শফিকুল ইসলাম
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যে

তারেক বসন্তে বাজিমাত
বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যে

নানামুখী সমীকরণ ও সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘প্রত্যাশিত’ ভূমিধস (নিরঙ্কুশ) বিজয় পেয়েছে একাধিকবার সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞ দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বহু বছর পর প্রতিযোগিতামূলক ও মোটাদাগে শান্তিপূর্ণ আবহে হওয়া এই নির্বাচনে সমমনাদের বাদেই শুধু দলটির নিজস্ব প্রার্থীরাই জয় পেয়েছেন অন্তত ২০৮টি আসনে, যা এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে ঢের বেশি। আর এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর জাতীয় রাজনীতিতে সাড়ম্বরে বড় ধরনের প্রত্যাবর্তন ঘটল বিএনপির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল এই বিজয়ের নেপথ্যে শুধু বিএনপির দলীয় জনসমর্থনই ভূমিকা রাখেনি। বরং কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংক এবং সংখ্যালঘুদের ভোট ‘নিরাপদ বিকল্প’ হিসেবে বিএনপির বাক্সে জমা হওয়াটাও এমন অভাবনীয় ফলের অন্যতম কারণ। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের পর আবারও সরকার গঠনের পথে দলটি। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্রদের জয়কে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নিরঙ্কুশ জয়ের খবরে উল্লসিত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সবমিলিয়ে বিএনপিতে বইছে স্বস্তির বাতাস। এখন অপেক্ষা শুধু সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণের।

বিএনপি নেতারা বলছেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি তদারকি ও কৌশলী নেতৃত্ব সংসদ নির্বাচনে বাজিমাতের অন্যতম কারণ। তবে রংপুর, রাজশাহী ও বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে প্রত্যাশিত ফল পায়নি বিএনপি। এতে দলের নেতারা উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। এজন্য প্রার্থী বাছাই, অভ্যন্তরীণ কিছু কোন্দলসহ নানা কারণ চিহ্নিত করেছে দলের হাইকমান্ড। অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগে একচেটিয়া জয় এসেছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে ফিরে তারেক রহমানের ভিন্নধর্মী গণসংযোগ সাড়া ফেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দেশজুড়ে বইতে শুরু করে ‘তারেক বসন্ত’। এখন নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন করলে তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বিএনপির একক নির্বাচনী ফল নয়; বরং দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক কৌশলের বড় জয়।

গত বৃহস্পতিবার দিনভর ভোটগ্রহণের পর গতকাল শুক্রবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিএনপি এককভাবে ২০৯ আসনে এবং শরিকদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদ একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটিতে বিজয়ী হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন সাতটি আসনে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে দলটি এককভাবে ৬৮টি, এনসিপি ছয়টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে দুটি আসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে বিজয়ী হয়। খেলাফত মজলিস জয় পেয়েছে একটিতে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি। এ নিয়ে সরকারের পক্ষে ও রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কয়েক দফা বৈঠক হয়। সবশেষ ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই লন্ডনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওই বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল যে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তবে বাস্তবতার নিরিখে ভোটের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। এরই ধারাবাহিকতায় সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। এখন মন্ত্রিসভা গঠন ও তাতে স্থান পাওয়াদের শপথ গ্রহণের পালা।

বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যে: বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পেছনে কাজ করেছে নানা কারণ। এসবের মধ্যে অন্যতমগুলো হলো- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক লিডারশিপ, দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মাধ্যমে দলের লাখো নেতাকর্মীর নির্যাতনের শিকার হওয়া, দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং জিয়া পরিবারের সীমাহীন ত্যাগ, বিএনপির প্রতি দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অভাবনীয় সমর্থন, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন মতাদর্শের আলেমদের সমর্থন এবং চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে না যাওয়া। বিএনপির বড় জয়ের নেপথ্যের আরেকটি কারণ হলো বহু বছরের চেনা প্রতিদ্বন্দ্বীহীন মাঠ। একদিকে বিএনপির প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা ⁠আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বড় অংশের সমর্থন এবং অতীতে বিএনপির সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতার কারণেও দলটি বিপুল ভোট পেয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু অতীতের অভিজ্ঞতা বা ঐতিহ্য নয় বিএনপি ও তার মিত্রদের এই ভূমিধস বিজয়ের পেছনে একাধিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত নিয়ামক কাজ করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর দলটি রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দীর্ঘদিনের শরিকদের অনুপস্থিতি বা নিষ্ক্রিয়তা বিএনপিকে একটি ‘ফাঁকা মাঠ’ উপহার দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের সামনে মূলধারার দল হিসেবে বিএনপিই ছিল বলতে গেলে একমাত্র বিকল্প। সনাতনী সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাংকের গতিপথ পরিবর্তনও অন্যতম আরেক প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। কেননা ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু সম্প্রদায় আওয়ামী লীগের অনুসারী হিসেবে পরিচিত হলেও এবার সমীকরণ বদলেছে। কেউ কেউ বলছেন, বিগত কয়েক বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া বিভিন্ন হামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ নিতে না পারা বড় ক্ষোভের কারণ ছিল। অন্যদিকে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বার বার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস ও নিশ্চয়তা দেয়।

বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা আরও বলেন, অনেকেরই আশঙ্কা ছিল যে, জামায়াতে ইসলামী শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এই ‘ভয়’ থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি উদার ও জাতীয়তাবাদী দল হিসেবে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে। তাছাড়াও নিবন্ধিত কিন্তু কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংক এবার কোনদিকে হেলেছে, তা নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে। কোথাও কোথাও তৃণমূলপর্যায়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে বা স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করে বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা আদর্শগত কারণেই জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। ফলে তাদের ভোটের সিংহভাগ বিএনপির বাক্সে গেছে। এর বাইরে ধানের শীষের জয়ের পেছনে অন্যতম আরেক নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে তরুণ ও নতুন ভোটার (জেন-জি)। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনীতির প্রতি এক ধরনের নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। বিএনপি তাদের ইশতেহারে কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা তরুণ ভোটারদের বড় অংশকে আকৃষ্ট করেছে।

বিএনপির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা আলাপকালে বলেন, এই বিজয় যতটা না বিএনপির একক জনপ্রিয়তা, তার চেয়ে বেশি ছিল ‘ব্যালেন্স অব পাওয়ার’। অর্থাৎ, মানুষ চরম ডানপন্থি কোনো শক্তি বা বিশৃঙ্খলার চেয়ে বিএনপির মতো একটি পরিচিত রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর আস্থা রাখা নিরাপদ মনে করেছে। ফলে বিএনপির এই ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যের মূল কারণ হলো রাজনৈতিক মেরূকরণ ও কৌশলগত ভোট।

কি বলছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা: নির্বাচনে অভাবনীয় ফল পাওয়ার বিষয়টিকে ‘আনন্দময়-বিষাদময়’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালবেলাকে বলেন, ‘এই ফলাফল এক হচ্ছে, আনন্দময়, আরেকটা হচ্ছে বিষাদময়। আমাদের দলের চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া তিনি এই অভূতপূর্ব বিজয় দেখে যেতে পারলেন না এটা বিষাদময়। অনেক শত হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে একটা চমৎকার উৎসবমুখর এবং স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে—আমি ব্যক্তিগতভাবে ডেফিনেটলি অভিভূত, মুগ্ধ। এই ধারাবাহিকতা যদি আমরা রাখতে পারি তাহলে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা আমরা রক্ষা করতে পারব।’

আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে হয়তোবা ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সিদ্ধান্ত উঠে আসবে।’

যদিও এবারের নির্বাচনের ফল নিয়ে শতভাগ সন্তুষ্ট নন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘শতভাগ সন্তুষ্ট হওয়া কঠিন ব্যাপার। বিএনপি মোটামুটি খুশি। আগের অনেক ভোটে অনেক প্রাণ গেছে। তবে এবার আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে তেমন কিছু হয়নি। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভোট না দিতে দিতে ভোট না দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। সবাইকে পুরোপুরি ভোটে আনতে পারিনি। আমরা জনগণকে ভোটমুখী করব। যেন সব মানুষ ভোটকেন্দ্রে আসে। তার পরও বাংলাদেশের জন্য আজ (ভোট গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার) একটি উল্লেখযোগ্য দিন।’

দলের জয়ে উচ্ছ্বসিত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য বদরুল আলম চৌধুরী শিপুল। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক। তারা চায় দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে। এ দেশের মানুষ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের প্রতি বিশ্বাস রাখতে চায়। সর্বোপরি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারেক রহমানের ক্যারিশমেটিক লিডারশিপের কারণে এই ভূমিধস বিজয় হয়েছে। আমি দেখতে পাচ্ছি, অদূর ভবিষ্যতে তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে মিশে যাবেন।’

উল্লসিত নেতাকর্মীরা: ভোটগ্রহণ শেষে দেশের বিভিন্ন আসন থেকে বেসরকারি ফলে বিজয়ের খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন বিএনপি এবং সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলে এমন উল্লাস। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাতভর জেগে থেকে সারা দেশের ফল পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি অনেক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিজয়ী নেতাদের শুভেচ্ছা জানান।

বিশ্লেষকদের চোখে বিএনপির জয় ও নির্বাচন: বিএনপির বিজয় অনুমিত হলেও এর ব্যাপ্তি অবাক করেছে বলে জানান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় অনেকটাই অনুমেয় ছিল, তবে বিজয়ের ব্যাপ্তি অনেককে অবাক করেছে। দলটি অতীতে একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং দীর্ঘদিন প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। ফলে তাদের একটি সুসংগঠিত সাংগঠনিক কাঠামো ও নির্দিষ্ট ভোটভিত্তি গড়ে উঠেছে।’

গত প্রায় ১৭ বছরে দলের বহু নেতাকর্মী হামলা-মামলা, গুম-খুন ও দমন-পীড়নের শিকার হওয়ার বিষয়গুলোও জনসমর্থন গঠনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। তিনি বলেন, ‘রাজপথকেন্দ্রিক আন্দোলনেও বিএনপি ছিল সব সময় অগ্রগামী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল হিসেবে ঐতিহাসিক পরিচয় এবং বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্ব দলকে প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়িত্ব দিয়েছে। প্রবাসে অবস্থান করেও তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক প্রতিশ্রুতি সাধারণ ভোটারের কাছে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে, যা বড় বিজয়ে সহায়ক হয়েছে।’

বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্য কারণ ও নির্বাচন প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা কালবেলাকে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত নির্বাচনী সংস্কৃতি ফিরে এসেছে। নিবার্চনটি প্রতিযোগিতামূলক, নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যে অনেক কারণ কাজ করেছে। আমার ধারণা, তারেক রহমান লন্ডনে বসে নির্বাচন নিয়ে কিছুটা গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করে এসেছেন, যেমন প্রার্থী চূড়ান্ত করা। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তারেক রহমান ও তার টিম মোটামুটি তৃণমূলের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি চৌকস কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা টিম এ ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে।’

বিএনপির এবারের বিজয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বড় ভূমিকা দেখছেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের বৈচিত্র্যময় নির্বাচনী প্রচার, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং তৃণমূলকে বিবেচনায় নেওয়াসহ সময়োপযোগী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, যেমন—ফ্যামিলি কার্ড বা ফার্মার্স কার্ড, অথবা কৃষিঋণ মওকুফ করা ইত্যাদি মানুষকে বিএনপির ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলেছে। সর্বোপরি তারেক রহমানের পরিমিত শব্দচয়ন ও প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল আচরণ ভোটারদের বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল করে তুলতে পারে। এর সঙ্গে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লিগ্যাসি (উত্তরাধিকার) বরাবরই বিএনপির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাঠগড়ায় আসামি সোহেলকে মারতে উদ্যত হলেন স্ত্রী স্বপ্না

যুবদলে কোন পদ পেলেন ‘আলোচিত’ রবিউল ইসলাম নয়ন

১৯০ জনকে চাকরি দেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, এসএসসি পাসেই আবেদন

জনগণের পকেট কাটতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি : এবি পার্টি

শৈলকূপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪২

বালু চোরাকারবারিকে পুলিশে দেওয়ায় দুই বন কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত

বাহরাইনে ৫ প্রভাবশালী ধর্মীয় আলেমসহ ২০ শিয়া আটক

পল্লবীতে মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ

যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে কে কোন পদ পেলেন

সরকারি ব্যাংকে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এখনই আবেদন করুন

১০

‘বাথরুমে বোনের কাটা মাথা দেখে চিৎকার দিয়ে চলে আসি’

১১

কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল যুবকের লাশ

১২

মামি-ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

১৩

তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাফুফের মিশন সফল / বিশ্বকাপ ফুটবল দেখাবে বিটিভি, সঙ্গী টি-স্পোর্টস

১৪

চেয়ারম্যানসহ বিএসইসির চার কমিশনারের পদত্যাগ

১৫

যুক্তিতর্ক শুনানির আগে অসুস্থ রামিসা হত্যার আসামি স্বপ্না

১৬

১০ বছর পর আবারও ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত

১৭

থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে বেধড়ক মারধর, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

১৮

যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

১৯

ঋতুপর্ণার জাদুকরী সেই গোলের নাম কেন ‘অলিম্পিক গোল’?

২০
X