

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কী
প্রেগন্যান্সি ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বিশেষ এক ধরনের ডায়াবেটিস, যেটি শুধু গর্ভকালীন সময়েই হয়ে থাকে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া। যা গর্ভকালীন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়; যখন শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। এটি মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না এবং স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ধরা পড়ে। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপ জরুরি।
কারণ গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টা থেকে নিঃসৃত হরমোন ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। শরীরের ড্রনাল গ্রন্থি অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করতে ব্যর্থ হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।
লক্ষণ
অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রসাব হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, ওজন বৃদ্ধি (সাধারণের চেয়ে বেশি)।
ঝুঁকির কারণ
স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন, পারিবারিক ইতিহাস ও বয়স।
কেন হয়
গর্ভাবস্থায় ইনসুলিনের উৎপাদন হ্রাস অথবা ইনসুলিনের প্রতিরোধের কারণে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হতে পারে।
উচ্চঝুঁকিতে কারা
কারও প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে, পূর্বের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে, নিকটাত্মীয় বা মা-বাবার ডায়াবেটিস থাকলে, পলিসিস্টিক ওভার সিনড্রোম থাকলে, অতিরিক্ত ওজন হলে, অন্তঃসত্ত্বার বয়স ৩০ বছর বা তার বেশি হলে; এরই মধ্যে ৪ কেজি বা ৯ পাউন্ডের বেশি শিশু জন্ম দিলে।
নির্ণয় পদ্ধতি
একটি মাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নির্ণয় করা যায়।
সেটি হলো ওজিজিটি (ওরাল) বা ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট। এই টেস্টে রোগী একবার খালি পেটে রক্ত দেবে
এবং পরে ৭৫ মিলিগ্রাম গ্লুকোজ খেয়ে দুই ঘণ্টা পর আবার রক্ত দেবে।
চিকিৎসা
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসকে (ডিজিএম) সাধারণত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা বলা হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, ক্যালরি নির্ধারণ ও ইনসুলিন গ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ডা. সানিয়া সুলতানা
গাইনি বিশেষজ্ঞ
চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার
মিরপুর-পল্লবী শাখা