙ্গে কালবেলাকে বলেন, ‘ঘটনাগুলো উদ্বেগের। সাধারণত তপশিল ঘোষণার পরে আইন প্রয়োগের জায়গা বা নির্বাচনের পরে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারে, এ ধরনের উপকরণগুলোকে অভিযানের মাধ্যমে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হয়। এবারও অভিযান চলেছে; কিন্তু পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আর নিয়ন্ত্রণ পরিপূর্ণভাবে না আসা মানেই একটা ভয় থেকে গেল। একটা শঙ্কা ও উদ্বেগ থেকে গেল। এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রশাসন কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করবে, তার ওপর নির্ভর করবে যে এই শঙ্কাগুলো জেগে উঠবে কি না। এই শঙ্কাগুলো আতঙ্কে পরিণত হবে কি না এবং সেটা ভোটার বা কর্মী-সমর্থক কিংবা প্রার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো উদ্বেগ তৈরি করবে কি না, তার ওপরে নির্ভর করবে।’

গুলিতে মৃত্যু বেশি ঢাকা মহানগরীতে: শুধু ঢাকা ও খুলনা মহানগরী এলাকায় গত ষাট দিনে পাঁচটি করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা মহানগরীতে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। এসব ঘটনায় মূলত প্রাণ হারিয়েছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। গত ১১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল। এর পরদিনই প্রকাশ্যে রাজধানীর পল্টনের কাঠেরপুল এলাকায় গুলি করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেওয়া শরিফ ওসমান হাদিকে। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। এরপর রাজধানীর কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের গলিতে গত ৭ জানুয়ারি গুলিতে প্রাণ হারান স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির। বাকি মহানগরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে গুলির ঘটনা একটি করে হলেও প্রাণহানি নেই।

গুলিতে প্রাণহানি চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে বেশি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গত ১০ জানুয়ারি দুর্বৃত্তদের গুলিতে জামাল উদ্দিন নামে এক জামায়াতকর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন নাসির উদ্দিন ওরফে ছোট নাসির নামে আরও একজন। তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত জামাল ও নাসিরকে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই জামাল উদ্দিনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ছয় রাউন্ড গুলির খোসা।

খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকায় গত ১০ জানুয়ারি গভীর রাতে আব্দুল বাছেদ বিকুল নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহতের বাড়ি খুলনা নগরের দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া এলাকায়। তিনি ওই এলাকার আব্দুল আওয়ালের ছেলে। পুলিশ জানায়, বিকুল একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল। এই ঘটনার পরে গত ১২ জানুয়ারি বিকুলের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে তার বাসা থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়।

এসবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, গত ষাট দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে সাতটি গুলির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে তিনজন ও খুলনা বিভাগে চারটি গুলির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে তিনজন। নয়টি গুলির ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, কিন্তু প্রাণ হারিয়েছে দুজন। এ ছাড়া রংপুর ও ময়মনসিং বিভাগে গুলির ঘটনা একটি করে ঘটলেও প্রাণহানি নেই।

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করে কোনো সাড়া মেলেনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকারি খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

১৪ বছর বয়সী কিশোরী হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে আর্জেন্টিনা

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি, ইরান চুক্তির আশা জোরালো

রামিসা হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি আজ

বিকাশে ভুল নম্বরে পাঠানো টাকা ফেরত আনতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

দুপুরের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

লাম্পি রোগে বাড়ছে গরুর মৃত্যু, ডিমলায় আতঙ্কে খামারিরা

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৮

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১০

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর বাঁকখালী নদী পরিদর্শনে ইউএনও

১১

ইউএনজিএর সভাপতি হিসেবে কী দায়িত্ব ও মর্যাদা পাবেন খলিলুর রহমান

১২

‘সম্পাদক পরিষদ’ গঠন হয় কীভাবে, জানালেন সাবেক এক সদস্য

১৩

মির্জা ফখরুলকে সারজিসের প্রশ্ন

১৪

৩০ বছর পর দখলমুক্ত সরকারি রাস্তা

১৫

হাদি হত্যায় তার বড় ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে : ফারুক হাসান

১৬

সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে ‘সব নিরপরাধ মায়ের’ মুক্তি চাইলেন আইভী

১৭

ওসির নেতৃত্বে থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত 

১৮

নিঃসঙ্গ মায়ের মৃত্যু ঘিরে ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগ ছেলের

১৯

রিজার্ভ আরও বাড়ল

২০
X