কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চারদিক

শিক্ষিত বেকার তৈরিতে দায় কার

শিক্ষিত বেকার তৈরিতে দায় কার

বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষিত বেকারত্ব এক ভয়াবহ জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলো থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করে বের হচ্ছে। তাদের চোখেমুখে থাকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর বুকভরা আশা। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হলো, শিক্ষাজীবন শেষ করার পর তাদের একটি বিশাল অংশকেই বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে হতাশার সাগরে ভাসতে হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিভিন্ন প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। দেশে নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মধ্যে বেকারত্বের হার যতটা না বেশি, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি বেকারত্ব দেখা যায় স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে। এটি এমন এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করাটা যেন তরুণদের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে বরং হয়েছে উল্টো। এ সংকটের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে আমাদের সনাতন শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করা হয়। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের চাহিদার মধ্যে বিশাল এক ফারাক তৈরি হয়েছে। আমাদের পাঠ্যক্রম মূলত তাত্ত্বিক জ্ঞাননির্ভর। সেখানে মুখস্থবিদ্যার ওপর জোর দেওয়া হয়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা বা কারিগরি জ্ঞানের অভাব থেকে যায়। বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যেখানে অটোমেশন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। অথচ আমাদের দেশের গ্র্যাজুয়েটরা সেই তুলনায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠতে পারছে না। ফলে একদিকে নিয়োগকর্তারা তাদের পছন্দমতো দক্ষ কর্মী খুঁজে পাচ্ছেন না, অন্যদিকে হাজার হাজার শিক্ষিত তরুণ চাকরির অভাবে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

এ ছাড়া আমাদের সামাজিক মনস্তত্ত্বে সরকারি চাকরির প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক বেকারত্ব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে বিসিএস বা সরকারি চাকরির প্রস্তুতির পেছনে বছরের পর বছর সময় ব্যয় করে। এ দীর্ঘ সময়ে তারা অন্য কোনো দক্ষতা অর্জন করে না বা বেসরকারি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চায় না। যখন সরকারি চাকরি পায় না তখন তারা চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও এ সমস্যার জন্য দায়ী। অথচ উন্নত দেশগুলোতে এ চিত্র ভিন্ন। এ সংকট থেকে উত্তরণে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ। তরুণরা দেশের সম্পদ। তাদের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে। তবে কার্যকর পদক্ষেপের কথা ভাবতে হবে।

আল শাহারিয়া, শিক্ষার্থী

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মহাসড়কে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন গ্রেপ্তার সেই ৬১ আইনজীবী 

অনার্সে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন কোর্স বাতিলের খবর ‘ভিত্তিহীন’ : শিক্ষা মন্ত্রণালয়

তথ্য উপদেষ্টা / ‘শর্ত মেনে’ আ. লীগের যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে

কাশ্মীরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ৭০ জনের বেশি

সা ক্ষা ৎ কা র / ইসলামি অর্থনীতির বিকল্প পথ গ্রহণ না করলে বাজেটের দুষ্টচক্র ভাঙবে না

চসিক মেয়রের সঙ্গে বিসিবি পরিচালক সাকিফ সালামের সাক্ষাৎ

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হত্যার ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ক্লিনশিট  / সেরাদের তালিকায় ব্রাজিলের তিন গোলরক্ষক, নেই কোনো আর্জেন্টাইন

স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

১০

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি

১১

স্টেডিয়ামে ট্রাম্পকে দেখে দর্শকদের দুয়োধ্বনি 

১২

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর কমলো তেলের দাম

১৩

চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন চালু

১৪

স্ত্রীকে হত্যা করে বাসায় তালা দিয়ে পালালেন ছাত্রদল নেতা

১৫

আর্জেন্টিনা সমর্থকের মাথা ফাটাল ব্রাজিল সমর্থক

১৬

বিধ্বস্ত মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ক্রুদের অবস্থা জানালেন ট্রাম্প

১৭

ইসরায়েলের ভাসমান কারাগারে ৫২ ঘণ্টা, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ফ্লোটিলা কর্মীর

১৮

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

১৯

বাবা-ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী

২০
X