

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএল ২০২৬-এ ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন এই তরুণ ব্যাটার। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাওয়ার পাশাপাশি জাপানে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ এশিয়ান গেমসের সম্ভাব্য দলেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তিনি।
তবে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পরও বৈভবের চোখ আরও বড় লক্ষ্যেই। তার স্বপ্ন শুধু ভারতীয় দলে খেলা নয়, বরং আগামী ১০ থেকে ২০ বছর বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করা।
রাজস্থান রয়্যালসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৈভব বলেন, ‘আমি ভাবি, আগামী ২০ বছর বা যতদিন ঈশ্বর আমাকে দেশের হয়ে, কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে কিংবা কোনো দলের হয়ে খেলার সুযোগ দেবেন, ততদিন এমনভাবে খেলতে চাই যাতে মানুষ আমাকে মনে রাখে। মানুষ যেন ম্যাচের কথা ভাবলে বলে, এই খেলোয়াড় মাঠে নামলে একাই ম্যাচ শেষ করে দিতে পারত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই সেই আধিপত্যটা দেখা যাক। কারণ আমি সেজন্যই কঠোর পরিশ্রম করছি। শুধু ম্যাচ খেলা বা শেষ করে আসা নয়, আমি চাই ১০-২০ বছর ধরে দাপটের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে। ক্রিকেট শুরু করেছি কারণ আমি এটি উপভোগ করি। তাই আনন্দ নিয়েই খেলতে চাই।’
আইপিএলে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা বৈভব ইতোমধ্যে সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ২০২৬ মৌসুমে ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান করে জিতেছেন অরেঞ্জ ক্যাপ। তবে তার লক্ষ্য কেবল টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে নয়, তিন সংস্করণেই ভারতের হয়ে খেলা।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে জানতে চান আমি লাল বলের ক্রিকেট খেলতে চাই কি না। আমি বলতে চাই, আমি অনেক লাল বলের ক্রিকেট খেলেছি, অনুশীলনও করেছি। রাজ্যের হয়ে অনেক ম্যাচ খেলেছি এবং ভবিষ্যতেও খেলতে চাই।’
বৈভব জানান, ফরম্যাট অনুযায়ী নিজের ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত তিনি। ‘টি-টোয়েন্টিতে যেভাবে ব্যাট করি, সেটি এই ফরম্যাটের প্রয়োজন। লাল বলের ক্রিকেটে খেলতে হলে আমি নিজেকে বদলাব। ওয়ানডের জন্যও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনব। আমার স্বপ্ন ভারতের হয়ে তিনটি ফরম্যাটেই খেলা।’
জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পাশাপাশি আইপিএলের ফাইনাল দিনে নিজের আদর্শ বিরাট কোহলির সঙ্গে দেখা হওয়ার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন বৈভব।
তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, বিরাট ভাই যখন আমার কাঁধে হাত রাখলেন, তখন মনে হয়েছিল স্বপ্ন দেখছি। আমি ছোটবেলা থেকেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সমর্থক ছিলাম এবং বিরাট কোহলির বড় ভক্ত। তিনি যখন আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন তাকে সুপারস্টার মনে হয়নি, বরং বড় ভাইয়ের মতো মনে হয়েছে।’
বিরাট তাকে খেলার ইতিবাচক দিক, উন্নতির জায়গা এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান বৈভব।
ভারতের শক্তিশালী টপ অর্ডারের কারণে জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই তার।
বৈভবের ভাষায়, ‘দেশের হয়ে খেলা সবার স্বপ্ন। তবে আমার লক্ষ্য হলো, যখনই সুযোগ আসবে, আমি যেন নিজের কাজটা ঠিকভাবে করতে পারি। বাকিটা সময়ই বলে দেবে।’