

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় চুরির অভিযোগে ফেইসবুক লাইভে এক যুবককে মারধরের ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মারধরকারী ইউপি সদস্য মো. জয়নাল আহমদকে থানায় তলব করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে ফেঞ্চুগঞ্জের ছত্রিশ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মো. জয়নাল আহমদ উপজেলার ১ নম্বর সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর মাহফুজুল করিম বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার ভিডিওটি ‘জয়নাল মেম্বার’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ করা হয়। ভিডিওতে ইউপি সদস্যকে বলতে শোনা গেছে, ‘এলাকায় বারবার চুরি হচ্ছে এবং চোরদের পুলিশে সোপর্দ করার পরও তারা জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছে। একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার ফাঁসি হলে হবে, পদবি গেলে যাবে কিন্তু এ গ্রাম ঠিক করে ফেলব। চোরদের চুরি ছাড়তে হবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শনিবার রাতে চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে এলাকাবাসী ইউপি সদস্যের কাছে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও শাস্তি দেওয়ার দৃশ্য প্রচার করা হয়। লাইভে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গলায় পা ধরিয়ে একটি প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে আঘাত করতেও দেখা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় নানা প্রতিক্রিয়া। অনেকেই ঘটনাটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল বলে মন্তব্য করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ছত্রিশ গ্রামে দশ জনের নেতৃত্বে একটি চোর চক্রের টিম রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় তারা মোটর, এসি, এসির তার, পানির ট্যাংকি, গরু-ছাগল, টাকা-পয়সা, এমনকি মসজিদের মাইকসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে। এছাড়া প্রতিদিন তারা মানুষের ঘরবাড়িতে চুরি করতে মানুষদেও অথিষ্ট করছে। তারা গ্রামে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া গতকাল শনিবার রাতে পানির মোটর, পানির ট্যাংকি উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে আটক চোর হাদিজুর রহমানকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জয়নাল আহমদ কালবেলাকে বলেন, বার বার থানায় অভিযোগ দিয়েও এলাকাবাসী কোনো সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় মোটর, এসি, এসির তার, পানির ট্যাংকি, গরু-ছাগল, টাকা-পয়সা, মানুষের বাড়ি চুরি, টিউব ওয়েল চুরি করে ও এমনকি মসজিদের মাইকসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকাবাসীর অনুরোধে গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুরব্বিদের নিয়ে অভিযুক্তদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। আমরা চাই তারা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। ভালো পথে ফিরলে তাদের কর্মসংস্থান ও জীবিকার ব্যবস্থায়ও সহযোগিতা করা হবে।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর মাহফুজুল করিম কালবেলাকে বলেন, ফেসবুক লাইভে একজন অভিযুক্ত চোরকে শাস্তি দেওয়ার ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে ইউপি সদস্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে নিজেই শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে থানায় ডাকা হয়েছে। কী পরিস্থিতিতে তিনি এ ধরনের কাজ করেছেন, সে বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ বা মামলা করলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।