

ঢাকার সড়কে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে মাত্র ৫-৭ শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়ি প্রায় ৭০ শতাংশ সড়ক দখল করে। আর শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ গণপরিবহনে নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। গতকাল রোববার বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এমন তথ্য জানানো হয়।
বুয়েটের এক গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার যানজটের কারণে বছরে প্রায় তিন থেকে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ নষ্ট হয়। মাত্রাতিরিক্ত যান্ত্রিক যানের কারণে বাড়ছে বায়ুদূষণ। ফলে ঢাকায় প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। সমাজ, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহন ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবসে ‘সমাজ, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সুরক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান’ শীর্ষক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ডিটিসিএর ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তা সেলিম খান বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ির হর্নের কারণে ঢাকা শহরের মানুষের শ্রবণশক্তি ৫-১০ শতাংশ কমে যাচ্ছে। যদি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার কে এম তৌফিকুল হাসান বলেন, শহরের অভ্যন্তরে যেসব রাস্তায় ফুটপাত রয়েছে, সেখানে চলাচলের ক্ষেত্রেও প্রতিনিয়ত আমাদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত এবং কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। ডিটিসিএ এরই মধ্যে এ বিষয়ে কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছে।
মানববন্ধনে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট ৬৯টি সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের সমন্বয়ে প্রতি বছর গাড়িমুক্ত দিবস পালন করে আসছে। উন্মুক্ত স্থানের স্বল্পতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার মানিক মিয়া এভিনিউয়ের রাস্তাটি সবে মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে আমরা আর সেটি দেখতে পাই না। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গাড়িমুক্ত সড়ক আয়োজনটি ফের চালু করার আহ্বান জানাই।
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা হাফিজুর রহমান ময়না বলেন, ঢাকার প্রায় প্রতিটি রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে হাঁটার পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।