

হবে, হচ্ছে করা হলেও আলোর মুখ দেখছে না সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা এই ফুটবল আসর নভেম্বরে আলোর মুখ দেখতে পারে। এই আয়োজনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম। ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর—এই ১৩ দিনে ঢাকার আকাশে-বাতাসে বাজবে ফুটবলের সুর, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই লড়াইয়ের সাক্ষী হবে রাজধানী। সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভাতেই সিলমোহর পড়েছে এ সিদ্ধান্তের।
সময়ের চাকা যেন ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ২০১৮ সালের দিকে, সেবারও আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। এবার সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি। প্রস্তুতির প্রথম আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ২৫ জুলাই, যেদিন ঢাকায় উন্মোচিত হবে আসরের লোগো। এরপর ১ আগস্ট ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপিং ও ড্র, যেখানে নির্ধারিত হবে কার সঙ্গে কার লড়াই হবে। নিজেদের মাটিতে এবার খেলার সুযোগ পাচ্ছেন হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, ফাহমিদুল ইসলামের মতো তারকারা, যা সমর্থকদের জন্য বাড়তি উত্তেজনার উপলক্ষ।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ২০০৩ সালে প্রথমবার সাফ আয়োজন করেই শিরোপা ঘরে তুলেছিল বাংলাদেশ। লাল-সবুজের সেই গৌরবগাথা আজও অমলিন। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার আয়োজক হয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল লাল-সবুজরা। সবশেষ আসরেও জামাল ভূঁইয়া-শেখ মোরসালিনদের হাত ধরে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার নিজেদের মাঠে, নিজেদের সমর্থন, নতুন এক দল—ইতিহাস লেখার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে।
ফিফা বিশ্বকাপের রেশ কাটতে না কাটতেই এমন ঘোষণা যেন এক নতুন উৎসবের সূচনা, এমনটাই মনে করছেন সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের তারিখ ও ভেন্যু ঘোষণা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এ প্রতিযোগিতা আমাদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে, যা বছরের পর বছর এই অঞ্চলের ফুটবলপ্রেমীদের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। ফিফা বিশ্বকাপ মাত্র শেষ হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই ঘোষণা অত্যন্ত রোমাঞ্চকর একটি সময়ে এসেছে। বাংলাদেশে ফুটবলের প্রতি দ্রুত বাড়তে থাকা আগ্রহের কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশকে আয়োজক হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ একটি জাঁকজমকপূর্ণ ও সফল আয়োজন উপহার দেবে, যা খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলবে।’ ইতিহাসের মঞ্চে এখনো একচ্ছত্র রাজত্ব ভারতের, ৯ শিরোপা নিয়ে যারা এই আসরের নিঃসন্দেহে সবচেয়ে সফল দল। ভারতের সেই দুর্গে একমাত্র হানা দিতে পেরেছে মালদ্বীপ, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে দুবার মুকুট পরেছিল দ্বীপরাষ্ট্রটি। আর বাংলাদেশ ছাড়া একবার করে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে আফগানিস্তান (২০১৩) ও শ্রীলঙ্কা (১৯৯৫)। এই সমীকরণের মাঝেই এবার নতুন করে স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ, নিজেদের মাঠে, নিজেদের গ্যালারির গর্জনে আরেকটি ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন।