

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে প্যানেল চূড়ান্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশিরভাগ সংগঠন এখন পর্যন্ত আংশিক প্যানেল গঠন করেছে। পূর্ণাঙ্গ প্যানেল চূড়ান্ত করতে পেরেছে শুধু ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত দল। প্যানেল চূড়ান্ত করা ঘিরে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল।
এদিকে আজ সোমবার মনোনয়ন সংগ্রহের শেষ দিন। গত দুদিনে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদে নির্বাচনের জন্য পৃথকভাবে মোট ৩১ জন শিক্ষার্থী মনোনয়ন নিয়েছেন। হল সংসদে নেননি কেউ। এর মধ্যে গত দুদিনে কোনো ছাত্র সংগঠন প্যানেল চূড়ান্ত করে মনোনয়ন সংগ্রহ করেনি।
শাখা সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদ যৌথভাবে শীর্ষ তিন পদ চূড়ান্ত করেছে। জাতীয় ছাত্রশক্তির প্যানেল আংশিকভাবে গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, শাখা ছাত্রশিবির ও আপ বাংলাদেশ এখনো তাদের প্যানেল চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে সংগঠনগুলো বলছে, আলোচনার ভিত্তিতে আজ তাদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের ঘোষণা আসতে পারে।
ছাত্রদল-অধিকারের যৌথ প্যানেল: শাখা ছাত্রদল ও শাখা ছাত্র অধিকার যৌথভাবে ইনক্লুসিভ প্যানেল গঠনের শেষ পর্যায়ে আছে। এই প্যানেলে ভিপি হিসেবে থাকার সম্ভাবনা আছে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব, জিএস ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাদিজাতুল কোবরা, এজিএস পদে আহ্বায়ক সদস্য তানজিল আহমেদ। তবে চূড়ান্তভাবে এটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ ছাড়া প্যানেলে থাকছেন ক্যাম্পাসের রাজনীতি না করা পরিচিত ও পপুলার শিক্ষার্থীরা।
শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, আমাদের প্যানেল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমরা মিটিংয়ে আছি। আরও দুটি মিটিং আছে। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্র অধিকারের জোট চূড়ান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হোসেন রাব্বি। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে ছাত্রদলের কথা চূড়ান্ত। আমাদের সভাপতি রাকিব ভাই ভিপি পদে নির্বাচন করবেন। তবে এটা ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল হবে—এমন নয়। আন্দোলন সংগ্রামে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মিলিয়ে আমাদের প্যানেল হবে।
শিবির-আপ বাংলাদেশের যৌথ প্যানেল: নির্বাচনে যৌথভাবে এগোচ্ছে ছাত্র শিবির ও আপ বাংলাদেশ। তাদের প্যানেল এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল আলিম আরিফ ও এজিএসে আপ বাংলাদেশের মাসুদের নাম ঘোষণায় আসতে পারে। জবি শাখার সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্যানেল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমাদের প্যানেল রাতের মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি অনুমোদন দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিন ইমেজ, পরিচিত মুখ, আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা শিক্ষার্থীরাই থাকবেন।
চূড়ান্ত হয়নি ছাত্রশক্তির প্যানেল: আংশিক প্যানেল চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। নিজ দল ও অরাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন করা শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে প্যানেল করছে তারা। সংগঠন টিতে ভিপি হিসেবে কিশোর সাম্য, জিএস পদে ফয়সাল মুরাদ, এজিএস পদে শাহিন মিয়ার নাম ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, আমাদের আংশিক প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমাদের জিএস এবং এজিএস চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভিপি প্রার্থী হিসেবে আজকেই রাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়ে ছাত্রফ্রন্টের যৌথ প্যানেল: ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শাখা ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীব। শুধু ছাত্রফ্রন্ট নয়, ক্যাম্পাসে ৯টি ক্রিয়াশীল সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে প্যানেল করা হয়েছে। সহসভাপতি প্রার্থী হিসেবে গৌরব ভৌমিক, জিএস প্রার্থী ইভান তাহসীব এবং এজিএস প্রার্থী শামসুল আলম মারুফকে ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের কোনো প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আমরা নিজেরা প্যানেল দিচ্ছি না। আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেই। ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ নির্বাচন করতে পারবে। এমন ৬-৭ জন আগ্রহ দেখিয়েছেন।
এদিকে তপশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বিতরণ চলবে ১৬ ও ১৭ নভেম্বর। ১৭ ও ১৮ নভেম্বর দাখিল, ১৯ ও ২০ নভেম্বর বাছাই, ২৩ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ২৭ ও ৩০ নভেম্বর ডোপ টেস্ট এবং ৩ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে ৪, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২২ ডিসেম্বর, একই দিন গণনা ও ফল ঘোষণা হবে।