

বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ‘এল’ গ্রুপে ইংল্যান্ড-ঘানা ম্যাচ নকআউট পর্বে জায়গা পাকা করার দৌড়ে পরিণত হয়েছে। দুই দলই প্রথম ম্যাচ জিতেছে, সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট করে। ইংল্যান্ড প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। ঘানা পানামাকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। দুই দলের প্রথম ম্যাচের চরিত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা—একটি দলের জয়ে ছিল ঝলমলে আক্রমণ, অন্যটিতে কষ্টার্জিত ধৈর্য। ইংল্যান্ডের নৈপুণ্যে ছিল এই বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের চোখধাঁধানো প্রদর্শনীগুলোর একটি। হ্যারি কেন দুটি গোল করেছেন। জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ডও নেটে বল পাঠিয়েছেন। ইংল্যান্ড ১৯৬৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ৪-২ ব্যবধানে জিতল। থমাস টুখেলের দলের আক্রমণভাগ এখন পর্যন্ত আসরের সবচেয়ে ধারালো বলে স্বীকৃত।
ঘানার গল্পটা অন্যরকম। পানামার বিপক্ষে প্রথমার্ধে একটিও শট নিতে পারেনি। যোগ করা সময়ে ক্যালেব ইয়িরেনকির গোলে জয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচটা কঠিন ছিল পানামার জন্যও—ঘানার সেই গোল ছিল মাত্র তাদের দ্বিতীয় শট অন টার্গেট। কোচ কার্লোস কুইরোজকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা সাজাতে হবে। দুই দলের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে এই প্রথম দেখা। অতীতে তারা একবার মুখোমুখি হয়েছিল—২০১১ সালের মার্চে ওয়েম্বলিতে প্রীতি ম্যাচে। অ্যান্ডি ক্যারল ও আসামোয়া জিয়ানের গোলে ম্যাচ শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। কুইরোজের সঙ্গে ইংল্যান্ডের পরিচয় অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে তার ইরান দল ইংল্যান্ডের কাছে ৬-২ গোলে হেরেছিল—এটি কুইরোজের বিশ্বকাপ কোচিং ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় হার।
মিডফিল্ডের লড়াইটাই হবে এই ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু। থমাস পার্তে ও ডেক্লান রাইসের দ্বন্দ্ব হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডুয়েল। ৫৭ ম্যাচ ও ১৫ আন্তর্জাতিক গোলের মালিক পার্তে ঘানার মাঝমাঠের মস্তিষ্ক। প্রথম ম্যাচে ভিসা জটিলতায় খেলতে পারেননি, এবার মাঠে থাকার কথা। রাইস যদি এই লড়াই জিতে বেলিংহামকে সামনে ছেড়ে দিতে পারেন, তাহলে ইংল্যান্ড যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করবে। ঘানার সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র অ্যান্তোয়িন সেমেনিও। বোর্নমাউথ ও ম্যানচেস্টার সিটিতে দুর্দান্ত মৌসুম কাটালেও পানামার বিপক্ষে তিনি খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না। ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ফুলব্যাকদের পেছনে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে, তা কাজে লাগাতে পারলে সেমেনিও বিপদ ডাকতে পারেন। ইংল্যান্ডের দলে কিছু আঘাতের উদ্বেগ আছে। বুকায়ো সাকা, মার্কাস রাশফোর্ড ও ডেক্লান রাইসকে ভুগতে হয়েছে। রাইস ও রাশফোর্ড পূর্ণ অনুশীলনে ফিরলেও সাকাকে আলাদাভাবে অনুশীলন করতে দেখা গেছে। টুখেল ইঙ্গিত দিয়েছেন, নোনি মাদুয়েকে ডান উইংয়ে শুরু করতে পারেন। এটি হতে পারে জুড বেলিংহামের ৫০তম ম্যাচ। মাত্র ২২ বছর ৩৫৯ দিন বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করলে তিনি হবেন ইংল্যান্ডের র্বকনিষ্ঠ ৫০ ম্যাচ খেলা ফুটবলার।