

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। আগেও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ছিল বিসিবিতে। তবে এবার যেন অতীতের সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় সংসদেও বিসিবিকে বলা হয়েছে ‘বাপের দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ড। সব সমালোচনা ঝেড়ে ফেলে তামিম এখন দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
প্রশ্নবিদ্ধ, বিতর্কিত নির্বাচন বিসিবিতে নতুন কিছু নয়। আজ অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনও একই রকম। এবার তামিম ৭৪ ভোটের মধ্যে ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক হয়েছেন। পরিচালকদের ভোটে বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৭তম বিসিবি সভাপতি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আজ তামিম বলেন, ‘অনেকে অনেক রকম ট্যাগ দিচ্ছেন। দেখি বাপের দোয়া থেকে ক্রিকেটের দোয়া করতে পারি কি না।’
সবশেষ গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে সভাপতি হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সহ-সভাপতি হয়েছিলেন শাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ। আট মাস পর আজ অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে সহ-সভাপতি হয়েছেন ফাহিম সিনহা। কেন একজন সহ সভাপতি এবারের বিসিবি নির্বাচনে—এর ব্যাখ্যায় তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্রে দুই জন সহ-সভাপতি দিতে পারি আমরা। কিন্তু এটাতে অতীতের যে অভিজ্ঞতা, তাতে অনেকের মধ্যে ইগো চলে আসে। যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব দেখা যায়।’
বিসিবি নির্বাচন উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় কেটেছে তামিমের। স্বাভাবিকভাবেই তিনি অনেক ক্লান্ত। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর কী কী করবেন, তা ধাপে ধাপে সবাইকে জানানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তামিম। নবনির্বাচিত বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমার কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে আপনাদের জানাব। অ্যাডহক কমিটিতে থাকা অবস্থাতেই কিছু কিছু জিনিসের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আশা করি, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে পারব। আজ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এখানে আছি। খুবই ক্লান্ত। আমার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করতে চাই আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। তবে যা-ই করি, সব আপনারা জানতে পারবেন। আমি আপনাদের ক্রিকেটের এই ইকোসিস্টেমের বড় অংশ মনে করি।’
২৫ জন পরিচালকের মধ্যে ১২ জন আজ ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তামিম নিজেই ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের কাউন্সিলর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ক্লাব ক্যাটাগরিতে ১৬ জন থেকে ১২ জন নির্বাচিত হয়েছেন। যাঁদের মধ্যে আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহীম, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরুর ছেলে ইসরাফিল খসরু ও মন্ত্রী পদমর্যাদায় রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির।
যে ক্যাটাগরি থেকে তামিম নির্বাচন করেছেন, তা অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল বলে দাবি তার। নতুন বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমি যে ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচন করেছি, অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। একজন মাত্র এক ভোটের জন্য পরিচালক হতে পারেননি। আমাকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন সময়ে বলেছেন যেন একটা প্যানেল ঘোষণা করা হয়। প্যানেল ঘোষণা করলে এক তরফা নির্বাচন হয়ে যেত। আমি এ কারণেই প্যানেল ঘোষণা করতে চাইনি। এখানে ১৬ প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সবাইকে সমান সুযোগ দিতে চেয়েছি।’
গত এক-দেড় বছরে ক্রিকেটের যা দুর্নাম হয়েছে, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হবে না বলে মনে করেন তামিম। সে লক্ষ্যে সবার সহায়তা কামনা করেছেন তিনি। আজ সাংবাদিকদের বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সামনে অনেক কঠিন পথ আসবে। আমরা ভুল করব। ভুল থেকে শিখে সঠিক কাজ করব। এটাই আমাদের করা উচিত। আমরা তাই করব। কিন্তু ক্রিকেটের ওপরে কোনো কিছু ত্যাগ করব না। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত সবাইকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে। গত এক-দেড় বছরে এখানে ঘাটতি ছিল। আমি আপনাদের অনুরোধ করব। অনেক ধরনের আলোচনা হয়েছে। অনেক কথা বলা হয়। আমাদের কোনো ভুল হলে অবশ্যই সমালোচনা করবেন। তবে আমাদের একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে ক্রিকেটের অনেক দুর্নাম হয়েছে। এটা আমি একা ঠিক করতে পারব না। আপনাদের প্রত্যেকের সমর্থন দরকার হবে।’
নির্দিষ্ট কারও দিকে অভিযোগের আঙুল না তুললেও তামিম স্বীকার করছেন, সম্প্রতি অনেক কিছু হয়েছে যা দেশের ক্রিকেটের জন্য কল্যাণকর নয়। নবনির্বাচিত বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস এই রুমে প্রত্যেকেই চান যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বিশ্ববাসী ইতিবাচক চোখে দেখেন। সাংবাদিক, পরিচালক থেকে শুরু করে বিসিবিতে যারা কাজ করেন, প্রত্যেকেই এর অংশ। গত এক-দেড় বছরে যা হয়েছে, তার জন্য আমি কাউকে দোষারোপ করব না। কারও দিকে অভিযোগের আঙুল তুলব না। তবে যা হয়েছে, সেটা স্বীকার করতেই হবে।’
আট মাসের মধ্যে দুবার হয়েছে বিসিবি নির্বাচন। গত বছরের অক্টোবরে আমিনুল ইসলাম বুলবুল হয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। সহসভাপতি হয়েছিলেন ফারুক আহমেদ ও শাখাওয়াত হোসেন। গত ৭ এপ্রিল বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর তামিমকে করা হয়েছিল অ্যাডহক কমিটির প্রধান। এবার তিনিই হলেন ১৭তম বিসিবি সভাপতি। চার বছরের জন্য বিসিবি সভাপতি হয়ে কী করতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়।