

বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের ৬ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদিনই হাস্যকর সব নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। যে কোনোভাবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে জিতিয়ে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে ক্রীড়া প্রশাসন। তামিম ইকবালকে হারানোর নীল নকশা প্রস্তুতে নানা কৌশল আঁটছেন তারা। সে কারণে বুলবুল বনাম তামিমকে ঘিরে ক্রিকেট অঙ্গনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তপশিল অনুসারে কাউন্সিলররা আপত্তি জানাতে গিয়েও নির্বাচন কমিশনারদের খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত অভিযোগ জমা দিতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনারের ডামি প্রতিনিধিকে।
নির্ধারিত সময়ের এক দিন পর মঙ্গলবার রাতে বিসিবির নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সেই ভোটার তালিকা করতে গিয়ে তপশিলে আনা হয়েছে কিছু পরিবর্তন। তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেট নিয়ে দুদকের তদন্তের সুপারিশ থাকায় খসড়া তালিকায় ক্যাটাগরি-২ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ১৫টি ক্লাবকে। ক্যাটাগরি-১-এর তালিকায় নাম আসেনি সিলেট, নরসিংদী, নওগাঁ, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার কারও। এই অসংগতি নিয়ে আপত্তি জানাতে বাদ পড়া ১৫ ক্লাবের প্রতিনিধিরা বুধবার গিয়েছিলেন বিসিবির নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে। বাদ পড়া নাখালপাড়া ক্লাব প্রতিনিধি লোকমান হোসেন ভূঁইয়া নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন আপত্তি জানাতে। মনোনীত তিন কমিশনারের কাউকে না পেয়ে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআইডি কর্মকর্তার কাছে আপত্তি জানিয়ে এসেছেন।
বিসিবির নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিবেচিত হচ্ছেন ‘সরকারি’ প্রার্থী হিসেবে। তার জয় শতভাগ নিশ্চিত করার জন্যই ক্রীড়া প্রশাসনের পরামর্শে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বিসিবির নির্বাচন কমিশন। বুলবুলের প্রতি সরকারের এমন প্রকাশ্য সমর্থনের সমালোচনা করে বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক বলেন, ‘বিসিবির নির্বাচন নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টার স্বৈরাচারী মনোভাব কোনোভাবেই কাম্য নয়। এসব কাজ ক্রিকেট খেলাকেই কলুষিত করছে। তামিম বলে নয়, আমরা চাই ক্রিকেটে যোগ্য নেতৃত্ব আসুক।’ আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বন্ধু সাবেক ক্রিকেটার হালিম শাহ ডিওএইচএসের কাউন্সিলর তামিম কী করে হয়, তা নিয়ে হাস্যকর এক প্রশ্ন তুলেছেন। আরেক কাউন্সিলর, সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু দুই ঘণ্টা বিলম্বে ফারুকের কাউন্সিলরশিপ ফরম বাতিলের জন্য দাবি জানিয়েছেন। বিসিবির পরিচালক ইফতেখার আহমেদ মিঠু বলেছেন, ‘এবার যা দেখছি, দেশের গত ৪০ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন হাস্যকর কাজকর্ম কখনোই দেখিনি।’
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন ৬ অক্টোবর। আসন্ন সেই নির্বাচন হাস্যকর বিতর্কে রূপ নিয়েছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের দেওয়া চিঠির ওপর রিট করেন জেলা বিভাগীয় কাউন্সিলররা। সোমবার বুলবুলের চিঠির কার্যকারিতা ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট। পরে সেটা স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এরপর ১৭৭ জন কাউন্সিলরের নাম প্রকাশ করে বিসিবির নির্বাচন কমিশন। যেখানে ৬ জেলা ও ১৫ ক্লাবের কোনো প্রতিনিধি নেই। ফলে নির্বাচন সুষ্ঠ হবে কি না, তা নিয়ে প্রবল সংশয় তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন নিজের ফেসবুক পেজে গতকাল লিখেছেন, ‘বিসিবি নির্বাচন ঘিরে যা হচ্ছে, এসব কখনোই কাম্য নয়। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের ভবিষ্যতের ব্যাপার। আমরা চাই, বিসিবি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক।’ কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যা, তাতে অনেকে মনে করছেন, ‘নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ হওয়ার সম্ভবনা নেই।