

পুরোনো দিনের নানা প্রশ্ন, অনিয়ম-অসংগতি এক পাশে রেখে আজ আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন গঠিত হওয়ার হওয়ার পর এটি কততম সাধারণ সভা—এ নিয়ে নিশ্চিত নন খোদ সাঁতার ফেডারেশন কর্মকর্তারা! ২০০৫ সালের পর এটি হতে যাচ্ছে প্রথম।
বিগত দিনে নানা অসংগতি নিয়েই চলেছে দেশের সাঁতার কার্যক্রম। বছরের পর বছর সরকারি, বেসরকারি বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হলেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ন্যূনতম চর্চা ছিল না। যে কারণে বিগত দিনের নানা খরচ নিয়ে প্রশ্নে উঠেছে। প্রশ্ন ওঠা এমন কার্যক্রমের কিছু কাগজপত্র এসেছে কালবেলার হাতে। সে কাগজপত্রের সূত্র ধরে নিজস্ব অনুসন্ধানে খরচের সঙ্গে বাস্তবের মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অসংগতি ধরা পড়েছে ইন্টারন্যাশনাল কোচিং এনরিচমেন্ট সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের (আইসিইসিপি) খরচে আওতা পরিচালিত প্রতিভা অন্বেষা কার্যক্রমে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে পরিচালিত ওই কার্যক্রমে বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন থেকে দেওয়া হয়েছে ২ লাখ টাকা। যার খরচ দেখানো হয়েছে হাতে তৈরি করা এক ভাউচারে। যাতে পাঁচ খাতে ২ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। আইসিইসিপির আওতায় কিশোরগঞ্জে প্রতিভা অন্বেষা কার্যক্রমে যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৪০ হাজার, নাশতা ও দুপুরের খাবার বাবদ দেখানো হয়েছে ৬১ হাজার ৫৪০ টাকা। কুষ্টিয়ার কার্যক্রমে যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা বাবদ দেখানো হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা। নাশতা ও দুপুরের খাবার বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৪৮ হাজার ৪৬০ টাকা। ব্যানার বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশ সাঁতারের উর্বর ভূমি হিসেবে খ্যাত কিশোরগঞ্জের নিকলী ও কুষ্টিয়ার আমলার প্রতিভা অন্বেষা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিল-ভাউচারে যে খরচ দেখানো হয়েছে। বাস্তবতার সঙ্গে কিন্তু তার মিল নেই। কার্যক্রম ছিল সাইনবোর্ড, ব্যানার সর্বস্ব; তাতে এত অর্থ ব্যয় হওয়ার দাবি হাস্যকর!
এ তো গেল ছোট একটা কার্যক্রমের ফিরিস্তি। বিগত দিনে ফেডারেশনের নানা কার্যক্রমে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। যার হিসাবের কোনো হদিস নেই। বর্তমান কমিটি বার্ষিক সাধারণ সভায় আয়োজন করার মাধ্যমে কি বিগত দিনের সব হিসাবের দায় নেবে? প্রশ্ন করা হয়েছিল বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহীনের কাছে। এ সংগঠক উত্তরে বলছিলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। এ সময়ের মধ্যে যত খরচ হয়েছে, তার দায়দায়িত্ব তো বর্তমান কমিটির।’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাজী মহসিন হলে আয়োজিত হবে বার্ষিক সাধারণ সভা।
কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাধারণ সভা আয়োজনের বিকল্প নেই। কিন্তু সাঁতার ফেডারেশনে দুই দশকের ব্যবধানে কেন এ সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলো? প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান শাহীন বলছিলেন, ‘নিকট অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা নিজেদের কার্যক্রম সম্পর্কে বলতে পারবেন। আমাদের মতো ফেডারেশনে বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন করতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন। সভা আয়োজন করা কঠিন, কিন্তু স্বচ্ছতার জন্য তো এটা করতেই হবে।’