

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি একটি ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব তার নিজস্ব মাটিতে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।
তবে সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে দেশটির সঙ্গে বেসামরিক পরমাণু চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হবে না বলে আবারও জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবকে অবশ্যই তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দিতে হবে। খবর আলজাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের চুক্তিটি ঘোষণার চেয়ে এগিয়েছে কিনা?
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, কেউ আমার আগে এগিয়ে যাইনি। আমি শুধু বলেছি, এটি করতে হলে তাদের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সদস্য হতে হবে, যা খুবই সফল। এখন তাদের (সৌদি আরবের) এটি (চুক্তি) করার সময় এসেছে।’
এর আগে বুধবার ওয়াশিংটন ও রিয়াদ সৌদি আরবে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি প্রতিষ্ঠার জন্য পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে এর একদিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন শর্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবকে আগে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।
শুক্রবারও তিনি সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে আলোচনা করেননি। তবে বিষয়টি ‘সবসময়ই বোঝাপড়ার মধ্যে ছিল এবং ক্রিস ও সৌদি আরব তা জানত।’
পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যের এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি আরব। তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। ইসরায়েলের বর্তমান সরকার এই অবস্থানের কঠোর বিরোধী।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের জন্য লাভজনক হিসেবে তুলে ধরেছিল। তখন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
বুধবার এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, ‘এই চুক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা, নিজ দেশে সমৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং বিদেশে মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।’
ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে ‘কয়েক দশকের বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে, এটি এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।
চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। তবে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র থেকে পারমাণবিক জ্বালানি আমদানির পরিবর্তে নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে। তবে পরে ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো উপাদান সমৃদ্ধকরণ হবে না।’
নতুন এই পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়া হবে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই চুক্তি ‘জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার প্রচেষ্টা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তির ফলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার ঘটবে না। কারণ মার্কিন ঠিকাদাররাই প্রকল্পটি পরিচালনা করবে এবং এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন নজরদারি করতে পারবে।
মার্কিন পারমাণবিক চুল্লি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউস এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান ঠিকাদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।