

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল দিয়েছে, তবে তা নিয়ে দেশের ভেতরে সমালোচনা আছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়ন করেনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের ভেতরে কেউ কেউ আলোচনার অর্জনকে খাটো করে দেখছেন। তবে তার দাবি, আলোচনার ফল প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে।
তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি পুনরায় চালুর বিষয়টি ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করেনি।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে জাতীয় ঐক্য ও জনগণের সংহতির কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
তার মতে, সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র আবার আলোচনার পথে ফিরে এসেছে।
পেজেশকিয়ান আরও জানান, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বর্তমান ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খামেনির সঙ্গে তার বৈঠক বেড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ইরানে সরকার পরিবর্তনের কৌশল নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করতে চান। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে উৎসাহ দেওয়া এবং কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপে এখনো কার্যকর কৌশল খুঁজে পায়নি ওয়াশিংটন।
একই প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সামরিক বিকল্পও সীমিত। কারণ বিমান হামলায় কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি এবং স্থল অভিযান চালানোর মতো রাজনৈতিক সমর্থনও নেই। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ব্যারি ম্যাকক্যাফ্রির মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থল অভিযান চালাতে হলে প্রায় ছয় লাখ সেনা এবং প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।