ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২১ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য পরামর্শ

নিপাহ ভাইরাসের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্কতা

ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স
ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

শনাক্তকরণের পরীক্ষা: এলাইজা টেস্ট, পিসিআর, সেল কালচার প্রভৃতি পরীক্ষার মাধ্যমে এ ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব।

চিকিৎসা: এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। রোগের লক্ষণ দেখামাত্রই রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, প্রয়োজনে আইসিইউও লাগতে পারে। সাধারণত লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। আক্রান্ত রোগীর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে জীবন রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগীর মৃত্যু হয়। আর যারা বেঁচে যান, তারা অনেকেই স্মৃতি হারিয়ে ফেলেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন না, এমনকি চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন।

সেবাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্কতা: এ রোগে আক্রান্তদের পরিচর্যা করতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্সদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। যেমন—মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস, সারা শরীর আবৃত করে গাউন বা পিপিই ব্যবহার করতে হবে। রোগী দেখার পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা খুবই জরুরি। রোগীর ব্যবহার করা কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী ভালোভাবে পরিষ্কার না করে আবার ব্যবহার করা যাবে না। রোগীর কফ ও থুতু যেখানে-সেখানে না ফেলে একটি পাত্রে রেখে তা মাটির নিচে পুঁতে রাখতে হবে।

প্রতিরোধে করণীয়: শীতের সময় খেজুরের রস খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

১. খেজুরের কাঁচা রস কোনোভাবেই পান করা উচিত নয়। পান করতে হলে টগবগ করে ফুটিয়ে নিতে হবে। তবে খেজুরের রসের তৈরি গুড়, রসের পায়েস, পিঠা খাওয়া নিরাপদ।

২. গাছ থেকে রস সংগ্রহের ঝোলানো হাঁড়ি বা রস সংগ্রহের স্থানে নেট, পলিথিন বা বাঁশের বানা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে বাদুড় রসে মুখ দিতে না পারে।

৩. যারা রস সংগ্রহ করেন, তারা যেন সতর্ক থাকেন। কারণ, হাঁড়ির আশপাশে বাদুড়ের লালা লেগে থাকতে পারে। মাস্ক পরতে হবে এবং রস সংগ্রহের পর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

৪. খেজুরের রস বিক্রেতারা যেন কাঁচা রস বিক্রি না করেন।

৫. ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে। পাখি বা বাদুড়ে খাওয়া আংশিক ফল যেমন—আম, লিচু, জাম, জামরুল, গোলাপজাম, কাঁঠাল, ডেউয়া, পেঁপে, পেয়ারা, বরই ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো।

৬. হাতের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে, তাই নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।

৭. আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে এবং রোগীর পরিচর্যা করার সময় যথোপযুক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পরে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।

৮. আক্রান্ত মাকে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে।

ইমেরিটাস অধ্যাপক

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংসদে তোফায়েল আহমেদসহ সাবেক ১৬ এমপি-মন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব

সিগারেট খেতে বাঁধা দেওয়ায় খুন

ইউরোপজুড়ে জিপিএস সংকেত বিঘ্নিত করছে রুশ স্যাটেলাইট

আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ

শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ককরোচ পার্টির আন্দোলন চলবে

জাতীয় সংসদে পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী ঘোষণা

ইরানের জব্দকৃত সম্পদ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১০ বছরের শিশুকে ‘ধর্ষণ’, অভিযুক্তকে গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ

৪ বার সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া প্রতিষ্ঠান জানাল ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন কে

আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু / মারা যাওয়া প্রত্যেক শিশুর পরিবার পাবে ৮০ লাখ টাকা : শিশির মনির

১০

শাকিব বুবলীর দ্বিতীয় সন্তানের আগমন ঘটল কোথায়?

১১

লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফকে ধাওয়া দিল এলাকাবাসী

১২

এমপিওর দাবিতে অবস্থানরত শিক্ষকদের পানি-স্যালাইন দিলো ছাত্র জমিয়ত

১৩

দুই মাদক কারবারীকে ইট দিয়ে বেধড়ক মারপিট, ভিডিও ভাইরাল

১৪

২৪ বিলিয়ন ডলারের জন্যই থমকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

১৫

ইসরায়েলে বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণ, বহু হতাহত 

১৬

বিশ্বকাপে রেকর্ড ১২৪৮ ফুটবলার, দেখে নিন ৪৮ দেশের চূড়ান্ত স্কোয়াড

১৭

কে জিতলো? অপু বুবলীকে নিয়ে মেতেছেন ভক্তরা

১৮

ব্রিটিশ ও চীনা ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইএটিএল ইনোভেশন হাবের আলোচনা সভা

১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে আহত ২০

২০
X