

খুদে প্রতিভা পরিচর্যায় বার্সেলোনার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি হার্নান্দেজদের পথ ধরে হালের লামিনে ইয়ামাল-ফারমিন লোপেজরা উঠে এসেছেন লা মাসিয়া থেকে। একের পর এক তারকা জন্ম দেওয়ার কারণে অনেক উদীয়মান ফুটবলারের স্বপ্নের নাম বার্সেলোনা। মেহেদী হাসান রিদমের স্বপ্নটাও ঘুরপাক খাচ্ছে বার্সার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিকে ঘিরে।
জন্ম নরসিংদী জেলার রায়পুরায়। বেড়ে ওঠাও এখানেই। ফুটবল তাকে ৮০০ হাজার কিলোমিটার দূরের ইতালির রোমে নিয়ে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের গৌরবময় ফুটবল ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে মেহেদী হাসান রিদম। দেশটির অপেশাদার সেক্সা ফ্লামিনিয়া লাবারো ক্লাবে নিজের ফুটবল প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে যাচ্ছে খুদে এ ফুটবলার।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাডেমির ফুটবলারদের নিয়ে বার্সেলোনা প্রতি বছর ‘একাডেমি ওয়ার্ল্ড কাপ’ আয়োজন করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হওয়া একাডেমির খুদে ফুটবলারদের বিভিন্ন দেশের নামে গড়া দলে বিভক্ত করে খেলানো হয় এই আসরে। এবারের আয়োজনে ইতালি, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও ফ্রান্স অংশ নিচ্ছে। দলগুলোর ফুটবলার বণ্টনে মেহেদী হাসান রিদম গেছেন লুক্সেমবার্গ দলে।
একাডেমি ওয়ার্ল্ড কাপে অংশ নেওয়া খুদে ফুটবলারদের মধ্য থেকে প্রতিভাবানদের বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমিতে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। তেমন প্রস্তাব পেলে এক মুহূর্ত না ভেবে সেটা লুফে নিতে চান রিদমের বাবা আসাদ মিয়া। ইতালি থেকে মোবাইল ফোনে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘শুধু আমার নয়, হাজারো-লাখো-কোটি উদীয়মান ফুটবলার এবং তাদের পরিবারের স্বপ্ন থাকে বার্সেলোনায় খেলার। আমার এবং রিদমের স্বপ্নও একই। এখানে যদি সে নিজের প্রতিভা মেলে ধরতে পারে, আর বার্সেলোনা যদি আগ্রহ দেখায়—এক মুহূর্ত না ভেবে হ্যাঁ বলে দেব।’
তরুণ প্রতিভা পরিচর্যা করা ইতালিয়ান কোচ মাসিমিলিয়ানো কোলেত্তার অধীনে মাসে ৮ সেশন অনুশীলন করে মেহেদী হাসান রিদম। ব্যক্তিগত কোচ হিসেবে আছে মরক্কোর সাঈদ বেনাদ্দি। এ ছাড়া ক্লাব কোচ ফ্যাবিও ডি রুবিসের অধীনে অনুশীলন করছে ইতালিতে বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলে আলো ছড়ানো এই ফুটবলার। তার বাইরে ফিটনেস ট্রেইনার, পুষ্টিবিদসহ ফুটবলার হিসেবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সব সেবাই নিচ্ছে রিদম।
বার্সেলোনা একাডেমি ওয়ার্ল্ড কাপ খেলতে সন্তানকে নিয়ে স্পেন যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আসাদ মিয়া। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘বার্সেলোনা আমাদের সঙ্গে আগাম চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিভার ভিত্তিতে পছন্দ হলে তারা রিদমকে লা মাসিয়া একাডেমিতে রেখে দেবে। এখন দেখা যাক ছেলেটা কতদূর কী করতে পারে। আমার চেয়ে বেশি আশাবাদী রিদম—সে প্রতিনিয়ত বলছে, বাবা দেখো, আমি বার্সেলোনায় থেকে যাব।’
বিভিন্ন বয়স বিভাগে হয়ে থাকে বার্সেলোনা একাডেমি ওয়ার্ল্ড কাপ। ১৬ বছর বয়সী মেহেদী হাসান রিদম খেলবে অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে। লুক্সেমবার্গ দলের জন্য মনোনীত খুদে ফুটবলারদের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি সে। ইতালিতে বেড়ে উঠলেও বাংলাদেশ নিয়ে বেশ আন্তরিক রিদম ও তার বাবা আসাদ মিয়া। ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ আসে, তা আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান রিদমের বাবা।