

বাংলাদেশ নারী দল সাম্প্রতিক সময়ে উন্নতি করলেও থাইল্যান্ডের মতো এশিয়ার প্রতিষ্ঠিত দলের সঙ্গে দূরত্ব রয়েই গেছে। সেটা প্রমাণিত হলো গতকাল ফিফা প্রীতি ম্যাচে। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে থাইল্যান্ড।
ম্যাচের প্রথম আক্রমণই গোলে পরিণত করে স্বাগতিক থাইল্যান্ড, লক্ষ্যভেদ করেন ওরাপিন ওয়েনগোয়েন। ২৩তম মিনিটে গোলরক্ষক রুপনা চাকমার কৃতিত্বে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ২৭তম মিনিটেও রুপনা স্বাগতিকদের আরেকটি প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছেন। ৩৪তম মিনিটে গোল পেতে পারত বাংলাদেশ—৪০ গজ দূর থেকে মনিকা চাকমার শট পোস্টে লেগে ফিরেছে। ৪৯তম মিনিটে ফের বাংলাদেশকে গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা করেন রুপনা। ৫১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাওয়ালাক পেংনাম। ৫৯তম মিনিটে আবারও ত্রাতা রুপনা। ৮৬তম মিনিটে ৩-০ করেন পাত্তারানান আউপাচাই। ৮৯তম মিনিটে শামসুন্নাহারের হেড ক্রসবার উঁচিয়ে বাইরে গেছে।
২০১৩ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশকে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল থাইল্যান্ড। গত এক যুগে লাল-সবুজরা উন্নতি করেছে বটে, থাইল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে তফাত এখনো রয়েই গেছে। ফিফা র্যাংকিংয়েও সেটা পরিষ্কার হচ্ছে। সর্বশেষ প্রকাশিত র্যাংকিং অনুযায়ী থাইল্যান্ড আছে ৫৩ নম্বরে, বাংলাদেশের অবস্থান ১০৪। এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব অনেকটা কমিয়েছে, যার প্রভাবে থাইল্যান্ড সাত ধাপ অবনতির পর ৫৩ নম্বরে নেমে এসেছিল। অপরদিকে ২৪ ধাপ উন্নতি করে বাংলাদেশ এসেছিল ১০৪ নম্বরে। থাইল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে সোমবার। প্রথমটি রুদ্ধদ্বার থাকলেও সে ম্যাচ উন্মুক্ত থাকবে। দুই ম্যাচ সিরিজের শেষটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ম্যাচ ভেন্যু এবং ফ্লাডলাইট নিয়ে নাখোশ ছিলেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। সাবেক এ ফুটবলারের কথায়, ‘আমি ঠিক জানি না, এটা আদৌ টায়ার-ওয়ান প্রীতি ম্যাচ ছিল কি না। কারণ আমরা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলেছি, যেখানে আলো ঠিকঠাক ছিল না।’ ম্যাচ সম্পর্কেও ঠিক সন্তুষ্ট হতে পারেননি বাংলাদেশ কোচ, ‘আমার মতে, আমরা অনেক ইতিবাচক দিক পেয়েছি। আমি মনে করি, কিছু মেয়ে ভুল মনোভাব নিয়ে এসেছিল।’ ম্যাচে দলের একাধিক সদস্যের মনোভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পিটার বাটলার। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এ কোচ বলেছেন, ‘আমি অলসতা সহ্য করব না। যদি কেউ আমার দলের হয়ে খেলতে চায়, যদি তারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চায়; তাদের মনোভাব অবশ্যই জাতীয় দলের উপযুক্ত হতে হবে। আমরা হারি বা জিতি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটা শেখার একটা ধাপ। আর এটা সম্মানের ব্যাপার।’ পিটার বাটলার আরও বলেছেন, ‘আমরা অনেক তরুণীকে সুযোগ দিয়েছি—শিখা, নবিরন, জয়নব, সাগরিকা, মুনকি, রিপা, হালিমা। কিন্তু এটা তাদের জাতীয় দলের ম্যাচের মতো লাগেনি। এটা যেন একটা উন্নয়নমূলক ম্যাচ ছিল, যেখানে শেখার সুযোগ বেশি ছিল।’