

একসময় ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই চট্টগ্রামের পাড়া-মহল্লায় শুরু হতো উৎসবমুখর উন্মাদনা। বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগে থেকেই বাসাবাড়ির ছাদে প্রিয় দলের পতাকা টাঙানো, দেয়ালে খেলোয়াড়দের ছবি আঁকা কিংবা দলভিত্তিক নানা আয়োজন ছিল সাধারণ দৃশ্য। সময়ের পরিবর্তনে সেই উন্মাদনার অনেকটাই স্থানান্তর হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বর্তমানে তরুণরা ফেসবুকের প্রোফাইল ছবি ও কাভার ফটো পরিবর্তন করে প্রিয় দলকে সমর্থন জানাচ্ছেন। খেলা দেখার মাধ্যমেও এসেছে পরিবর্তন। স্মার্টফোন, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবহার বাড়লেও পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে টেলিভিশনে বসে খেলা দেখার ঐতিহ্য এখনো অটুট রয়েছে।
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘনিয়ে এলেই টেলিভিশনের বাজারে চাঙাভাব দেখা যায়। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হওয়া এই প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দিচ্ছে নানা ধরনের অফার ও ছাড়।
নগরীর বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস শোরুম ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে ৩২ ইঞ্চির স্মার্ট টিভির দাম ব্র্যান্ডভেদে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা, ৪৩ ইঞ্চির স্মার্ট টিভির দাম ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ৫০ থেকে ৬৫ ইঞ্চির স্মার্ট টিভির দাম ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকারও বেশি।
একসময় যেখানে সিআরটি (বক্স আকৃতির) টেলিভিশনের চাহিদা ছিল বেশি, সেখানে এখন বাজার দখল করে নিয়েছে স্মার্ট এলইডি টিভি। অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক নানা সুবিধা থাকায় এসব টিভির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি।
প্রায় দুই দশক ধরে এ খাতে ব্যবসা করছেন নগরীর জামালখান এলাকার র্যাংগস ই-মার্টের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার তৌহিদুল আলম। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘বক্স টেলিভিশনের যুগে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রচুর টিভি বিক্রি করেছি। এখনো বিক্রি ভালো হচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর দোকান খোলা রাখার সময় কমে যাওয়ায় কিছুটা প্রভাব পড়ছে।’
নগরীর চকবাজার এলাকার সিঙ্গার শোরুমের ম্যানেজার জাফর উদ্দিন কালবেলাকে জানান, বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অফার চালু করেছে। তিনি বলেন, ‘৩২ ইঞ্চির একটি স্মার্ট টিভি কিনলেই জার্সি অথবা ফুটবল উপহার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন অনেক ক্রেতা পরিবার-পরিজন নিয়ে শোরুমে এসে অফার সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। ক্রেতাদের সুবিধার্থে ৬ মাস থেকে ১ বছরের কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম বৃহৎ ইলেকট্রনিকস বাজার রিয়াজুদ্দিন বাজার এলাকার রাইফেল ক্লাব মার্কেট ও শাহ আমানত মার্কেট। এসব মার্কেটে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টেলিভিশনের পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামের বিকল্প পণ্যও পাওয়া যায়।
শাহ আমানত মার্কেটের ব্যবসায়ী তিলক চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টেলিভিশনের বিকল্প সংস্করণ পাওয়া যায়। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষ ও চাকরিজীবীদের আগ্রহ বেশি থাকে। অনেকের বেতন মাসের ১০ তারিখের পর হওয়ায় এখনো খুব বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে না। তবে ১০ তারিখের পর বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।’