

তীর-ধনুকের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। সকাল থেকেই মুখর থাকছে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স। এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপের ২৪তম আসরে প্রত্যাশার পারদ চড়ছে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ঘিরে।
২০২১ সালে বাংলাদেশ এশিয়ার সর্বোচ্চ আসর থেকে তিনটি পদক জিতেছিল। অর্জনের খাতায় ছিল দুই ব্রোঞ্জ ও এক রুপা। তিন পদকই এসেছিল রিকার্ভ ইভেন্ট থেকে। এবার রিকার্ভের পাশাপাশি কম্পাউন্ড ইভেন্টে থেকেও ভালো করার প্রত্যাশায় লাল-সবুজরা। বাংলাদেশ দলের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ প্রথম লক্ষ্য হিসেবে স্থির করেছেন পদক পুনরুদ্ধার করার বিষয়কে। ২০২১ সালের সাফল্যের পর ২০২৩ সালের আসরে বাংলাদেশ ছিল পদকশূন্য।
বাংলাদেশ দলের কোচ এ সম্পর্কে কালবেলাকে বলেছেন, ‘২০২১ সালের আসরে আমরা তিন পদক জিতেছিলাম। আপনারা জানেন, ২০২৩ সালে আমরা ছিলাম পদকশূন্য। এবার প্রথম টার্গেট হচ্ছে পদক পুনরুদ্ধার করা। তারপরও আমরা ইভেন্ট বাই ইভেন্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করব।’ ২০২৩ সালের থাইল্যান্ড আসরের আক্ষেপ ঘোচানোর মিশনে নির্দিষ্ট কোনো ইভেন্ট কিংবা তীরন্দাজের নাম উল্লেখ করতে নারাজ ৫৭ বছর বয়সী কোচ মার্টিন ফ্রেডেরিখ। অভিজ্ঞ এ কোচের কথায়, ‘নির্দিষ্ট কোনো বিভাগ বা খেলোয়াড়ের নাম আমি আলাদাভাবে উল্লেখ করতে চাই না। কারণ, আমাদের কম্পাউন্ড দল ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে, রিকার্ভ দলটাও ভালো। আমরা সবদিক থেকে উন্নতির ছাপ রাখতে চাই। এ জন্য ছেলেমেয়েরা পুরোপুরি প্রস্তুত আছে।’
সিটি গ্রুপের পণ্য তীরের পৃষ্ঠপোষকতার আসর আজই শুরু হচ্ছে। রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড মিলিয়ে ১০ ইভেন্টের পদকের লড়াইয়ে নামছেন ৩০ দেশের ২০৯ জন আরচার। যার মধ্যে থাকছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী আরচারও—রিকার্ভ ডিভিশনে ৫৪ এবং কম্পাউন্ডে ৩৮ জন মিলিয়ে মোট ৯২ জন। ৮০ জন অফিসিয়াল ও ১৭ জন অতিথিও অংশ হচ্ছেন এশিয়ান আরচারি যজ্ঞে। ২০১৭ ও ২০২১ সালের পর তৃতীয়বারের মতো এই আসরের আয়োজন করছে বাংলাদেশ।
তীর-ধনুকের লড়াই শুরুর আগে র্যাংকিংয়ে ৭৫তম স্থানে থাকা রিকার্ভ ডিভিশনের তীরন্দাজ সাগর ইসলাম বলেছেন, ‘দেশের মাঠে এবারের প্রতিযোগিতা। স্বাভাবিকভাবে অনেক কিছু আমাদের পক্ষে থাকবে। এখানকার সবকিছুই আমাদের চেনাজানা। এই প্রতিযোগিতার জন্য আমরা বছরজুড়ে ক্যাম্পে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আশা করি, পরিশ্রমের ফল আমরা পাব। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারব।’
র্যাংকিংয়ের ৭১তম স্থানে থাকা রিকার্ভ ডিভিশনের আরেক আরচার আব্দুর রহমান আলিফ বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক ভালো মানের খেলোয়াড় এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে এসেছে অনেকে। অভিজ্ঞতায় তারা হয়তো এগিয়ে থাকবে, আমাদেরও আত্মবিশ্বাস আছে দেশকে ভালো কিছু এনে দেওয়ার। আরচারিতে নির্দিষ্ট দিনে সেরাটা মেলে ধরতে পারলে র্যাংকিংয়ের অবস্থান জয় করে ভালো কিছু করা সম্ভব।’ র্যাংকিংয়ে ৮৫তম স্থানে থাকা কম্পাউন্ড ডিভিশনের বন্যা আক্তার এ আসর থেকে পরিশ্রমের সুফল তুলতে চান, ‘কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখের অধীনে আমরা এতদিন অনুশীলনে যে পরিশ্রম করেছি, সে পরিশ্রমের ফল তুলে আনার উপলক্ষ এই আসর। সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে আমরা দেশকে ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা করব।’