

দুদিন পিছিয়ে আগামী ৬ অক্টোবর হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। তবে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগেই সরকার ও বোর্ডের মধ্যকার কিছু কর্মকাণ্ডে হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলা ও বিভাগ এবং ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সংগঠকরা। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি তুলে ধরেন তারা। সেখানে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী তামিম ইকবাল। নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়েও শঙ্কার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিসিবি নির্বাচনের আগে তিনবার কাউন্সিলর তালিকা পাঠানোর মেয়াদ বাড়ায় বিসিবি। অভিযোগ আছে, জেলা ও বিভাগগুলো থেকে পাঠানো কাউন্সিলরদের মনঃপূত হয়নি বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। সে কারণেই তৃতীয়বার মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন করে কাউন্সিলরের নাম পাঠানোর জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের অনুরোধ করেন তিনি। বিষয়টি বোর্ড প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তেই করেছেন নিশ্চিত করে তামিম বলেন, ‘প্রথমবার যখন সময় বৃদ্ধি করা হলো, তখন পরিচালকদের গ্রুপে তিন-চারজন একমত ছিলেন। দ্বিতীয়বার যখন বৃদ্ধি করা হয়, তখন বিসিবি সভাপতি ছাড়া আর কেউ হ্যাঁ বা না কিছুই বলেননি। তিনি নিজ ইচ্ছায় সময় বৃদ্ধি করে দিয়েছেন।’ ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন গঠনের পরও বিসিবি সভাপতি কেন স্বাক্ষর করে নতুন করে কাউন্সিলর চাইলেন সে প্রশ্নও তোলেন তামিম, ‘আমি যদি ভুল না করি, ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশন গঠন করার পর আমার মতে, সবকিছু নির্বাচন কমিশনের করা উচিত।’
বিসিবি সভাপতির এমন কাণ্ডকেই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ঘিরে শঙ্কা দেখা দিয়েছে তামিমের মধ্যে। একই সঙ্গে তার এমন কর্মকাণ্ডকে সরকার স্বাভাবিকভাবে দেখাকে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন আসছে তামিমের কণ্ঠে, ‘কিছুদিন আগে সবাই দেখেছেন—যখন যাকে ইচ্ছা অ্যাডহক কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা কমিটিতে যুক্ত করা। এভাবে করে যদি তারা নির্বাচন করতে চান, তাহলে তো এটা ইলেকশন হলো না; সিলেকশন হয়ে গেল। নির্বাচন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত।’ নির্বাচনের উন্মুক্ততা নিশ্চিতে সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গেও কথা বলেছিলেন জানিয়ে তামিম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তখন তাকে (উপদেষ্টা) আমি একটা কথা বলেছিলাম যে, ভাইয়া আপনার থেকে কোনো কিছু আমি চাই না, একটা জিনিসই চাই। সেটা হলো একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। আমি এর বেশি তার কাছে কোনো কিছু দাবিও করিনি, চাইওনি।’ কিন্তু সেদিনের পর থেকে ঘটা ঘটনাগুলোতে সরকারের হস্তক্ষেপ দেখলেন জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক, ‘তারপর থেকে যে জিনিসগুলো দেখা শুরু করলাম, আমরা যা দেখছি, জেলা-বিভাগে যা হচ্ছে, এমনকি ক্লাবে যা হচ্ছে, এটা আসলে ঠিক হচ্ছে না। আমার কাছে মনে হয় এখানে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে উপর্যুপরি হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে জেলা ও বিভাগীয় ডিসি, কমিশনারদের দেওয়া চিঠিগুলো বিসিবি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করেন তামিম, ‘চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কীভাবে কী করতে হবে। এনএসসির সচিব থেকে বিভিন্ন সময়ে চিঠি দেওয়া, বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা—এ বিষয়গুলো বিসিবিতে কেন হবে?’ তামিমদের দাবি দ্বিতীয় মেয়াদে পাঠানো কাউন্সিলর দিয়েই যেন হয় বিসিবি নির্বাচন, নতুন করে নোংরামি দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন বাঁহাতি এ ওপেনার। সুষ্ঠু নির্বাচনে সরকার বা কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ, পক্ষপাতিত্ব থাকবে না বলেও আশা রাখেন তিনি।