কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনৈতিক প্রভাবে বিতর্কিত লাইসেন্স

বেসরকারি সাবমেরিন কেবল লাইসেন্স
সাবমেরিন ক্যাবল ও ইন্টারনেট সংযোগ। প্রতীকী ছবি।
সাবমেরিন ক্যাবল ও ইন্টারনেট সংযোগ। প্রতীকী ছবি।

দেশের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে ২০২২ সালে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন কেবলের লাইসেন্স দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি খাতে লাইসেন্স দেওয়া হয়। শুধু আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ হওয়ায় একেবারে নতুন ও অভিজ্ঞতাহীন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও তারা লাইসেন্স পেয়ে যায়। এমনকি এসব অভিজ্ঞতাহীন কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়ার জন্য গাইডলাইনও সংশোধন করা হয়েছিল। কয়েক দফা বাড়ানো হয় আবেদনের মেয়াদ। রাজনৈতিক বিবেচনায় লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠান তিনটি আলাদাভাবে কাজ না করে একটি জোট বা কনসোর্টিয়াম গড়ে তোলে। যার নাম দেওয়া হয় ‘বাংলাদেশ প্রাইভেট কেবল সিস্টেম’। খরচ কমাতে এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিটিআরসির গাইডলাইন অনুযায়ী এভাবে কনসোর্টিয়াম গঠনের সুযোগ না থাকলেও কেবল স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করে সেই কনসোর্টিয়াম। এ ছাড়া গাইডলাইন অনুযায়ী, লাইসেন্স আবেদনের সঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় দিকের পরবর্তী সংযোগের বিস্তারিত ব্যবস্থা দাখিল করতে হয়। কিন্তু বিপিসিএসের একমাত্র রুট কক্সবাজার-সিঙ্গাপুর (ইউএমও ট্রাংক), অর্থাৎ এর রয়েছে শুধু পূর্বমুখী সংযোগ; পশ্চিমমুখী (ইউরোপ/মধ্যপ্রাচ্য অভিমুখে) কোনো সংযোগ নেই। লাইসেন্স আবেদনে তিনটি প্রতিষ্ঠান যদি পূর্ব ও পশ্চিম উভয় দিকের রুট পরিকল্পনা দাখিল করে থাকে, তবে বাস্তবায়নে তা মেনে চলা হয়নি, যা লাইসেন্স শর্তের লঙ্ঘন। চব্বিশের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার লাইসেন্সের আইনি দিক খতিয়ে দেখা শুরু করলে সামনে আসে কেবল স্থাপনে চীনের বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সঙ্গে চুক্তি, যা নিয়ে আপত্তি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া লাইসেন্স এবং গাইডলাইনের শর্তভঙ্গ; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আপত্তি, সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো থেকে কনসোর্টিয়াম ছাড়পত্র পায়নি। কনসোর্টিয়াম গঠনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করে ব্যবসায়িক স্বার্থে গঠন করা কনসোর্টিয়াম বিষয়ে পরে বিটিআরসিকে জানানো হয়েছে। সে সময় সংস্থাটি কোনো আপত্তি জানায়নি। ফাইবারের বিষয়ে তারা জানায়, রেডিমেড কেবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে তাদের মতো করে তিনটি পেয়ার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার জন্য বিটিআরসির কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছে। লাইসেন্সের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব সে সময় কালবেলাকে বলেছিলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া লাইসেন্সগুলো এবং আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের অনুমোদন কোনোভাবেই দেওয়া ঠিক হবে না। কোম্পানিগুলোর গঠন সম্পর্কেও যথেষ্ট সন্দেহ আছে বলে তিনি দাবি করেছিলেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠদের বেশিরভাগ শেয়ারে ভাগ বসিয়েছে বিএনপি-ঘনিষ্ঠরা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখন এ লাইসেন্সগুলো টিকিয়ে রাখতে মালিকানায় আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের হাতে অনেক শেয়ার তুলে দেওয়া হয়েছে। শেয়ার পাওয়ার পর বিএনপি-ঘনিষ্ঠরা এ কেবল স্থাপন কার্যক্রম অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

লাইসেন্স দেওয়ার কথা একটা, দেওয়া হয় তিনটা:

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় তৎকালীন সরকার দীর্ঘমেয়াদি ব্যান্ডউইথ চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে সাবমেরিন কেবল প্রকল্প ‘সিমিউই-৬’ অনুমোদন করে। পরিকল্পনা ছিল, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারের সম্ভাব্য চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। প্রকল্প অনুমোদনের পরপরই শুরু হয় ভিন্ন এক প্রক্রিয়া। দেশের বর্তমান চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন কেবল লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সাবমেরিন কেবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিটিআরসি। লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, মেটাকোর সাবকম লিমিটেড, টেকনোলজি সলিউশনস লিমিটেড, ফাইবার অ্যাট হোম গ্লোবাল লিমিটেড এবং ম্যাঙ্গো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড। ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লাইসেন্স দেওয়া হয় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, মেটাকোর সাবকম লিমিটেডকে। যাদের মধ্যে শুধু সামিট কমিউনিকেশনের অভিজ্ঞতা ছিল। অন্যদের তেমন কোনো অভিজ্ঞতাও ছিল না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বেসরকারি খাতে লাইসেন্সের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর। তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল বেসরকারি খাতে একটি লাইসেন্স দেওয়া হবে। সভার সিদ্ধান্তে বিটিআরসিকে এই একটি লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে এ সিদ্ধান্তের আমূল পরিবর্তন ঘটানো হয়। সাবেক এক রাষ্ট্রপতির ছেলে, সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী চৌধুরী নাফিজ সরাফাত প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্সের সংখ্যা এক থেকে বাড়িয়ে তিনটি করিয়ে নেন। বিটিআরসি তখন তড়িঘড়ি করে গাইডলাইন সংশোধন করে ‘প্রয়োজনীয় সংখ্যক’ লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশ করে।

সাবমেরিন কেবল লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ধারা ৪.৫-এ সর্বোচ্চ দুটি প্রতিষ্ঠানকে সাবমেরিন কেবল লাইসেন্স দেওয়ার সুস্পষ্ট বিধান ছিল। সে সময় রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসির (বিএসসিপিএলসি) লাইসেন্স থাকায় বেসরকারি খাতে নতুন করে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতাধরদের লাইসেন্স দিতে গাইডলাইন সংশোধন করা হয়। এ সংশোধনের পরই দেশের কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন কেবল খাতটি একটি সিন্ডিকেটের কবজায় চলে যায়।

মালিকানায় আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ ‘প্রভাবশালী’ সিন্ডিকেট:

সবচেয়ে বড় অসংগতি ধরা পড়েছে ‘সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে। বিটিআরসি ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সাবমেরিন কেবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অথচ তখন পর্যন্ত সিডিনেট নামক কোম্পানিটির আইনগত কোনো অস্তিত্বই ছিল না। কোম্পানিটি জয়েন্ট স্টক রেজিস্টারে নিবন্ধিত হয়েছে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় দেড় মাস পর, ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল। খাতা-কলমে কোম্পানিটির জন্মই হয় সরকারি আবেদন ডাকার পর।

মালিকানা কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিডিনেটের লাইসেন্স পাওয়ার নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী সরকারের অত্যন্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। নথিপত্র অনুযায়ী, কোম্পানিটির অন্যতম শেয়ারহোল্ডার ছিল ‘ওয়েব ইন্টেলিজেন্স লিমিটেড’, যা মূলত আওয়ামী সরকারের সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর কোম্পানি। এ ছাড়া সিডিনেটের সরাসরি মালিকানায় যুক্ত ছিলেন চৌধুরী নাফিজ সরাফাত এবং তার ভাই রাহেব সাফওয়ান শরাফাত চৌধুরী।

কোম্পানিটির জন্মকালীন শেয়ার বণ্টনে দেখা যায়, নাফিজ সরাফাতের স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্সের ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার, স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেন তার ভাই রাহেব সাফওয়ান শরাফাত চৌধুরী এবং এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের নামে চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের এ প্রতিষ্ঠানের হাতে ছিল ১০ হাজার শেয়ার। আর প্রতিমন্ত্রীর ওয়েব ইন্টেলিজেন্সের ছিল ২ লাখ শেয়ার। অর্থাৎ নাফিজ সরাফাতের ৮০ শতাংশ এবং ওয়েব ইন্টেলিজেন্সের ছিল ২০ শতাংশ।

সাবেক ওই প্রতিমন্ত্রী ছিলেন সিডিনেটের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি সিডিনেট থেকে পদত্যাগ করেন। তার স্ত্রীকে ওয়েব ইন্টেলিজেন্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিলে তিনি সিডিনেটের পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার পরিবর্তে সাবেক এক সচিবকে ওয়েব ইন্টেলিজেন্সের নতুন প্রতিনিধি হিসেবে সিডিনেটের ডিরেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরে সিডিনেটের সঙ্গে যুক্ত হন ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মো. শওকত আলী চৌধুরী। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে ৩ লাখ শেয়ার কেনে শওকত আলীর মালিকানাধীন জারান অব ডক লিমিটেড। একই দিনে শওকত আলী চৌধুরীকে জারান অব ডক লিমিটেডের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে সিডিনেটের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এই শওকত আলী চৌধুরীর পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৮ হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছিল বিএফআইইউ। সিডিনেটের অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক এইচ এম জহিরুল হক, মি. ওয়ালিদ বিন কাদের, আরুসা জনশক্তি লিমিটেড, মো. মেজবাহ উদ্দিন এবং ডানহিল সার্ভিসেস লিমিটেড। এদিকে মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের মূল মালিকানায়ও রয়েছে প্রভাবশালীদের লম্বা তালিকা। মূল মালিকানায় রয়েছেন আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হক, দণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান লেভেল থ্রি ক্যারিয়ার লিমিটেডের মালিক আহমেদ জুনায়েদ, সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলে এবং পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আম্বার আইটির সিইও মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম।

জানা গেছে, মেটাকোরে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে পারটেক্স গ্রুপের। আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক কারণে সরাসরি সামনে না এসে অ্যাম্বার আইটির সিইও আমিনুল হাকিমের নামে এ বিনিয়োগ করেছিল পারটেক্স। এ ছাড়া দেশ এনার্জি লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানও এর অংশীদার হিসেবে রয়েছে। আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক ছিলেন মেটাকোরের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জুনায়েদ।

জানা গেছে, সাবেক ওই রাষ্ট্রপতির ছেলের মাধ্যমে লাইসেন্স পেতে মূল ভূমিকায় ছিলেন আহমেদ জুনায়েদ। এই আহমেদ জুনায়েদ হলেন চোরাই পথে ব্যান্ডউইথ আমদানির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান লেভেল থ্রি ক্যারিয়ার লিমিটেডের অন্যতম মালিক এবং সাবেক ওই রাষ্ট্রপতির ছেলের বন্ধু। রাষ্ট্রপতির ছেলেও ছিলেন লেভেল থ্রি এবং মেটাকোরের মালিকানায়। ব্যান্ডউইথ চোরাচালানের দায়ে বিটিআরসি কর্তৃক সম্প্রতি ১০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে লেভেল থ্রিকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠি সূত্রে জানা যায়, লেভেল থ্রির কাছে ভারতের এয়ারটেল কোম্পানির বিপুল অঙ্কের অর্থ বকেয়া ছিল। আইটিসি লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও এয়ারটেলের সঙ্গে ব্যান্ডউইথ লেনদেনের ভিত্তিতেই এ বকেয়া তৈরি হয়। মেটাকোরের আরেক অন্যতম মালিক আমিনুল হাকিমের আম্বার আইটির বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় সহায়তা প্রশাসনিক জরিমানা করেছিল বিটিআরসি। এ ধরনের দণ্ডপ্রাপ্ত এবং বিতর্কিত ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও উচ্চপর্যায়ের চাপে মেটাকোর সাবকমকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান তিনটির মধ্যে লিড মেম্বার হিসেবে রয়েছে সাবেক এমপি আজিজ খানের সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড। প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বড় এ কোম্পানিটির ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক ফরিদ খান। ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল এনার্জিস হোল্ডিং লিমিটেড, যার মালিকানায় রয়েছেন আদিবা আজিজ খান। বাকি ২১ শতাংশের মালিক মরিশাসভিত্তিক সিকোয়া ইনফো টেক লিমিটেড এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক সামিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপির ঘাড়ে ভর করার চেষ্টা:

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর লাইসেন্সগুলো টিকিয়ে রাখতে মালিকানায় আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। তথ্য অনুযায়ী, সিডিনেটে ৮০ শতাংশ থেকে নাফিজ সরাফাতের শেয়ার নেমেছে ৪১ শতাংশে আর ওই প্রতিমন্ত্রীর ২০ শতাংশ থেকে নেমেছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশে। অন্যদিকে মেটাকোরের অন্যতম শেয়ারহোল্ডার লেভেল থ্রি থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার হাতে থাকা লেভেল থ্রি ক্যারিয়ার লিমিটেডের শেয়ারগুলো আহমেদ জুনায়েদ এবং তার স্ত্রী হুরাইন জান্নাত নিয়েছেন। ১২ হাজার শেয়ারের মধ্যে আহমেদ জুনায়েদ নিয়েছেন ১১ হাজার ৯৯০টি এবং হুরাইন জান্নাত নিয়েছেন ১০টি শেয়ার। লেভেল থ্রির ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক এখন এককভাবে আহমেদ জুনায়েদ।

এভাবে একসময় সিডিনেট এবং মেটাকোর আওয়ামী-ঘনিষ্ঠদের দখলে থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে এবং কেবল স্থাপন নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, সেটা সমাধানের জন্য বিএনপি-ঘনিষ্ঠদের যুক্ত করা হচ্ছে। একইভাবে আওয়ামী আমলে লাইসেন্স পাওয়া অনেকে এখন বিএনপি সমর্থক হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে সিডিনেটের বিএনপি-ঘনিষ্ঠরা এবং মেটাকোর ও পারটেক্স সংশ্লিষ্টরা নতুন সরকারের সংশ্লিষ্টদের ‘কনভিন্স’ করার চেষ্টা করছেন।

কালবেলা/এমআরবি
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বন্ধ করা হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ জেলা পরিষদের

রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার উদ্বোধনে পর্দা উঠছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস

৩৭ ক্যাটাগরিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে নিয়োগ, পদ ২৪৩

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক মারা গেছেন

ঢাকাসহ ১০ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

ট্রাম্পকে সংকট থেকে বের হতে ‘আরও ভালো পথ’ খুঁজতে বলল ইরান

কেমন থাকবে আজকের ঢাকার আবহাওয়া

ঝুঁকি নিয়ে ভাসমান সেতু পারাপার, ভোগান্তিতে ৭ গ্রামের মানুষ

১০

নয়টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করল যুক্তরাষ্ট্র

১১

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের নেই: ট্রাম্প

১২

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি

১৩

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৪৭ বিলিয়ন ডলার

১৪

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ১৯৭ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে

১৫

মাতামুহুরীতে রাতের আঁধারে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

১৬

টিভিতে আজ যত খেলা

১৭

নাটোরে ডিঙি নৌকা তৈরির ধুম

১৮

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

১৯

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

২০
X