

তখনো বাংলাদেশের ক্রিকেট এখনকার মতো এতটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। বছরের পর বছর দলকে কাটাতে হতো জয়হীনতার হতাশায়। তবু মাঝেমধ্যে পাওয়া সাফল্যগুলো দেশজুড়ে উদযাপিত হতো দারুণ আবেগে। সেই উদযাপনে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও অংশ নিতে দেখা যেত। খালেদা জিয়া ছিলেন এমনই একজন ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। ক্রিকেট জীবনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি তিনি কালবেলার সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন।
একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সবকিছুই বিচক্ষণতার সঙ্গে উপলব্ধি করতেন খালেদা খালেদা। ২০০১-০৬ পর্যন্ত তার শাসনামলেই টেস্টের মতো গৌরবময় সংস্করণে জয়ের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডেতেও বড় দলগুলোর বিপক্ষে মিলেছিল জয়ের দেখা। ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে ঢাকা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে জয়ের পর গভীর রাতে বাংলাদেশের তৎকালীন অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনকে নিজের সরকারি বাসভবনে দাওয়াত করেছিলেন তিনি। সেই স্মৃতি তুলে ধরে সুমন বলেন, ‘খুব বেশি উনার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। কিন্তু যে কয়বার হয়েছে—তার মধ্যে দুটো আমি বিশেষভাবে মনে রেখেছি। উনি খুব বেশি কথা বলতেন না। কিন্তু যেটুকুই বলতেন, মনের খুশিটা ফুটে উঠত। ২০০৪ সালে যখন আমরা ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে জিতেছিলাম। তখন গভীর রাতে উনার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম; উনি এত বেশি খুশি ছিলেন। নিজের হাতে আমাদের মিষ্টি খাইয়েছিলেন।’
সুমনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার আরেকটি স্মৃতি ২০০৫ সালে। চট্টগ্রামে প্রথমবার টেস্ট ক্রিকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ঠিক পাঁচ বছর পর জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানে হারিয়েছিলেন সুমনরা। সেই ম্যাচের পর ফোন করে সুমনদের অভিনন্দন জানান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সুমন বলছেন, ‘উনার গলার আওয়াজেই বুঝতে পেরেছিলাম আমাদের জয়ে কতটা রোমাঞ্চিত ছিলেন উনি।’ ক্রীড়াঙ্গনের কাঠামো উন্নয়নে খালেদা জিয়ার বড় ভূমিকা যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে আছে।